বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ) - ইন্দুমাধব মল্লিক (১৯১০).pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

মার্সেল।

 সব জিনিষ-পত্র গুছাইয়া কাষ্টমের পরীক্ষা সাঙ্গ করিয়া নামিতে প্রায় ৮টা বাজিল। কাষ্টমের পরীক্ষার ব্যবস্থা ফরাসীদেশে বড়ই অসুবিধাজনক; তার কারণ, আমরা তাদের ভাষা জানি না। ইউরোপ শুদ্ধ সকল লোকই ফরাসী ভাষা জানে বলিয়া, ফরাসীরা প্রায় বড় একটা অন্যদেশের ভাষা শিখে না। সর্ব্বত্রই ইংরাজী জানা প্রদর্শক পাওয়া যায়, তাহাদের সাহায্যে দেশ বেড়ান প্রভৃতি কার্য্যে কোনই অসুবিধা হয় না।

 আমরা নামিবামাত্র একটি খোঁড়া প্রদর্শক আসিয়া বলিলেন যে, তিনি ১০ শিলিংএর বিনিময়ে আমাদের সারাদিন সহর দেখাইয়া বেড়াইবেন। ৬ শিলিংএ মিটমাট করিয়া আমরা তাঁহাকে সঙ্গে লইলাম। তিনি আধাবয়সী লোক। এক উচ্চ স্থান হইতে পড়িয়া গিয়া দুই বৎসর পূর্ব্বে পা খোঁড়া হইয়া গিয়াছে। বাড়ী “সুইটজারল্যাণ্ডে।” আর কেহই সাহায্য করিবার নাই তাই নিজেই এখন এই কাজ করিয়া চালান। তিনি দেখিতে ভদ্রবংশীয় ও অনেকগুলি ভাষা জানেন। খোঁড়া বলিয়া যে চলিবার বা কোন কাজ করিবার অভাব হয় তা নয়। সুস্থ সবল দেহে অতি দূরূহ কাজও তিনি সেই খোঁড়া পায়ে করিতে পারেন।

 জোট হইতে বাহির হইবার পথে অনেকগুলি ভাড়া-গাড়ী দাঁড়াইয়া ছিল। তার অধিকাংশই দু’চাকার গাড়ী কতকটা টমটমের মত। গাড়োয়ানগুলি অতি সুগঠন ও বলিষ্ঠ, বেঁটে বেঁটে লাল্‌চে রংযুক্ত ও মাংসল। ঘোড়াগুলি সব “নরম্যাণ্ডি পনী।” মোটা সোটা ও উঁচু, ঘাড়ে ও পায়ে অনেক বড় বড় লোমবিশিষ্ট। তাদের সাজ এক রকম। বৃষদের পিঠে যেমন “ককুদ” বা কুজের মত উঁচু অংশ থাকে সাজে ঘোড়ার