কোমল মধুর কণ্ঠে গান গাহেন। আর মধ্যে মধ্যে আরো অনেকগুলি মেয়ে পুরুষে নানা রকম গলা মিশাইয়া তাঁহার গানের ‘কোরস’ গাহিতে থাকেন। একবার সুর উচ্চ হইতে উচ্চে উঠে আবার ধীরে নামিয়া মিলাইয়া যায়—আবার উঠে আমার নামে যেন ঢেউয়ের খেলা চলে। কিন্তু কে জানে কেন—আমাদের দেশের সঙ্গীতের মত সে সঙ্গীত আমাকে তত আনন্দ দিত না। সুরে যেন সেরূপ তানের আবেশ নাই—সে গিটকিরী, গমক, ঋঙ্কার, রেশ, কিছুই নাই। সুরগুলি তীরের মত যেন সোজা সোজা চলে, দূর হইতে সেকহ্যাণ্ড করে—কোলাকোলি করে না; প্রাণমনে মেশে না; যেন “সবাই স্বাধীন সবাই প্রধান, দাসত্ব করিতে করে হেয় জ্ঞান”। এই বই কোনওরূপ আত্মহারা ভাব নাই
তার পর নাচ আরম্ভ। পিয়ানোর বাজনাটি তখন এত মধুর হয়—যে তার সঙ্গে তালে তালে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আপনিই বিদ্রোহী হইয়া নাচিতে চায়। একটি পুরুষ একটি রমণীর কোমর ধরিয়া ঘুরিয়া ঘুরিয়া নাচাকেই ওয়ালস্ নাচ বলে। সে নাচে মাধ্যাকর্ষণের গ্রহ উপগ্রহের একত্রে ঘোরার সহিত অনেকটা সৌসাদৃশ্য আছে। পলকা প্রভৃতি নাচগুলিও প্রায় ঐ রকম, কেবল তালের তফাতে নামের তফাৎ হইয়াছে মাত্র। আমাদের মত দুর্ব্বল লোকের পক্ষে সব নাচগুলিই প্রায় ক্লান্তিকর।
আমাদের সহিত একজন আসামের চা-কর সাহেব দেশে যাইতেছিলেন। তাঁর সঙ্গে একটি পনর ষোল বৎসরের ছেলে ছিল। তাহার বর্ণ আমাদের মতই শ্যামবর্ণ। পরে জানিতে পারিলাম—সে ছেলেটি উঁহারি পুত্র, এবং একটি দেশীয় স্ত্রীলোক উহার মাতা। ছেলেটি জন্মাইবার পর হইতেই তিনি তাহাকে দারজিলিঙ্গে রাখিয়া দিয়াছিলেন, ও পরে সেই স্থানে রোমান ক্যাথলিক কলেজে ১৫ বৎসর অবধি শিখাইয়া এখন তাহাকে বিলাতে ইন্জিনিয়ারীং পড়াইবার জন্য লইয়া যাইতেছেন। সে ছেলেটিকে তিনি ঠিক নিজের ছেলের মতই যত্ন করিতেন—এক কেবিনেই