জিনিষ প্রচুর জন্মায় সেই দেশ হইতে সেই সকল দ্রব্য এইরূপ প্রকারে রক্ষিত হইয়া দেশ দেশান্তরে নীত হইতেছে। এ এক বড়ই লাভজনক ব্যবসা। আমেরিকা হইতে এইরূপে অনেক মাংস রপ্তানি হয়—অষ্ট্রেলিয়া হইতেও এইরূপ মাংস ও দুধ আসে। যুদ্ধক্ষেত্রে ও জাহাজেই এই সকল বেশী ব্যবহৃত হয়। শস্যের ত কথাই নাই; তাহা আরও সহজে বহুদিন রাখা যায়। সে শস্যের ভিতরকার খাদ্যগুলি শস্য-ভ্রূণের জন্যই রক্ষিত। আর এমন সুব্যবস্থার প্রকৃতিদেবী সে ভাণ্ডার সুন্দররূপে আবৃত করিয়া রক্ষা করিয়াছেন যে, বহু বৎসর ধরিয়াও তাহা নষ্ট হয় না। শত সহস্র বৎসর পরেও শস্য হইতে গাছ জন্মাইতে দেখা যায়।
দুই দিন বিছানায় পড়িয়া থাকিবার পরদিন ভোরে সমুদ্র স্থির হইল। তখন সুদূরে পূর্ব্বাকাশ রঞ্জিত করিয়া সবে মাত্র আলো ফুটিতেছে। তাড়াতাড়ি বিছানা হইতে উঠিয়া ডেকের উপর গিয়া দেখি, নিকটেই ইতালীর সবুজ গাছপালা বিশিষ্ট জমি দেখা যাইতেছে। অল্পক্ষণ পরেই সিসিলী দ্বীপ দৃষ্টিপথে আসিল। সে দ্বীপটি পাথরবিশিষ্ট পাহাড়ে ভরা ও অনেক গাছপালাও আছে। “মেসিনা” প্রণালীর ভিতর দিয়া আমাদের জাহাজ চলিতে লাগিল। ইতালী ও সিসিলীর মধ্যে এই প্রণালীটি আছে। দুই ধারের জমিই অতি নিকট দেখা যায়। দু-ধারেই বসতিতে পরিপূর্ণ পাহাড়ের ভিন্ন ভিন্ন স্তরে সুন্দর সুন্দর রং করা পাথরের বাড়ী। চারিদিকে বাগান ও ঘন সবুজ গাছ। এমন কি দূর হইতে ফুল গাছও দেখা যাইতে লাগিল। সমুদ্রের ধারে ধারে ধোঁয়া উড়াইয়া রেলগাড়ী চলিতেছে। পাহাড়ের সর্ব্বোচ্চ চূড়ায় আলোকস্তম্ভ ও ধ্বজা পতাকা। একটী গাছপালাহীন চূড়ায় কামানের ঘুলঘুলিবিশিষ্ট কেল্লা প্রখর দৃষ্টিতে সমুদ্রের দিকে চাহিয়া আছে। ধারে ধারে অনেকগুলি নৌকা ও জাহাজ। ইটালীর মাঝিরা সব বর্ম্মার ও চীনের মত দাঁড়াইয়া দুই হাতে দুইটি দাঁড় টানে। কত