যে, যে শুনিত সেই পাগল হইয়া শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে ছুটিত।
ইহার কিছু দিন পূর্ব্বেই এই দেশে বিজ্ঞবর Socratesএর জন্ম হয়। তিনিও নিজ দেশের দুরবস্থা দেখিয়া নানা উপায়ে তাহাদের শিখাতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। তখনকার লোকে—বড়ই বিবাদপ্রিয় হইয়াছিল আর সামাজিক ও ধর্ম্ম সম্বন্ধীয় অনেক কুপ্রথায় দেশের লোকের শক্তি একেবারে জর্জ্জরিত হইয়াছিল। তিনি তাদের সৎশিক্ষা দিবার জন্য—অল্পবয়স্ক বালকেরাই নুতন উপদেশ শিক্ষা করিবার বিশেষ উপযুক্ত বিবেচনা করিয়া তাদেরই এই সকল উপদেশ দিতেন। তাতে তাঁহার শত্রুরা ছেলেদের কুশিক্ষা দিয়া বিগড়াইয়া দিতেছেন এই অভিযোগে তাঁহাকে দণ্ডিত করিল। হেমলক লতার রস পান করিলে শরীর ক্রমে ক্রমে অবশ হইয়া মৃত্যু ঘটে। রাজদণ্ড অনুসারে এই রস পান করিয়াই সক্রেটিসের মৃত্যু হয়। তিনি কখনও পলাইবেন না জানিয়া খোলা কারাগারেই তাঁহাকে রাখা হইয়াছিল, মনে করিলেই তিনি পলাইতে পারিতেন—অনেকে সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়াও সক্রেটিসের অপ্রীতিকর হইয়াছিলেন। শেষ সময়ে—তিনি প্রভূত ছাত্রবৃন্দ দ্বারা পরিবৃত হইয়া সেই বিষ পান করিতে করিতে আত্মার অবিনশ্বরতার কথা বলিতে ও তাহাদিগকে সদুপদেশ দিতে লাগিলেন। ছেলে কোলে করিয়া তাঁর স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে দেখা করিতে আসিয়াছিলেন, তিনিও কাঁদিতে কাঁদিতে চলিয়া গেলেন। ক্রমে বিজ্ঞবরের দেহ বিষে জর্জ্জরিত হইয়া শিথিল হইয়া আসিতে লাগিল। বহুকাল নির্ব্বাক ও নিশ্চেষ্ট থাকিয়া সেই মহাপুরুষ ধরাধাম পরিত্যাগ করিলেন।
আমি যখন মেডিকেল কলেজে প্রথম ভর্ত্তি হই—ক্লাসে কোনেয়ম বা হেম্লকের কথা শুনিয়া আমার চোখে জল আর থাকে নাই। এখনও সে মহাপুরুষের কথা অহরহঃ আমার মনে হয়। এমন জ্ঞানী তত্ত্বদর্শী ও পবিত্র জীবন লোক ইহসংসারে আর হয় নাই।