বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভূমধ্যস্থ সাগর।
৫৯

লাগিল, সকলেই বুঝিলেন যে, একতা কত সুবিধার জিনিষ। এই জ্ঞান লাভ করিয়াই অনেকগুলি গ্রীক উপনিবেশ প্রতিনিধি পাঠাইয়া বৎসরে একবার একত্র মিলিত হইয়া পরস্পরের ভাল মন্দ সম্বন্ধে পরামর্শ করিতেন। একেই বলে “Amphictyonic Council” বা জ্ঞানী লোকের সভা, এই সামান্য সভা হইতেই পরে এথেন্সের স্বাধীন তন্ত্রের উৎপত্তি। সকল দেশেই এইরূপ হইয়া থাকে। একত্র বাস করিতে গেলেই পরস্পরের স্বার্থত্যাগ করিতে হয়। একত্র পরামর্শ করিয়াই রাজ্যের হিতাহিত স্থির করা হয়। আমাদের দেশের পঞ্চায়ত সভা ও বিলাতের পার্লামেণ্ট সভা অবধি এইরূপেই উৎপন্ন। একতাতে সকল বিষয়েই সুবিধা হয়, একতাই সকল জাতীয় শক্তির মূল। এই সময়ে দেশের এমন ক্ষমতা ও শ্রীবৃদ্ধি দেখিয়া—সে দেশের আদিমবাসী ও নিকটবর্ত্তী অন্যান্য স্থানের লোকেরাও গ্রীকদের সহিত সমান স্বত্ব দাওয়া করাতে, প্রথমে গ্রীস তাহা দেয় নাই। অনেক দাবীদাওয়া ও গোলমালের পর এই “হেলটরা” সে স্বত্ব পায়। এরূপ ইতিহাস সকল দেশেই সমান। স্বত্ব কখনই অমনি মিলে না।

 অনেকগুলি উৎসব ও অন্যান্য প্রথা লইয়াই গ্রীসে এই একতাবন্ধন এত দৃঢ় হইয়া আসিয়াছিল। তার মধ্যে একটি তাদের Olympic Game, অর্থাৎ অলিম্পিয়া পাহাড়ে বাৎসরিক উৎসবের আড়াআড়ি খেলা। তাহাতে ব্যায়াম ও কলাবিদ্যার পরীক্ষা হইত। বৎসরের মধ্যে একবার গ্রীসের সকল রাজ্য হইতে লোক আসিয়া একত্র মিলিত হইয়া নানারূপ ব্যায়াম ও ক্রীড়া করিত। কে কত শীঘ্র দৌড়াতে পারে, কত দূর লাফাইতে পারে, কত বেগে ঘোড়া চড়িয়া যাইতে পারে, বা তীর ছুড়িতে পারে ইত্যাদি লইয়া পরস্পরে আড়াআড়ি হইত। এইরূপ সকল বিষয়েই খেলা ছিল। বর্ষা লইয়া, তলওয়ার লইয়া, গদা লইয়া এই খেলা হইত,—এই খেলা দর্শকবৃন্দকে