পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/২১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


וזכוה t is ) লামা মাঠ বাইয়া বিস্তাভ্যাস করিতে পারে। মঠে ৰাষ্ট্রার সমর তাহাকে মস্তকে লাল বা হরিত্রাবর্ণের টুপি দিয়া বাইতে হয়। এখানে পাঠাভ্যাসকালে শিক্ষাভিলাষী ছাত্রাল শিক্ষায়ক্ষপে উত্তরোত্তর উচ্চশ্রেণীতে উন্নীত হইয়া থাকে। ঐ শ্রেণীগুলি ড়াপা, গো-ত্ব উল ও গোলোঙ, অর্থাৎ যথাক্রমে শিক্ষানবিশশিষ্য, দীক্ষিত শিষ্য এবং যতি। তাহারা বৌদ্ধধতিপদের অধিকারী হইয়া শিক্ষাবিভাগীর কোন একটী বিশেষ বিজ্ঞানের উন্নতিসাধনে যত্নপর হইতে পারেন । অনেক বালকই প্রধান মঠে বা সম্বোরামে লাম-পদ ও তদনুরূপ শিক্ষালাভার্থ প্রবিষ্ট হইবার পূর্ব গ্রাম্যক্ষুদ্রমঠে প্রাথমিকপাঠ শিক্ষা সমাপন করিয়া থাকে এবং দীক্ষালাভের সময় মঠে আসিয়া সমাগত হয়। সিকেমের পেমিওঙ্গছি মঠে এবং ! মিন্দোলিঙ্গের নিঙ মা-সঙ্ঘারামে যেরূপ প্রথায় বালকদিগকে শিক্ষা দেওয়া হইয়া থাকে, নিয়ে তাহাই প্রকাশিত্ত হইল। উক্ত মঠদ্বয়ে কোন বালক শিক্ষার্থ আসিয়া উপস্থিত হইলে, প্রথমে তাহাকে তাহার পিতার নাম, কুলমর্যাদা ও পদমর্যাদা জিজ্ঞাসা করা হয়। কোন কোন মঠে পিতা ধনবান হইলেই তাহার তনয়কে মঠে রাথিয়া দেয়,কিন্তু সাধারণতঃ সকলগুলিই আষপ্তক। বালকের আভিজাত্য পরিজ্ঞাত হইবার পর, তাহার শারীরিক বল পরীক্ষা করা হয়; কেন না, তাহার শরীর তুৰ্ব্বল হইলে সে কখনই এতাদৃশ কঠোর ব্ৰতপালনে সমর্থ হইবে না। প্রথমে তাহার বালক খঞ্জ, বধির, মুক বা তোত লা কি না, তাহ ভালরূপে পরীক্ষা করেন। যদি বালক স্নায়বিক দৌৰ্ব্বল্যাদি কোন দোষযুক্ত হয়, তাহা হইলে সে কখনই মঠে প্রবেশ করিতে পায় না। শারীরিক পরীক্ষায় উপযুক্ত বলিয়া নিৰ্ব্বাচিত হইবার পর, বালকের পিতা বা অভিভাবক মঠস্থ কোন যতি বা লামার নিকট স্বীয় পুত্রকে রাখিয়া আইসেন। যে যতি বালকের পরিদর্শক ও উপদেষ্ট হন, তিনি প্রায়ই র্তাহার নিকট আত্মীয়। যেখানে এইরূপ কোন নিকট আত্মীয়ের অভাব ঘটে, সেইখানে বালকের • কোষ্ঠী-ফল বিচার করিয়া মঠস্থ কোন বৃদ্ধ যতির হস্তে বাল কের ভারাপণ করা হয়। তখন সেই বৃদ্ধ যতিই বালকদিগের উপদেষ্ট হন। গুরুর হস্তে সমর্পণকালে বালকের পিত ধতিকে সন্মান প্রদর্শনার্থ কিছু টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও মদ্য দিয়া থাকেন। স্থলবিশেষে এই টাকা দিবার পার্থক্য আছে । সিকিমের পেমিওঙ্গছি সপ্তম্বারামে প্রায় দেড়দশ টাকা এবং ভোটানে ১ • • ভোটানী মুদ্র দিতে হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মঠে ১০২ টাকা পৰ্য্যন্ত দেওয়া হইয়া থাকে। গেজ-গান বা উপদেশক থোপযুক্ত অর্থ ও খাঞ্চ সামগ্ৰী লাভ করিয়া বালককে মঠের মধ্যে লইয়া যান। পরে যে বিস্তৃক্ত কক্ষে ΧVΙΙ م, 恕够 ধতির সমবেত হইয়া ৰসিয়া থাকেন, সেই গৃহে বালককে । জানিয়া সকলের সম্মুখে তাহার বংশপরিচয় এবং তাছার পিতার প্রদত্ত উপহারাদিপ্রাপ্তির কথা জামাইয়া প্রধান যতিয় বা বে উ-ছওসের নিকট বালকক্ষে শিষ্যত্বে নিয়োগ করিবার আদেশ প্রার্থনা করেন । শ্রেষ্টব্যতি এৰিষয়ে জগুমোদন করিলে ঐ বালক শিক্ষাধিরূপে গৃহীত হয়। o শিক্ষানবিশ অবস্থায় ঐ বালকের কেশ স্থাটিয়া দেওয়া হয় । তখন সে শিক্ষকের অধীনে সাধারণ বাস পরিধান করিয়া পাঠাভ্যাস করিতে পায় । ক, খ ও গ হইতে আরম্ভ করিয়া ক্রমশঃ সে কএকখানি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধর্শ্বগ্রন্থ কণ্ঠস্থ করিয়া লয়। এতদ্ব্যতীত তাহৰুে নীতি-উপদেশ ও ব্যাকরণের কতকাংশ শিক্ষা এবং তাহার চরিত্র সংশোধনার্থ এই সময়ে তাহাকে-দশৰিধ দুষ্কৰ্ম্ম, নীচজন্মের লক্ষণ, সঙ্ঘের উদেশ্ব ও বাক্যকথনপ্রণালী বিষয়েও নানারূপ উপদেশ দেওয়া হইয়া থাকে। এই পাঠ্যাবস্থার প্রথম বৎসরে বালকের পিতা বা আত্মীয়বর্গ মাসে একদিন মাত্র দেখিতে আইসেন এবং শিক্ষকের বেতন ও বালকের খোরাকী খরচ দিয়া তাহারা কতদূর শিক্ষাপ্রাপ্তি হইয়াছে জানিয়া চলিয়া যান। এইরূপ অবস্থায় দুই বা তিন বৎসর মধ্যে বালক আবশ্যকীয় সকল পাঠ্য কণ্ঠস্থ এবং তাহ পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করিতে অভ্যস্ত হইলে শিক্ষক তাহাকে গে-হুষ উল পদের উপযুক্ত জানিয়া প্রধান যতির (স্প্যি-ব্ৰুগন) নিকট প্রবেশাধিকার প্রার্থনা করিয়া । পাঠান। দরখাস্ত পাঠাইবার সময় বালককে একথানি উওরীয় ও ১০ টাকা পাঠাইতে হয়। প্রধান যতি পুনরায় তাহার শারীরিক ও মানসিক শক্তির পরীক্ষা লন, তদনন্তর তাহাকে গে-তষউল পদের উপযোগী জানিয়া তৎপদে নিয়োগার্থ একখানি জামিন-নাম লিখাইয়া বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ দিয়া লন। পরে শাখাবিশেষে শিক্ষা সমাধানার্থ শিক্ষক স্বীয় ছাত্রকে তথাকার প্রধান মঠাধ্যক্ষের (উপাধ্যায় ) নিকট লইয়া যান। ঐ উপাধ্যায়কে তৎকালে প্রণামী স্বরূপ ১২ টাকা ও একখানি উত্তরীয় দিতে হয়। গুরু শিষ্যসঙ্গে উপাধ্যায়ের সমক্ষে উপনীত হইলে উপাধ্যায় গুরুকে এই কয়ট প্রশ্ন করেন। "লাম-ধৰ্ম্ম গ্রহণ করিতে ইহার বলবতী ইচ্ছা আছে কি না ? এ বালক ক্রীতদাস, ঋণী কিংবা সৈনিকবৃত্তিধারী কি না ? ইহার বংশমর্য্যাদা কিরূপ, কেহ ইহার এই ধৰ্ম্মগ্রহণে আপত্তি উথাপন করিয়াছে কি ? এ কথন বুদ্ধের আজ্ঞাত্রয়ের অবহেলা করিয়াছে ? জলে বিষ ঢালিয়াছে বা পৰ্ব্বত্তান্তরাল হইতে পক্ষীদিগকে চেলা মারিয়াছে ?" ইত্যাদি। উপরোক্ত প্রশ্নসমূহের যথাযথ উত্তর পাইয়া সস্তুষ্ট হইলে উপাধ্যায় তাহাকে জর্ধৗত পাঠ্যগ্রন্থসমূহের আয়ুপূৰ্ব্বিক পাঠ আবৃত্ত্বি করিতে বলেন। মঠাচাৰ্য্য বালকের মেধা ও বিনাদি গুণে