পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/১৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ললিতপুর ایوان لا ] ললিতা ইংরাজের দেশীয় অনেক সেনানায়ককে সপক্ষে আনয়ন করিয়া রাজা মর্দনসিংহ আপনাকে বাণপুরের স্বাধীন রাজা বলিয়া ঘোষণা করিলেন। তিনি ইংরাজ-রাজের সহিত যুদ্ধ করিবার মানসে বাণপুরে কামান প্রস্তুতের জন্য একটী কারখানা স্থাপন করেন। রাজা ক্রমশঃ সাগর জেলার উত্তরাংশে আপনার অধিকার বিস্তার করিতেছেন দেখিয়া ইংরাজগবমেন্ট নিশ্চিন্তু থাকিতে পারিলেন না । ১৮৫৮ খৃষ্টাব্দের জামুয়ারী মাসে সেনাপতি সর হিউ রোজের অধীনস্থ সেনাদল তাহাকে আক্রমণ করিয়া পরাস্ত করিল। রাজা মর্দনসিংহ বনবধিয়ার যুদ্ধে পরাজিত হইয়া চন্দের অভিমুখে পলাইয়া আসিলেন। মার্চ মাসে ইংরাজ-সৈন্ত র্তাহাকে ললিতপুর হইতে বাণপুর ও তালবহৎ অভিমুখে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিতে বাধা করিল। রাজার পরাজয়ে অধীনস্থ সেনাদল ভীত হইয়া শান্তভাব ধারণ করিল। ঐ সময়ে গোয়ালিয়রের বিদ্রোহদমনার্থ ইংরাজ-সৈন্য চন্দেরী পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হওয়ায় বিদ্রোহিদল পুনরায় চন্দেরীরাজ্য হস্তগত করিয়া লইলেন। অতঃপর উক্ত বর্ষের অক্টোবর মাসে ইংরাজসৈন্ত পুনরায় ললিতপুর আক্রমণ করিল। বুন্দেশগণ ভীমবিক্রমে যুদ্ধ করিয়াও আত্মরক্ষা করিতে পারিল না। অবশেষে তাহারা ললিতপুর ইংরাজদিগকে ছাড়িয়া দিল। এই বিদ্রোহের সময় বুনেল ঠাকুর সর্দারগণ পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষভাব প্রকাশ করিয়া আপনাদের সর্বনাশ সাধন করিল। সিপাহী বিদ্রোহের পর এখানে শান্তি স্থাপিত হয় । অশিক্ষিত সর্দারগণ ইংরাজগবর্মেন্টর কঠোর শাসনে নিয়ন্ত্রিত হইয়া শান্তিময় জীবন বহন করিতে বাধ্য হইল । তদবধি আর এখানে কোনরূপ গোলযোগ ঘটে নাই। এই জেলার প্রায় প্রত্যেক গ্রাম ও নগরের নিকট ঠাকুর সর্দারদিগের নিৰ্ম্মিত বাসভবন ও দুর্গ দৃষ্ট হয়। সকল দুর্গের অধিকাংশই ধ্বংসাবস্থায় পতিত। ১৮৫৮ খৃষ্টাব্দে ললিতপুর-বিজয়ের পর সেনাপতি সর হিউ রোজ উহার অনেকগুলি ভাঙ্গিয়া দেন। এখন আর ঐ ঠাকুরের পথিকের নিকট অযথা কর আদায় করিতে পারেন না । বিন্ধ্যশৈলশ্রেণীর সমুরত শৃঙ্গে অনেকগুলি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দৃষ্ট হয়। ঐ গুলি প্রাচীন গোড় অধিবাসীদিগের কীৰ্ত্তি । বর্তমান জৈন অধিৰালিবৃন্দের উযোগে এখানে একটা সুচারু মন্দির নিৰ্ম্মিত হইয়াছে। ২ উক্ত জেলার অন্তর্গত একটা তহসাল। ললিতপুর, বংশী, তালবেহাৎ ও বালাবেহাং পরগণা ইহার অন্তভূক্ত। ভূরিমাণ ००४२ दर्शभाहेश । ৩ উক্ত জেলার প্রধান নগর ও বিচার সদর। রাসী হইতে সাগর যাইবার পথে সজাদ নদীর পশ্চিম কূলে অবস্থিত। এই নদী যমুনী নদীর একটা শাখা। রাণী ললিতা দেবীর নামানুসারে এই নগরের নামকরণ হইয়াছিল। প্রবাদ – একদা ' রাজা স্বমেরুসিংহ জলোদরীরোগে আক্রান্ত হইয়। সপত্নীক অযোধ্যায় তীর্থযাত্রা করেন। বর্তমান ললিতপুরের সন্নিধানে আসিয়া রাজা ও রাণী রাত্রিবাস করিলেন । রাত্রে রাণী স্বপ্ন দেখিলেন যে, “নিকটবৰ্ত্তী জলাশয় হইতে কাই ( conferve) উত্তোলন করিয়া ভক্ষণ করিলে রোগ আরোগ্য হইবে।” তদনুসারে প্রাতে রাজা রাণীর স্বপ্লাদেশ পালন করিলেন । রাজা রোগমুক্ত হইলেন। তিনি রাণীর স্বপ্নের কৃতজ্ঞতা রক্ষা করিয়া রাণীর নামানুসারে সেই স্থানে ললিতাপুর নগর স্থাপন করিলেন। এখনও রাজার প্রতিষ্ঠিত “সুমেরুসাগর” বিদ্যমান রহিয়াছে। এখানকার একটা মসজিদে হিন্দুকীৰ্ত্তির নিদর্শন দেখিয়া মনে হয় যে, মুসলমানগণ হিন্দু মন্দিরটাকে সামান্ত পরিবর্তন দ্বারা মসজিদে রূপান্তরিত করিয়াছেন। ঐ মন্দিরে নাগরী অক্ষরে একখানি শিলাফলক উৎকীর্ণ আছে। তাহাতে ১৪১৫ সম্বৎ দৃষ্ট হয়। উক্ত ফলকে পাঠানরাজ ফিরোজ শাহ “রাজাধিরাজপতে শ্ৰীমুরতান পেরোজশাহী” নামে বর্ণিত হইয়াছেন । অধিক সম্ভব, মালবের খিলজিবংশীয় রাজগণ হিন্দুকীৰ্ত্তি নাশ করিয়াছিলেন । ললিতপুরাণ ( ক্লী ) বৌদ্ধপুরাণভেদ । [ ললিতবিস্তর দেখ ] ললিত প্রহর (পুং ) অল্প প্রহার। ললিতললিত ( ক্লী) অতি সুন্দর। ললিতলোচন (ত্রি) সুন্দরচক্ষু: (স্ত্রী) বিষ্ঠাধর বাণদত্তের কঙ্কা। ললিতবনিতা (স্ত্রী) সুন্দরী স্ত্রী। ললিতবিস্তুর (পুং ) বুদ্ধদেবের (শাক্যসিংহ) জীবনচরিতবিষয়ক সুপ্রাচীন বৌদ্ধগ্রন্থভেদ । [ গাথা দেখ। ] ললিতকূহ (পুং) ১ বৌদ্ধমতে সমাধিভেদ। ২ দেবপুত্রভেদ। ৩ বোধিসত্ত্বভেদ । {} ললিতা (স্ত্রী) ললিত-টাপ। ১ কস্তী। ২ দ্বারা। (রাজনি ) ৩ নদীবিশেষ। কালিকাপুরাণে লিখিত আছে-- পুরাকালে ব্ৰহ্ম-নন্দন বশিষ্ঠ নিমিরাজার শাপে দেহহীন এবং রাজর্ষি নিমিও বশিষ্ঠশাপে দেহহীন হন। তখন বশিষ্ঠ ব্ৰহ্মার উপদেশে কামরূপপীঠে সন্ধ্যাচলে কঠোর মুষ্ঠান করেন। বিষ্ণু তপস্তায় তুষ্ট হইয়া তাহাকে বর দেন, বশিষ্ঠ এই বরপ্রভাবে অমৃতকুও নামে এক মহাকুও নিৰ্ম্মাণ করেন, এই কুণ্ডের পূর্বে ললিতা নামে মনোহারিণী ও দক্ষিণসাগরগামিনী এক নদী আছে, মহাদেব এই নদীকে অবতারিত করেন । বৈশাখ মাসের শুক্লাস্তৃতীয়ার দিন এই নদীতে স্নান করিলে শিবলোক