বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভূমধ্যস্থ সাগর
৬৭

হইতে এই এক স্থানে এক ভাবে থাকিয়া সমুদ্রযাত্রায় নিষিদ্ধ হইয়া আমাদেরও অধঃপতন এই কারণেই ঘটিয়াছে।

 সকলেই জানেন, ভূমধ্যস্থ সাগরটি প্রায় চারিদিকে জমি দিয়ে ঘেরা। ইহার উত্তরে ইউরোপ, দক্ষিণে আমেরিকা ও পূর্ব্বে আসিয়াভূমি বিদ্যমান। কেবল পশ্চিমে আটলাণ্টিক মহাসাগরের সহিত যোগ হইবার একটি অপ্রশস্ত প্রণালী আছে। জিব্রাল্টার নামক এই প্রণালীটি চারি পাঁচ মাইল মাত্র প্রশস্ত। এই প্রবেশস্থান আগুলিয়া একটি উঁচু পাহাড়ের উপর জিব্রাল্টারে ইংরাজের সুরক্ষিত দুর্গ বিরাজমান আছে। সেই কারণে এই স্থানে পূর্ব্বাঞ্চলে ব্যবসা করিবার পথ বলিয়া, ইংরাজের ক্ষমতাই প্রধান। তার প্রবেশের পথে জিব্রাল্টার, আধপথে মাল্টা দ্বীপ, তারপর মিশর ও এক কোণে সাইপ্রাস্ দ্বীপ ইংরাজেরই অধিকৃত।

 এই স্থানে অতি সুমিষ্ট ফল পাওয়া যায়; এমন সুমিষ্ট, নরম ও রসাল কমলা লেবু কোথাও দেখি নাই। তার বীচি নাই; তার ছিব্‌ড়ে নাই। তার খোসা এত পাতলা যে ছাড়ান যায় না। আর মুখে দিলে সুগন্ধযুক্ত মধুর রস রসনার স্রোত বহিয়া যায়। আঙ্গুর ও আপেল প্রভৃতি ফল হইতে নানারূপ সুগন্ধ মদিরাও এই স্থানের একটি চিরপ্রসিদ্ধ উৎপন্ন দ্রব্য।

 কিন্তু এ সমুদ্রটি বড়ই অনিশ্চিত ও অস্থির। অতি অল্পক্ষণেই সমুদ্রের অবস্থা পরিবর্ত্তন ঘটে। তার কারণ আর কিছুই নহে—কেবল ঢেউগুলি চারিদিকের জমিতে প্রতিহত হইয়া বার বার ফিরিয়া আসে। সায়েদ বন্দর হইতে একদিন যাইয়া সন্ধ্যার পরই সমুদ্র অস্থির হইয়া উঠিল। অতি অল্পক্ষণের মধ্যে তরঙ্গগুলি প্রবলতর হইয়া জাহাজকে বিষম আলোড়িত করিতে লাগিল। সমুদ্রে উঁচু উঁচু ফেনাময় ঢেউ ও অতি প্রবল বাতাস ও আকাশে কাল কাল মেঘ একত্রে দেখিলে, অপার অনন্ত সমুদ্রের মাঝে জাহাজটিকে কতই অসহায় মনে হয়। একটি