বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিলাতি জাহাজে।
৮৩

আছে তাহা অন্যকে দিব। পৃথিবীর অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের এই উদার সম্বন্ধ হওয়া উচিত।

 জাহাজে এই সব প্রচার করিবার যেমন সুন্দর অবসর এমন আর কোথাও নাই। এই অবসরের সদ্ব্যবহার করিতে পারিলে অনেক কাজ হয়। আমার মনে হয় আমরা চেষ্টা করিলে বিলাতে গিয়া এ সকল বিষয়ে সহজে প্রতিষ্ঠালাভ করিতে পারি। সেখানে এক লণ্ডনেরই অল্প আয়তনের মধ্যে যে ৪৮টি থিয়েটার আছে—তাহাতে বিদেশী আসিয়াই অধিক অর্থ উপায় করিয়া লইয়া যায়। একটা নূতন কিছুর নাম শুনিলেই তাহা দেখিতে আমোদপ্রিয় লোকেরা প্রথমে ছুটে। সেই উপলক্ষ করিয়াই ভারতের নাট্যাভিনয় ইতিবৃত্ত ও অবস্থা বিলাতে সহজেই প্রচার করা যায়। পলিটিক্যাল বা সারগর্ভ দার্শনিক বক্তৃতায় যত না হইতে পারে—অতি শীঘ্র এই প্রকারে তামাসায় তাহা সম্ভব হইতে পারে। এবং এইরূপে সে দেশের সাধারণ লোককে ভারতবর্ষ সম্বন্ধে জ্ঞান দিতে পারিলে অনেক উপকার আছে।

 আমাদের জাহাজের দ্বিতীয় অধ্যক্ষ ক্ষীণজীবী লোক ছিলেন। তাঁহার হাবভাব দেখিলেই মনে হইত তিনি যেন মনোকষ্টে আছেন। কে জানে কেন—এইরূপ লোকের সহিত আমার অতি সহজেই ভাব হইয়া যায়। আমি যেন তাঁহাদের সহজেই চিনিতে পারি আর তাঁহারাও কি আকর্ষণে আমার কাছে আপনিই আসেন। অল্প আলাপের পরই তিনি আমাকে অতি বিশ্বস্ত বন্ধুর মত কত কথাই যে বলিলেন। শুনিলাম তাঁহার একটি রমণীর সহিত বড়ই ভালবাসা হইয়াছে। তাঁহারও অবস্থা ভাল নয় বলিয়া আজ এগার বৎসর তাঁহাদের অপেক্ষা করিতে হইতেছে, ইচ্ছা আরও কিছু জমাইয়া বিবাহ করিবেন। কিন্তু রমণীটি গত মেলে চিঠি লিখিয়াছেন—

 “জন তুমি আর অপেক্ষা করিও না। যত শীঘ্র পার চলিয়া এসো।