খানসামা আসিয়া সব খেলিবার আসবাবগুলি যথাস্থানে সাজাইয়া রাখিয়া যায়। সে সব খেলাগুলিই এমন—যে জাহাজের অপ্রশস্ত স্থানের মধ্যেও অনেক চলা ফেরা ও লাফান ঝাঁপান হয়। স্বাস্থ্যের দিকে একান্ত লক্ষ্যশীল কর্ম্মঠ ইংরাজ জাতি বসিয়া খেলা বড় ভালবাসে না। আর সাধারণতঃ সব খেলাতেই মেয়ে পুরুষে যোগ দিয়া থাকেন।—তাহাতে কত আনন্দ। আর সে দৃশ্য দেখিতেই বা কি সুন্দর! উচ্চহাসি আনন্দের রোল ও আহ্লাদের ছুটাছুটিতে ডেক তখন ভরপুর হইয়া উঠে। „*কর্ডের রিং” ফেলা খেলাতে—রমণীগণ একটু নিকট হইতে রিং ছুঁড়িতে অধিকার পান—কেন না তাঁহাদের হাতে পুরুষদের মত তত তো বল নাই।
এই সব গোলমাল হইতে দূরে কোথাও বা ছোট টেবিলের চারি পাশে চারি জন বসিয়া—ব্রীজ খেলেন। সেগুলি সবই জুয়া খেলা। অনেকে বিপুল হারেন বা জেতেন। তাতেই সর্ব্বাপেক্ষা বেশী আনন্দ। দর্শকবৃন্দ তাহাদের চারিদিকে ঘিরিয়া দাঁড়ান। এই সকল খেলার জন্য চাঁদা উঠে ও কে হারিল কে জিতিল তাহার তালিকা জাহাজের নোটিসবোর্ডে লেখা থাকে।
জাহাজের দোলনাগুলিতে চড়িয়া দোলাও একরূপ খেলা। যেন সঙ্কীর্ণ জাহাজখানিতে আবদ্ধ থাকিয়াও শূন্যপথে—আকাশে উঠিতেছি মনে হয়। আর জাহাজখানি ঢেউতে বেশী দুলিলেও—দোলনায় বসিয়া থাকিলে ঢেউ বড় লাগে না।
আরও কত রকমের আনন্দ আছে। নাচ গান উৎসব প্রায় রাত্রির আহারের পরই হইয়া থাকে। যদিও সেই সময়েই সর্ব্বাপেক্ষা শীত ও ঠাণ্ডা তবুও রমণীগণ সেই সময়ে অর্দ্ধোন্মুক্ত বক্ষ ও মনোহর পরিচ্ছদে সুসজ্জিত হইয়া প্রকাশিত হইতেন।
পিয়ানোর পরদার উপর সরু সরু আঙ্গুল চালাইয়া একজন রমণী