সে দেশও তখন আমাদের দেশেরই মত ফরাসী দেশের পদানত ছিল। পরাধীন দেশের এই বালকই পরে ভুবন বিজয়ী হইয়াছিলেন। সমস্ত ইউরোপ ভূমি তাঁর প্রতাপে কাঁপিত।
এই স্থান হইতে আর কিছুদূর যাইলেই ফরাসী দেশের দক্ষিণ দেশস্থ “মার্সেল” বন্দরে পৌঁছান যায়। সেই খান হইতেই রেলযোগে একদিনেই লণ্ডনে পৌছান যায়।
এত দিন যে নানা দেশীয় যাত্রীপূর্ণ জাহাজে একত্র থাকিয়া কতলোক কত ঘটনা অনবরত দেখিয়াছি সে কথা বড়ই বিস্ময়কর ও মনোহর।
রাত্রি পোহাইবার পূর্ব্বেই জাহাজ মার্সেল বন্দরে পৌঁছিল। ভোরে উঠিয়া দেখি যে, বন্দরের জেটিতে জাহাজখানি বাঁধা রহিয়াছে। এবার আমরা এই প্রথম ইউরোপের ভূমিতে আসিলাম।
তখনও লোকজন জেটিতে বেশী আসে নাই। ক্রমে ফরাসী কুলী ও জেটির কর্ম্মচারীরা আসিতে লাগিল। চা, রুটী ফেরীওয়ালা চা ফেরী করিতে আসিল। খবরের কাগজ বেচিবার জন্য কত ‘হকার’ আসিল। অতি কম দামের ছোট ছোট খবরের কাগজ। সে গুলিতে অল্প কথায় সহজ ভাবে দৈনিক সব খবর আছে। দামও অতি সস্তা। এক “সেন্টিম্” দু “সেন্টিম্” দাম, আমাদের আধ পয়সার সমান। সভ্য দেশের কুলিদেরও ভিতর প্রায় সকল লোকই এক একখানি কিনিল। যত নিচু অবস্থার লোক হোক না কেন—বা যত গরিব, যত ব্যস্তই হোক না কেন—দিনের মধ্যে এক সময় না এক সময় তাদের খবরের কাগজ পড়া চাই। নিজ দেশে ও অপরাপর দেশে কে কি করিতেছে তার মোটামুটি খবর রাখা চাই।
সে সব দেশে সময় অতি মূল্যবান ও ঠিক সময়ে হাজির হওয়া ও কাজ আরম্ভ করা সর্ব্বত্রই নিয়ম। সকলেই আসিয়া এক এক পেয়ালা চা খাইয়া ও একবার খবরের কাগজে চোখ বুলাইয়া লইয়া নিজ নিজ