বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮০
বিলাত ভ্রমণ

রাখিয়াছিলেন। পরে কলিকাতায় ফিরিয়া আসার পর আমাদের একজন ডাক্তারের নিকট তাহাদের সব ইতিবৃত্ত শুনিয়া বড়ই চমৎকৃত হইলাম। তার মা একটি কুলী রমণী ছিলেন। সাহেবের সুনজরে পরিবার পর হইতেই তাহাকে সে অবস্থা হইতে সরাইয়া লইয়া তিনি একটি ছোট বাড়ী করিয়া দেন ও তাহার শিক্ষার জন্য এক মেম রাখেন। আমাদের ‘রিজিড্ হিন্দু’ স্বদেশী সিভিলিয়ান সাহেবের ব্যবহারের তুলনায় এ ব্যবহারটি কতই সুন্দর।

 একটী যুবা পুরুষ তিনি ভারতবর্ষ বেড়াইতে আসিয়া এখন দেশে ফিরিতেছেন। তাঁহার হাতে ভারতবর্ষ সম্বন্ধে একজন পর্য্যটকের লেখা একখানি বই দেখিলাম। সে পুস্তকখানিতে ভারতবর্ষের লোকদের—বিশেষ বাঙ্গালীকে লইয়া বিস্তর নাড়াচাড়া আছে। যেমন হইয়া থাকে ইহার মধ্যে অনেক সত্য কথাও আছে অনেক মিথ্যা কথাও আছে। আমাদের সামাজিক অনেক দোষের কথা উল্লেখ করিয়া লেখক বলেন যে ভারতবাসী এখনও স্বায়ত্ব শাসনের (Self Government) উপযুক্ত হয় নাই। একটি কারণ—দেশের স্ত্রী জাতির উপর তাহারা নিষ্ঠুর ও অন্যায় ব্যবহার করে। দ্বিতীয় কারণ—নিম্নশ্রেণীর জাতিদের উপর তাহাদের দারুণ ঘৃণা ও অত্যাচার। যে ভদ্রলোকটির হাতে এই পুস্তক খানি ছিল তিনি আমাকে তাহা পড়িতে দিয়া বলিলেন, আমি আপনাদের দেশের সম্বন্ধে কিছুই জানি না—আপনি এই বইখানি পড়িয়া— আপনার মন্তব্য আমাকে বলিবেন। তাঁহার দেখিলাম ভারতবর্ষ সম্বন্ধে জানিতে বড়ই আগ্রহ। লর্ড কার্জ্জন সম্বন্ধেও তাঁহার সহিত অনেক কথা হইল। তাঁহার ধারণা কার্জ্জন খুব কার্য্যদক্ষ হইলে ও একগুঁয়ে (Self-willed) লোক ছিলেন।

 অনেক লোকের সঙ্গেই প্রায় ভারতবর্ষের কথা হইত। অধিকাংশ লোকই দেখিতাম রাজনীতি ও ব্যবসা সম্বন্ধে কথা বলিতে ভালবাসেন।