বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভূমধ্যস্থ সাগর।

 ভূমধ্যস্থ সাগরের আশ পাশের স্থানগুলির অনেক ইতিহাস বলিয়াছি। কি পুরাকালের হিসাবে, কি আধুনিক হিসাবে, এ স্থানটি এত প্রসিদ্ধ যে, উহাদের ইতিহাস সম্বন্ধে কিছু জানা বড়ই আবশ্যকীয়। পুরাকালে সভ্য জগতের ইহাই কেন্দ্রস্থান ছিল। ইহারই নিকটবর্ত্তী স্থানে সভ্যতার বিকাশ ও প্রচার হয়। বাণিজ্য হিসাবেও এই স্থানটি তখন সর্ব্বপ্রধান ছিল। মিশর, ফিনিসিয়, গ্রীক ও রোমান জাতিরা এই খানেই বাণিজ্য করিতেন। এই স্থানটিই আসিয়া ও ইউরোপের সন্ধি স্থান। ইহারই পূর্ব্বদিকে অবস্থিত মরুময় আরব দেশের পুণ্য ভূমিতেই পৃথিবীর দুইটি ধর্ম্মের স্থাপনা হয়। আর কোনও কোনও প্রত্নতত্ত্ববিৎ পণ্ডিতের বিশ্বাস যে, এই পথ দিয়াই মধ্য আসিয়া হইতে আর্য্যজাতি ইউরোপ ও নিকটবর্ত্তী স্থানসমূহে ছড়াইয়া পড়েন, ও সভ্যতার আদি বিকাশ আসিয়াভূমেই হইয়া দেশে দেশে প্রচারিত হয়। কিন্তু এখন ইউরোপ প্রভৃতি স্থানই ক্ষমতা ও সভ্যতার পিঠস্থান হইয়াছে, এবং আমেরিকার উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে আটলাণ্টিক মহাসাগরই বাণিজ্যের প্রধান স্থান হইয়াছে। অবস্থার পরিবর্ত্তনের সঙ্গে সঙ্গে সময়ে সকল জিনিষই স্থান পরিবর্ত্তন করে। একস্থানে অনেক দিন থাকিলে কোনও জিনিষেই জীবনী-শক্তি স্ফূর্ত্তি পায় না। তাই দোপাটি গাছের ফল সজোরে ফাটিয়া চারিদিকে বীচি ছড়াইয়া দেয়; তুলার হালকা ফলগুলি হাওয়াতে উড়িয়া গিয়া সুদূরে নিক্ষিপ্ত হয়; ও আম কাঁঠাল প্রভৃতি সুমিষ্ট ফলগুলি প্রাণিগণের দ্বারা সাদরে ভুক্ত ও দূরে নীত হওয়াতেই এই সকল গাছের বংশ বৃদ্ধি হয় ও শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে। বহু শতাব্দী