বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভূমধ্যস্থ সাগর।

 যখন মিশরের সীমা-রেখা শেষ দৃষ্টিপথ হইতে চলিয়া গেল, তখন সন্ধ্যাও আসিয়াছিল। আকাশে আলোক থাকিতে থাকিতেই দূরে সে রেখা মিলাইয়া গেল। এইবার কেবল অনন্ত আকাশ ও চারিদিকের অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখিবার নাই।

 আমার সর্ব্বাপেক্ষা দেখিতে ভাল লাগে—সান্ধ্য-গগন ও ঊষা। আর যখন রাত্রি ধরণীর দৃশ্যগুলিকে ঢাকিয়া দিয়া উপরের অনন্তপথ খুলিয়া দেখায় তখন একা একান্তে বসিয়া সেই দিকে চাহিয়া যা’তা’ ভাবা আমার চিরদিনেরই অভ্যাস আছে, জাহাজেও তাই করিতাম।

 আজ আমার বার বার কেবলই এই ভূমধ্যস্থসাগর ও তার আসপাশের সব প্রসিদ্ধ স্থানেরই কথা মনে আসিতে লাগিল। এই স্থানটি পুরাকালিক কত ঘটনাবলীতে প্রসিদ্ধ। পুরাতন জগতের ইহাই কেন্দ্রস্থান বলিয়া বিবেচিত হইত। যত বাণিজ্য ব্যবসা তখন এই খানেই চলিত। এখন সে কেন্দ্র পরিবর্ত্তিত হইয়া ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যবর্ত্তী “আটল্যাণ্টিক” মহাসাগরে আসিয়াছে। যত পুরাকালের সভ্যতাও এই ভূমধ্যস্থ সাগরেরই চারিদিকে বিকশিত ছিল। এই সমুদ্রটিই এককালে গ্রীস রোম এবং অন্যান্য সমৃদ্ধিশালী দেশের লীলাভূমি ছিল। আধুনিক পুরাতত্ত্বের মতে মিশর হইতেই গ্রীসে প্রথম সভ্যতা আসে। পরে ফিনিসিয় দেশ হইতে “কেডমস্” নামক এক রাজা আসিয়াই গ্রীসে অনেক নূতন কথা শিখান। মিশর হইতে আনিয়া আঙ্গুরের চাষ ও লেখার প্রবর্ত্তন প্রথমে তিনিই এখানে করেন। এইরূপে বিভিন্ন দেশ হইতে আসিয়া একে একে কতকগুলি উপনিবেশ এ স্থানে স্থাপিত হইল। প্রথমে তাহারা পরস্পরের সহিত কতই কলহ করিত। যুদ্ধ বিগ্রহ বই আর কিছুই ছিল না। ক্রমে যত জ্ঞান ও সভ্যতা বৃদ্ধি পাইতে