বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭০
বিলাত ভ্রমণ

নৌকাও প্রণালীর মধ্য দিয়া এ পার ও পার ফেরি করিতেছে। জাহাজের বাঁশীস্বরে দুইধারের পাহাড় প্রতিধ্বনিত হয়, বেশ শুনা যায়। ওই প্রসিদ্ধ সহরটি “মেসিনা।” সমুদ্রের ধারে উন্নত স্থানে সবুজ জায়গায় ওই স্থানটি কত স্বাস্থ্যকর, কি সুন্দর স্থান! আমাদের দেশের ক্লান্ত রুগ্ন লোকেরা কিছুদিন এই মত স্থানে থাকিলে কত সুস্থ হন।

 ইহার অনতিদূরেই ঠিক জলের মধ্য হইতে মাঝ সমুদ্রে একটি আগ্নেয়গিরি উঠিয়াছে। তাহার দৃশ্য কি ভীষণ! আমরা যখন দেখিলাম তখনও তাহার উপর হইতে অগ্নি নিক্ষিপ্ত হইতেছে ও ধোঁয়া বাহির হইতেছে। সে গিরির উপর একটীও গাছপালা নাই, তার ধারে ধারে গলা পাথর পড়িবার দাগ। অগ্নি উৎপাতের সময় ওই গুলি দিয়া গলা ধাতু দ্রব্য গড়াইয়া পড়ে। এই পাহাড়টিকেই “ষ্ট্রম্বলী” বলে। এ স্থানের কি মহতী কি ভীষণা মূর্ত্তি!

 এই ইটালীদেশে মহা জ্যোতিষী গেলিলিওর জন্ম হয়। পৃথিবীই সূর্য্যের চারিদিকে ঘুরিতেছে, এই নুতন কথা বলাতে পুরাতন মতাবলম্বী তাঁহার দেশের লোক তাঁহার উপর বিরক্ত হইয়া তাঁহাকে কত নিগৃহীত করিয়াছেন। আর এই সিসিলির দ্বীপেই পদার্থবিদ্যাবিৎ আরকিমিডিসের জন্ম হয়। তিনি নানারূপ বৈজ্ঞানিক প্রণালীর দ্বারা আপনার মাতৃভূমি ছোট দ্বীপটিকে কত শত্রুর হস্ত হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। বড় বড় আয়নার সাহায্যে সূর্য্যের রশ্মি ঘনীভূত করিয়া শত্রুর জাহাজ দূর হইতে দগ্ধ করিতেন। জ্ঞানচর্চ্চায় এতই মনোনিবেশ যে যখন শত্রু ঘরে অজানিত হইয়া প্রবেশ করিয়া তাঁহাকে হনন করিতে উদ্যত তখনও তিনি জীবন ভিক্ষা না করিয়া বলিলেন “অপেক্ষা কর, এই তত্ত্বটির মীমাংসা করি, ক্ষণেক পরে মারিও। ”

 এই স্থান হইতে কিছুদিনের পথে “কর্সিকা দ্বীপ।” যাইতে যাইতে তাহাও দেখা যায়। এইস্থানেই মহাবীর নেপোলিয়নের জন্ম হয়।