বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৪
বিলাত ভ্রমণ

সর্ব্বাপেক্ষা তামাক, সাবান, এসেন্স, মদ ও অন্যান্য খোস পোষাকের জিনিষের উপরই বেশী সন্দেহ। ব্যবহার করিবার মত অল্প ছাড়া বেশী থাকিলেই তার উপর শুল্ক দাবী করা হয়।

 এত কাজ করিতে করিতে অনেক বেলা হইয়া পড়িল। ইহার মধ্যে আরও কত লোক ফেরীওয়ালা, ভিখারী, গায়ক, নর্ত্তক ও দর্শক সেখানে আসিয়া উপস্থিত হইল। একত্রে কত দেশের কত রকমের লোকই এখানে দেখা যায়। এ সকল দেশের লোকের রং বড় বেশী ফরসা নহে। তা ছাড়া ইটালী, স্পেন, পর্ত্তুগ্যাল ইত্যাদি নানা দেশের লোক আসিয়া বসবাস ও ব্যবসা বাণিজ্য করে বলিয়া এখানেও অনেক শঙ্কর জাতি উৎপন্ন হইয়াছে। তাহাদের রং মাটো ও চুল ও চোখের তারা কাল। তবে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য্য এ দেশেরই লোকের মত ভাল।

 এ সকল সুনিয়মে প্রতিষ্ঠিত সুসভ্য দেশে ভিখারীরা রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করিয়া বেড়াইতে পারে না। তাহা করিলে পুলিশে তখনই ধরিয়া তাহাদের সাজা দেয় ও “ওয়ার্ক হাউসে” পাঠায়। সেখানে কাজ করিবে ও খাইতে পাইবে তার ব্যবস্থা আছে। বসিয়া খাওয়ান সে দেশের নিয়ম নয়। ভিক্ষা করিতে হইলেই কিছু বেচার ভাণ করিতে হইবে। হয় ত কোথাও ভিখারী দেশলাইয়ের বাক্স বা জামার বোতাম বা জুতার ফিতা হাতে করিয়া দাঁড়াইয়া আছে। তাহার নিকট হইতে সামান্য কিছু একটা জিনিস লইয়া তাহাকে যা কিছু দাও। অপর একটি ভিখারী হয়ত নাচিতেছে বা গাহিতেছে বা অন্য কিছু তামাসা দেখাইতেছে, তাহাকে তুমি কিছু দিলে। অনেক গরীব পরিবার সপরিবারে ছেলে পিলে লইয়া নাচাইয়া গাওয়াইয়া পয়সা উপায় করিতেছে। একরূপ বাজনা আছে, তাহা হাত দিয়া ঘুরাইলেই নানারূপ সঙ্গীত ও গত্ বাহির হয়। অনেকে সেরূপ বাজনা বাজাইয়া ভিক্ষা করে। শুনেছি নাকি সে একটি বড় লাভজনক ব্যবসা। যন্ত্রের দোকান হইতে দোকানদারেরা