আশা করি আমরা একত্র হইলে দুইজনের চেষ্টায় কোনোরূপে খাওয়া পরা চালাইতে পারিব। আমার সে সাহস আছে, তুমি দ্বিধা করিও না।”
আমাদের দেশে হইলে খাবার পরবার চিন্তায় আগেই বিচ্ছেদ হয়ে যেত।
এই জাহাজে জাপান দেশের একটি ভদ্রলোক ছিলেন। তিনি আমেরিকার যুক্তরাজ্য সাঁফ্রানসিস্কোতে ফুলের কারবার করেন। এখন জাপানীদের বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সেখানে ভয়ানক বাদানুবাদ চলিতেছে। তাঁহার সহিত এ সম্বন্ধে কথা হইল। খর্ব্বাকৃতি লোকটি তেজে পরিপূর্ণ। এত সাহস এত প্রতিভা যেন একাকী একশত জনের মত বীর্য্যবান; তিনি উদ্ধতভাবে ইয়োরোপ ও আমেরিকাবাসীদের সর্ব্ব সমক্ষে প্রকাশ্যে নিন্দাবাদ ও তৃণজ্ঞান করিতে লাগিলেন। স্বাধীনতার তেজ এমনিই অসীম!
তাঁর সহিত একটি জাপানী রমণী ছিলেন। নানা রঙে ঢলঢলে ফুলপাখী প্রজাপতি আঁকা কিমোনো পরা, গোল গাল গড়ণ—অতিশয় খর্ব্বাকৃতি, মাথার উপর নানা ভাবে বিন্যস্ত ফাঁপান খোপা, এই কারণ মুখখানি খুব বড় দেখায়; উচ্চ চিবুক, এবং ক্ষুদ্র চক্ষু তাতেই তাঁহাকে বড়ই সুন্দর দেখাইত। এমন আনন্দময় জীবন আর কোনও দেশের রমণীর নাই। বর্ত্তমান জাপানসম্রাট ৩০ বৎসর পূর্ব্বে রাজ্যের সংস্কারকালে নূতন আখ্যা নূতন প্রথা প্রবর্ত্তন-কল্পে রাজ্যের লোকের সহিত একত্রে যে আটটি প্রতিজ্ঞা করেন তাহার মধ্যে “স্ত্রীজাতির স্বাধীনতা ও সমানাধিকার” একটি প্রধান। তৎপূর্ব্বে প্রায় আমাদের দেশেরই মত তাঁহাদের অনেক হীনতা ও নির্য্যাতন সহ্য করিতে হইত। কিন্তু সেই দিন হইতেই জাপানে ভাগ্য-শ্রী ফিরিয়াছে। হে ভারতবাসি! তোমরা দেশের উন্নতির জন্য এত প্রকারে চেষ্টা করিয়া বিফল হইতেছ। মানব সমাজের উন্নতির এই প্রধান উপায় একবারও ভাবনা।