গ্রীসের তারপরের ইতিহাস অতি শোচনীয়। ক্রমে রোম আসিয়া গ্রীস জয় করিল; ক্রমে মুসলমান ধর্ম্ম প্রচারের সঙ্গে মুরযুদ্ধে সমগ্র গ্রীস তুর্কির পদানত হইয়া পড়িল। তারপর আবার সে দিন মাত্র স্বাধীনতা অপর জাতির সাহায্যে পুনঃপ্রাপ্ত হইয়া এখনও গ্রীস কোনরূপে দাঁড়াইয়া আছে মাত্র।
এই গেল সংক্ষেপে গ্রীসদেশের ইতিবৃত্ত। ইহা বলিবার মানে আর কিছুই নয়, কেবল বোঝানো যে,—সে রাজ্য যাহার ইতিহাসের কথা এখন সংক্ষেপে বলিব তাহার সঙ্গে এ সকল দেশের ইতিহাসে কত মিলে। শুধু রোমের সঙ্গে কেন—ইংলণ্ডের ইতিহাসের ও আমাদের ভারতবর্ষের ইতিহাসের সঙ্গেও তার অনেক মিল আছে। মোটামুটী ধরিতে গেলে সকল দেশের ইতিহাসই সমান। তার মধ্যে এই কয়টি কথা বিশেষ করিয়া বলিবার আছে।
আদিমবাসীর সহিত নবাগত সভ্যজাতির সর্ব্বত্রেই চিরবিবাদ। ভারতবর্ষে বিষম জাতিভেদ সূত্রে তারা আলাহিদা একশ্রেণী হইয়াই চিরকাল রহিয়া গেল। কিন্তু অন্যান্য দেশে তাহারা বহু রক্তপাতের পর মিলিয়া এক হইয়াছে। এইরূপে অনেক শ্রেণীর একত্র মিলনের পর হইতেই দেশের শ্রীবৃদ্ধি হইতে থাকে। ক্রমে উচ্চপদে চড়িলে সচেষ্টভাব অনেক কমিয়া যায় ও দম্ভ আপনিই আসিয়া পড়ে। এই দম্ভই পতনের মূল। ঘরে ঘরে বিবাদ সেই দম্ভ হইতেই উৎপন্ন হয়। তাতেই দেশটি শেষে ছারখারে গিয়া নূতন জাতির পদানত হইয়া পড়ে। আমাদের দেশে সকলগুলি হইয়াছে কেবল গোড়ার মিলটি হয় নাই, তাই আমাদের পতন আরও এত অতল ও এত দুর্নিবার্য্য।
আর একটি উদাহরণের মত এইবার রোমের কথাও বলিতেছি। সে রাজ্যের উত্থান আবার গ্রীসের কতকগুলি লোক যাওয়াতেই ঘটিল। ক্রমে ক্রমে লোক আসিয়া সাতটি পাহাড় লইয়া রোমরাজ্য প্রতিষ্ঠিত