বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৭৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভূমধ্যস্থ সাগর।
৬১

ভাষায় কবিতা রচনা করিয়া সৈন্যদের উৎসাহিত করিতে লাগিলেন। তাতে তাহারা মাতিয়া উঠিয়া এমন সাহস ও নিপুণতার সহিত যুদ্ধ করিল যে, তাদেরই জয় হইল।

 ফরাসী দেশেও এইরূপ এক আশ্চর্য্য ঘটনা ঘটিয়াছিল। বহুদিন পূর্ব্বে যখন ইংলণ্ড প্রায় ফরাসী দেশের সকল অংশ জয় করিয়াছিলেন, তখন অনন্যোপায় দেখিয়া ফরাসীদেশের সকল লোক হতাশ্বাস হইয়া পড়িলেন। এই সময়ে এক অষ্টাদশবর্ষীয়া কৃষক কন্যা তাহার বাসভূম লোরেনে এই বার্ত্তা শুনিয়া সর্ব্বদা প্রান্তরে একা মেষ চরাইতে চরাইতে মনে করিতেন যে, কে যেন আকাশপথ হইতে তাঁহাকে বলিতেছে, “তুমিই তোমার জন্মভূমি রক্ষা করিতে পারিবে।” বালিকা বর্ম্ম পরিয়া নিজ দেশের রাজার সহিত সাক্ষাৎ করিলেন ও তাঁহার সৈন্যের নেতা হইয়া যুদ্ধ চালাইতে লাগিলেন। সৈন্যগণ তাঁহার কথায় এত উৎসাহিত হইল যে, তাহারা এখন যেখানে যায় সেখানে জিতে। ক্রমে সকল স্থানে কৃতকার্য্য হইয়া শেষ যুদ্ধে সেই অমানুষিক বালিকা শত্রুদের হাতে ধরা পড়েন। তাহারা তখন তাঁহাকে ডাইনী বলিয়া পুড়াইয়া মারে। তবে তিনি যে কার্য্যের জন্য অবতীর্ণা হইয়াছিলেন, সে কার্য্য সমাধা করিয়া গেলেন,—ফরাসী দেশ স্বাধীন হইল।

 গ্রীসদেশে পূর্ব্বোক্ত এই দুটি উপায়েই দিন দিন জাতীয়তা বন্ধন বাড়িতে লাগিল। তখন এক হইয়া গ্রীসের প্রতাপ দেখে কে? এই সময়ে পার্শিয়ার সম্রাট “ডোরায়স্” মহা প্রতাপান্বিত রাজা ছিলেন। তিনি অসংখ্য সৈন্য লইয়া সমুদ্র পার হইয়া গ্রীস আক্রমণ করিলেন। কিন্তু এমন একতাবন্ধনে বলীয়ান জাতিকে কেমন করিয়া জয় করিবেন, তিনি পরাজিত ও বিধ্বস্ত হইয়া বিতাড়িত হইলেন। তার কিছু বৎসর পরে তাঁরই পুত্র জেরেকসিস্ আরও বিপুল আয়োজন করিয়া পুনরায় গ্রীসের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করিলেন। সেবারও যা ঘটিবার নয় তাহাই ঘটিল। স্পার্টার