করিল। তাদের পার্শ্বস্থিত ইট্রাস্কান্ প্রভৃতি লোকেরাও সমান স্বত্ব দাবী করায় সাধারণ লোক বা “প্লীবিয়ন” ও বড়লোক বা “পেট্রিসিয়নদের” মধ্যে কত রক্তপাত হয়। জল যেমন সমতল খোঁজে, সকল শ্রেণীও একত্র থাকিলে তেমনই সাম্যভাব স্থাপিত হয়,—সে প্রকৃতির চেষ্টা অনিবার্য্য। ক্রমে নীচ শ্রেণীর লোকদের স্বত্ব-স্বামিত্ব দেখিবার জন্য রোমে Tribune নামক কর্ম্মচারী নিরূপিত হইল। ক্রমে সবাই সমান হইয়া রাজ্যের অসীম ক্ষমতা বাড়িল। এককালে সমস্ত ইউরোপ তাহাদের পদতলে ছিল। পরে দম্ভ, পাপপ্রবেশ, জাতিভেদ ও পতন। মহা মহা দেশের ভাগ্যচক্রের এই পরিবর্ত্তনগুলি সকল লোকেরই জানা উচিত।
আর একটি বিশেষ জানিবার বিষয়—ক্ষমতার যুগে যুগে স্থান পরিবর্ত্তন। আর্য্যজাতি মধ্য এসিয়াতেই ছিলেন—সে স্থান হইতে দলে দলে তাঁহারা চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িলেন। নিজেদের কথা বলিয়া কাজ নাই কিন্তু এসিয়া এককালে অতি সমৃদ্ধিশালী রাজ্য ছিল। এসিয়া মাইনরে “সিরিয়া” প্রভৃতি রাজ্যও কত প্রতাপশালী ছিল। মিশর কত পুরাতন। ক্রমে মিশর হইতে গ্রীসে, গ্রীস হইতে রোমে, ও রোম হইতে সমগ্র ইউরোপের স্পেন ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে সভ্যতা ছড়াইয়া পড়িয়াছিল। পুর্ব্বদেশে অবস্থিত এসিয়া ও আফরিকা হইতে উৎপন্ন সে স্রোত ক্রমে ক্রমে যেন ঠিক পা ফেলিয়াই—ইউরোপের পশ্চিম দিকে গিয়াছে—এখন সেখানেই তার কেন্দ্রস্থান; আবার সেখান হইতেও ক্রমশঃ পশ্চিমে সরিয়া গিয়া আমেরিকাতে তাহার পিঠস্থান করিয়াছে। আবার প্রশান্ত সমুদ্র পার হইয়া এসিয়ারই এক প্রান্তে সুদূর জাপানে উদয়। তার পরও কি মনে হয় না যে সেই সূর্য্য আবর্ত্তনের পূর্ব্ব পথে চলিয়াই আবার পূর্ব্বস্থানে ফিরিয়া আসিবেন? সেই দিন নিশ্চয়ই আমাদের দেশে আনা যায়,—সেইরূপ যদি সকল জাতি সকল ধর্ম্মের লোক আবার একত্র মিলে।