বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিলাতি জাহাজে।
৮১

সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন বা ধর্ম্মশাস্ত্র সম্বন্ধে নহে। অধিকাংশ লোকেরই দেখিলাম মত যে—ভারতবাসী লেখা পড়া শিখিয়া বড়ই রাজদ্রোহী হইয়াছে। তারা নিজেদের দেশে ব্যবসাবাণিজ্য উন্নতি করিতে চেষ্টা না করিয়া রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা করে কেন! মনে হলো তাঁহারা সকলেই প্রায় উচ্চশিক্ষার বিরোধী। অনেকেরই ইচ্ছা আমরা চিরদিনই নিম্ন স্তরে থাকি।

 অপর দুই চার জন অন্য ভাবের লোকও ছিলেন। তাঁহারা ভারতবর্ষের কথা—বিশেষ পুরাতন হিন্দু জাতির কথা হিন্দুদর্শনের ও কাব্যের কথা শুনিতে আগ্রহ প্রকাশ করিতেন। বৌদ্ধধর্ম্মের কথা সংস্কৃত ভাষার কথা আমিও যতটা পারি তাঁহাদের জানাইতাম। মনে হইত তাঁহারা তন্ময় হইয়া শুনিতেছেন। ক্রমে আমার দল বাড়িতে লাগিল। এই প্রসঙ্গ লইয়া অনেকেই আমার সহিত আলাপ আরম্ভ করিলেন। হিন্দুধর্ম্মের তত্ত্ব আধুনিক রকমে বুঝাইতে পারিলে দেখিলাম উচ্চশ্রেণীর ইংরাজগণের নূতন কথার মত বড়ই হৃদয়গ্রাহী হয়। তাঁহারা মন্ত্র-মুগ্ধের মত শুনেন।

 আসিবার সময় আমাদের সহিত তিনটি ইংরাজ যুবক ছিলেন তাঁহারা এইবার সিভিল সার্ভিসে পাশ হইয়া কাজে যোগ দিতে আসিতে ছিলেন। তার মধ্যে একজনের সংস্কৃতের প্রতি বড়ই অনুরাগ। তিনি পরীক্ষাতেও সংস্কৃত লইয়াছিলেন; সংস্কৃত কিছু জানেন ও শ্লোক বলিলে বুঝিতে পারেন। তিনি আমাকে সংস্কৃত শ্লোক আবৃত্তি করিবার জন্য অনুরোধ করিতেন। বলিতেন আমাদের মুখ থেকে সংস্কৃত শ্লোক শুনিতে বড়ই ভাল লাগে। আর একজন প্রাচীন সিভিলিয়ান—তিনি আমার নিকট হইতে অনেকগুলি সংস্কৃত পুস্তকের নাম ও প্রাপ্তির ঠিকানা লিখিয়া লইলেন—তার ভিতর একখানি গীতা ও অপর খানি অভিজ্ঞান শকুন্তলা। আবার এমনও দুএকজন লোক দেখিলাম Easotoric Hindu