বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৶৹

উঁচু থেকে ঝাঁপ দিতে লাগিল। যা সিকি দু-আনি পায়, মুখের ভিতর জিবের তলায় রাখে।” ইত্যাদি।

 অন্য কেহ হইলে এই ঘটনাটিকে সামান্য তুচ্ছ অকিঞ্চিৎকর জ্ঞানে উপেক্ষা করিতেন, কিন্তু ইহার মধ্যে যে একটি স্বাভাবিক সরল সৌন্দর্য্য আছে তাহা ইন্দুবাবুর সূক্ষ্মদৃষ্টি এড়াইয়া যাইতে পারে নাই।

 প্রাকৃতিক দৃশ্যবর্ণনায়ও ইন্দুবাবুর কবিত্ব তাঁহার লেখনীমুখ হইতে ফুটিয়া বাহির হইয়াছে। এখানেও তাঁহার স্বভাবসিদ্ধ সরলতা পরিস্ফুট।

 ইন্দুবাবুর রচনার আর একটি বিশেষত্ব এই যে, তাঁহার রচনায় কোথাও সঙ্কীর্ণতা নাই। তিনি সমস্ত জগতটাকে একটা দেশকালাতীত সার্ব্বজনীন উদারতার চক্ষে দেখেন। দেশাচার বা লোকাচারের ক্ষুদ্র গণ্ডীর বাহিরে দাঁড়াইয়া তিনি এই বিশ্বজগতটাকে দেখিয়াছেন বলিয়াই পৃথিবীর যাহা কিছু ভাল যাহা কিছু সুন্দর তাঁহার চক্ষে পড়িয়াছে এবং তাঁহার সূক্ষ্ম সহানুভূতি আকর্ষণ করিয়াছে। সাহিত্যে এরূপ নিরপেক্ষ ভাবগ্রাহিতা, এরূপ বিশ্বজনীন উদারতা দুর্লভ।

 নারীজাতির প্রতি ইন্দুবাবুর অন্তরের একটি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা দেখা যায়। নারীজাতির অবস্থা, নারীজাতির শিক্ষা, নারীজাতির উন্নতি সম্বন্ধে তাঁহার চিন্তা গ্রন্থের নানাস্থলে নানাভাবে পরিব্যক্ত হইয়াছে,—নারীজাতির প্রসঙ্গমাত্রেই ইন্দুবাবুর অন্তর যেন ভাবে উদ্বেলিত হইয়া উঠে।

 ইন্দুবাবু একাধারে বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক এবং কবি; সুতরাং, প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক স্থানসমূহের বর্ণনা এবং বিভিন্ন দেশের আচার ব্যবহার, রীতিনীতির আলোচনা তিনি যেরূপভাবে করিয়াছেন তাহা একপ্রকার তাঁহার দ্বারাই সম্ভব। ইন্দুবাবুর সহিত অনেকের মতানৈক্য থাকিতে পারে, আমারও অনেক বিষয়ে তাঁহার সহিত মতের ঐক্য নাই, কিন্তু তথাপি ইন্দুবাবুর চিন্তাশীলতা, গবেষণা ও তাঁহার সূক্ষ্ম পর্য্যবেক্ষণশক্তির শতমুখে প্রশংসা না করিয়া থাকিতে পারা যায় না।