বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভূমধ্যস্থ সাগর।
৭৫

তাদের যন্ত্র ভাড়া দেয় আর তাতে বেশ সুদ পায়; সর্ব্বত্রই কতরূপ ফন্দী করিয়া আইনের কঠোর নিগড় হইতে নিষ্কৃতি পাওয়া যাইতে পারে। যেমন চাপ তেমনি সে চাপ কাটাইবার উপায় উদ্ভাবিত হইতে পারে। সকল জীবেরই এই ক্ষমতাটুকু আছে বলিয়াই জীবের মানসিক ও দৈহিক অভিব্যক্তি হইতেছে। তাই পাখীর ডানা গজায়, মাছের সাঁতার দিবার উপযুক্ত পাখনা বাহির হয় ও ভূচরের পা জন্মায়। বাধা হইতেই সকল জীবের উন্নতি।

 ইতালীদেশের ছোট ছোট মেয়েরা আসিয়াও অতি সুন্দর নাচিয়া গাহিয়া অনেক পয়সা উপায় করে। আমাদের দেশের মেয়েদেরই মত তাদের মাটো রং, কাল চুল, কাল চোখের তারা, ও সরল নম্রভাব মাখান মুখশ্রী; ছোট ঘাগরা পরিয়া করতালি দিয়া যন্ত্রের সঙ্গীতের সঙ্গে ঘুরিয়া ঘুরিয়া তাহারা অতি সুন্দর নাচে। তাকে কি নাচ বলে জানি না।—কিন্তু কতকটা আমাদের দেশের মতই নাচ। সিঁথা কাটা খালি মাথা হইতে পিঠে লম্বা বিনানী দোদুল্যমান। আর গোল গোল হস্তগুলি কখনও বা কোমরে বিন্যস্ত, কখনও বা নানাভাবে চারিদিকে উৎক্ষিপ্ত হইয়া নানারূপ বিভ্রম দেখায়। ক্ষিপ্র পা গুলি যখন সঙ্গীতের মধুরতায় তালে তালে পড়িয়া নাচিতেছে—হস্তগুলিও তখন প্রতি হাতে এক একটী খঞ্জনী মুষ্টির ভিতর লইয়া সুন্দর তাল দিতে থাকে। আর ঘুরিয়া ঘুরিয়া নাচিবার সময় যখন ছোট ঘাগরাটি বৃত্তাকারে ছড়াইয়া পড়িয়া উর্দ্ধে উৎক্ষিপ্ত হয়, তখন দর্শকবৃন্দ অতিশয় প্রীত হইয়া—ছোট ছোট রৌপ্য মুদ্রা ছুড়িয়া তাহাদের প্রভূত পারিতোষিক দেন।

 যাঁহারা বৃদ্ধ, জরাজীর্ণ, কাণা খোঁড়া, তাহারা ইউনিয়ন বীণা বাজাইয়া—অনুচ্চ গম্ভীরস্বরে গান করেন। সে বীণাটী ত্রিকোণ আকৃতি, অনেকগুলি তার বিশিষ্ট ও সাম্‌নে রাখিয়া দুই হাতেই তাড়না করিতে হয়। এই বীণাই পুরাকালে গ্রীসের বীণা ছিল। তাহার স্বর নম্র মধুর ও গম্ভীর, বিজ্ঞ