ভাবুকের অন্তরের উচ্চভাবগুলির সঙ্গে ঠিক সুন্দর মিলান। আমাদের বীণাপাণির হাতের বীণা হইতে অল্পই প্রভেদ। তাহাদিগকে সেইরূপ অবস্থায় দেখিয়া আমার গ্রীক কবি হোমারের কথা মনে হইতে লাগিল। এক সময়ে তিনিও পেটের দায়ে বীণা বাজাইয়া দরজায় দরজায় ভিক্ষা করিয়া বেড়াইতেন। লণ্ডন হইতে অনতিদূরে কাঁচনির্ম্মিত “এলেকজান্দ্রা পেলেসের” “Alexandra palace” এক স্থানে পাথরে খোদা একটি ছবি আছে। সেটি বড়ই সুন্দর দেখিতে। মহাকবি এক রাজার সভায় বীণা বাজাইয়া নিজেরই রচিত “ইলিয়ড” কাব্যের গান সকলকে শুনাচ্ছেন। লণ্ডনের University Collegeএরও বড় হলে ঐরূপ একটি ক্যাম্বিসের বুনা ছবি আছে। তাতে মূর্ত্তিগুলি সব উলঙ্গ। গ্রীক বীরদের সুগঠিত দেহের রেখাগুলি দেখাইবার জন্মই সে উলঙ্গ মূর্ত্তিগুলির কল্পনা। তাহাতে সৌন্দর্য্য আরও বাড়িয়াছে। অন্ধ কবির বীণার গানে তাঁহারা সবাই মুগ্ধ হইয়া শিথিলদেহ হইয়া পড়িয়াছেন। আমাদের দেশে বাল্মীকির রামায়ণ গানের সঙ্গে ইহার বড় সৌসাদৃশ্য আছে।
যে গানগুলি সেখানে শুনিলাম, সে গানগুলি অতিশয় মধুর। ইতালীর বালিকাদের নাচা সুরে গান অপেক্ষা অনেক বিভিন্ন। তাতে সরল গভীর শোকের ভাব মাখান আছে। যেন অভাব ও নৈরাশ্যের কাতরোক্তির মত—তাই অত মিষ্ট।