ধর্ম্মে অর্থাৎ হিন্দুধর্ম্মের গূঢ় তত্ত্বের প্রতি তাঁহাদের বড়ই অনুরাগ। তাঁহাদের কাহারও কাহারও সঙ্গে ইংরাজিতে তরজমা করা গীতা আছে—ও চৈতন্য দেবের বৈষ্ণব ধর্ম্মের (Ethics of Chaytanya) অনেক পুস্তকও দেখিলাম। আরও দেখিলাম বুদ্ধদেবের প্রশান্ত ধর্ম্মের সুবাতাস ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় অনেক লোকেরই মনে লাগিয়াছে। কেবল জাহাজে নহে, ইহা বিলাতেও দেখিয়াছি।
আমাদের দেশ সম্বন্ধে এই কথাগুলি এত বিস্তারিতরূপে বলিলাম তাহার কারণ, অন্য লোকে আমাদের বিষয় কিরূপ ভাবে দেখে এ খবর আমাদের খুবই জানা উচিত।
জাহাজে বসিয়া আমি আর একটি এই জ্ঞান লাভ করিয়াছি যে, আমাদের সঙ্গীতের বিশেষ বিশেষ কতকগুলি সুর ইউরোপের লোকদের খুব ভাল লাগে। আমাদের ভিতরেই একজন মধ্যে মধ্যে পিয়োনাতে দেশীয় গৎ বাজাইতেন। আর চারিদিক হইতে লোকেরা বিশেষতঃ রমণীগণ সেই মধুর সঙ্গীত শুনিতে ছুটিয়া আসিতেন। তাঁহারা বার বার সেই গত শুনাইতে অনুরোধ করিতেন। সংস্কৃত শ্লোক ও ভারতীয় দর্শনের কথার ন্যায় ভারতের সঙ্গীতও যে পাশ্চাত্য দেশের উচ্চতর শ্রেণীর লোকদের মুগ্ধ করিতে পারে—ইহা আমি আগে জানিতাম না।
বস্তুতঃ দেশভেদে, লোকভেদে, শিক্ষাভেদে বিভিন্ন গুণের অভিব্যক্তি। আমাদের এ দেশের এই গান এই শ্লোক এই দর্শনের বিশিষ্ট গুণেই আমরা সমৃদ্ধিশালী। অন্য প্রকারে অশেষ রকমে হীন হইলেও এই হিসাবে ভারত বিশিষ্ট। তবে যে এই সামান্যটুকুতে আমাদের যে সহজেই দম্ভ আনে এই আমাদের স্বভাবের বিষম দুর্ব্বলতা।
এখন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আদান প্রদানের সাধারণ নিয়মানুসারে অন্য যে সকল বিষয়ে আমরা হীন তাহা অন্য হইতে আমাদের লইতে হইবে আর সঙ্গীত ও দর্শনাদির ন্যায় যে সকল দ্রব্য সামগ্রী আমাদের দিবার