সামান্য বুদ্বুদের মত এক নিমিষে অনন্ত জলে তাহা বিলীন হইতে পারে। ক্রমে জাহাজ এত বেশী দুলিতে লাগিল যে, আর ডেকে থাকা অসম্ভব।
প্রথমেই স্ত্রীলোকেরা বমি করিতে লাগিলেন। আমি তাঁহাদের মতনই স্বভাববিশিষ্ট। একেবারে শুইয়া অতি যন্ত্রণায় অস্থির হইয়া নিদ্রাবিরহিত হইয়া দুই দিন কাটাইয়াছিলাম। সে অবস্থা বড়ই কষ্টকর। পা টলে, মাথা ঘুরে, গা বমি বমি করে, আর উঠে অতি কম; কেবলই বমির বেগ মাত্র। কিন্তু আশ্চর্য্য, সমুদ্র প্রশান্ত হইলেই, অতি অল্পক্ষণেই সকল বে-ভাব চলিয়া যায়। ঘুরপাক দিলে যে জন্য গা ঘুরে, এও সেই কারণেই উৎপন্ন হয়। মানববুদ্ধির কাছে ত কোনও বাধাবিপত্তিই বহুকাল দাঁড়াইতে পারে না, তাই এখন বিজ্ঞানের সাহায্যে এমন একরূপ ঝোলান বিছানা আবিষ্কৃত হইয়াছে, যাহাতে চড়িয়া থাকিলে আর সমুদ্রপীড়া হয় না।
আমি যে সব চীন জাহাজে গিয়াছি, সে সব জাহাজের বন্দোবস্ত হইতে বিলাতী জাহাজের বস্তোবস্ত আরও ভাল। শুনেছি নাকি, আমেরিকার জর্ম্মণ-হামবার্গ লাইনের জাহাজগুলি সর্ব্বাপেক্ষা বড় সুবিধাজনক। জাহাজে থাকিবার কালে বাড়ীতে থাকার সকল সুখ সম্ভোগ করিতে পারা যায়। ঘণ্টা বাজাইলেই কলের মত ভৃত্য আসিয়া আজ্ঞা পালন করে। আহার্য্য সামগ্রী এত বেশী যে, খাওয়া যায় না। নানারূপ উপাদেয় খাদ্যদ্রব্য প্রতি বন্দর হইতেই লওয়া হয়। কিন্তু সেগুলি ভালরূপে রাঁধা হয় না। এত লোকের একত্র রন্ধন বড় সোজা কাজ নয়। আর তা ছাড়া মাংস, ডিম, দুগ্ধ ইত্যাদি অনেক জিনিষই কোটায় করিয়া ও বরফের ঘরে অনেক দিন ধরিয়া রক্ষিত থাকে বলিয়া, তার স্বাদ কিছু কমিয়া যায়। যাহাই হউক, এইরূপে খাদ্যদ্রব্য বহুদিন ধরিয়া রাখিবার উপায় আবিষ্কৃত হওয়াতে পৃথিবীর কতই মঙ্গল হইয়াছে। যে দেশে যে,