কার্য্য আরম্ভ করিল। তারপর ডেকে আসিয়া দেখিলাম জেটিতে চীনের গুদাম ও মাল উঠিবার নামিবার বারান্দার চারিদিক ঘেরা। বন্দরটি জাহাজে পরিপূর্ণ। দূরে দূরে আলোক স্তম্ভ ও সাঙ্কেতিক ধ্বজা পতাকা দেখা যাইতেছে। অনতিদূরে জলের উপর ছোট ছোট পাহাড়। তার উপরে সুন্দর সুন্দর বাঙ্গালা নির্ম্মিত। মার্সেলের এই বন্দরটি ভূমধ্যস্থ সাগরের একটি প্রধান বন্দর।
ইউরোপের দক্ষিণে কোনও স্থানে, বা আফরিকার উত্তরে বা এসিয়াতে কোন স্থানে যাইবার এইটিই পথ। কারণ ইউরোপের অনেক স্থান হইতে রেল আসিয়া এই স্থানে সংযুক্ত হইয়াছে বলিয়া যাতায়াত করিতে ও মালপত্র চালান দিবার এইটিই সুবিধার স্থান। আর ভারতবর্ষ হইতে বিলাত যাইবার তো এইটাই প্রশস্ত পথ। একদিনেই রেলযোগে ফরাসীদেশের ভিতর দিয়া, চেনেল পার হইয়া—লণ্ডনে পৌঁছান যায়।
আমার বরাবর সমুদ্র দিয়া যাইবারই টিকিট ছিল, কিন্তু সমুদ্র পীড়ায় অতিশয় ভুগিয়াছি বলিয়া আর সমুদ্র দিয়া যাইতে সাহস হইল না। বিশেষ ‘বে অব বিস্কে' অতি ভয়ানক স্থান। আটলাণ্টিক মহাসাগরের যত ঢেউ ও কোণে আসিয়া প্রতিহত হইয়া সমুদ্রকে বড়ই তরঙ্গময় করিয়া তুলে। এই সাত পাঁচ ভাবিয়া আরও শতাবধি টাকা খরচ করিয়া রেলপথেই যাইতে মনন করিলাম।
নামিবার সময় যে গোলমাল, যে ভিড়। সবই সুনিয়মে বাঁধা বলিয়া এত লোকের জনতায়ও তত কিছু বেবন্দোবস্ত হয় না। আগে হতেই সবাই খবর দিয়া নিজেদের নামিবার কথা জাহাজের অধ্যক্ষকে জানাইয়া রাখিবে; মোট ঘাট বন্দোবস্ত করিয়া বাঁধিয়া রাখিবে। কুক্ কোম্পানী ও হেন্রি এস্কিউ, ও গ্রীনলে Cook Co. Henry Skieu, Grindlay প্রভৃতি আফিসের লোকেরা আসিয়া সকলকে সাহায্য করিয়া নামাইয়া দেয়।