পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/৪৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বঙ্গদেশ (দাসবংশ ) [ 80° 1 বঙ্গদেশ (দাসবংশ ) মহম্মদ-ই-বখতিয়ারের মৃত্যুর পর খিলজীবংশীয় যে কয়েকজন সেনাপতি বঙ্গদেশ শাসন করিয়াছিলেন, তন্মধ্যে সুলতান গিয়াসউদ্দীনই সৰ্ব্বাপেক্ষ বিখ্যাত। মুলতান হিসাম উদ্দীন অবুজ গৌড়ের মসনদে সমাসীন হইয়া গিয়াস উদ্দীন নাম ধারণ কুরেন । তাহার স্থাপিত কীৰ্ত্তিমালা অস্থাপি বঙ্গে তাহার যশ ঘোষণা করিতেছে। তিনি গৌড়নগরী নানা অট্টালিকায় ও ধৰ্ম্মমন্দিরে সুশোভিত করিয়াছিলেন। তখন লক্ষ্মণাবতী বা গৌড়-রাজধানী গঙ্গার দুই দিকে বিস্তৃত ছিল । বৰ্ষাঋতুতে জলমগ্ন স্থান দিয়া রাজধানী হইতে অন্তর যাতায়াতের অসুবিধা বুঝিয়া তিনি বীরভূমের অন্তর্গত নগর (লক্ষ্মণনগর বা লখনোর ) নামক স্থান হইতে গৌড় দিয়া দেবকোট পৰ্য্যন্ত একটা জাঙ্গাল (মৃত্ত্বিকাস্ত,প দ্বারা নিৰ্ম্মিত উচ্চ পথ ) প্রস্তুত করান। ইহাতে সাধারণ লোকের ও রাজকীয় কৰ্ম্মচারীদিগের বাঙ্গালার বিভিন্ন নগরে গমনাগমনের যথেষ্ট সুবিধা ঘটিয়াছিল। মুসলমানবাহিনী সঙ্গে লইয়া তিনি স্বয়ং কামরূপ, মিথিলা এবং জগন্নাথের (উড়িষ্যার) রাজাদিগকে কর দিতে বাধ্য করিয়াছিলেন। প্রায় দশ বৎসরকাল মহাসমৃদ্ধির সহিত রাজত্ব করিয়া তিনি দেশহিতকর নানা কার্য্যের অনুষ্ঠান করিয়া যান। তিনি সাহিত্য ও শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন । জ্ঞানোন্নতি কল্পে তিনি শত শত পণ্ডিতকে বৃত্তি দান করিয়াছিলেন। বাস্তবিক পক্ষে তিনি হিন্দু, মুসলমান, ধনী বা দরিদ্রভেদে কোনরূপ বিচারের তারতম্য করিতেন না। ১২২৫ খৃষ্টাব্দে দিল্লীশ্বরের বিরোধী হইয়৷ তিনি প্রথমে দিল্লীতে রাজকর প্রেরণ বদ্ধ করেন। সমাটু আলতমাস তাহাকে দগুবিধানার্থ বাঙ্গালীয় সমাগত হইলে তিনি তাহার অধীনতা স্বীকারপূর্বক সন্ধি করিতে বাধ্য হন। সম্রাটু প্রত্যাগত হইলে,তিনি বেহারের শাসনকর্তা মুলক্ আলাউদ্দীনকে রাজ্যভ্রষ্ট করিয়া পুনরায় দিল্লীশ্বর সুলতান আলতামাসের অধীনতা অস্বীকার করেন, তাহাতে সুলতান আপনার দ্বিতীয় পুত্র নাসির উদ্দীনকে তদ্বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। গিয়াস উদ্দীন সমরে পরাজিত এবং নিহত হন ( ১২২৭ খৃষ্টাব্দ ) । গিয়াসের মৃত্যুর পর লক্ষ্মণাবতীর হৃতসৰ্ব্বস্ব দিল্লীরাজধানীতে প্রেরণ করিয়া নাসির উদ্দীন বাঙ্গালা ও বেহারের শাসনকৰ্ত্ত হন। ১২২৮-২৯ খৃষ্টাব্দে লক্ষ্মণাবতী রাজধানীতে র্তাহার মৃত্যু ঘটে। এই সুযোগে খিলজীবংশীয় সর্দারগণ বিদ্রোহী হইয়া পুনরায় বাঙ্গালা হস্তগত করিতে চেষ্টা পান। সুলতান আলতমাস ৬২৭ হিজিরায় স্বয়ং বাঙ্গালায় উপনীত হইয়া বিদ্রোহদমনপূৰ্ব্বক পুৰ্ব্বকথিত মুলক আলা উদ্দীনকে গৌড়সিংহাসনে অভিষিক্ত করেন। আল উদ্দীন ৪ বৎসর এবং তৎপরে শৈফ উদ্দীন তুর্ক ৩ বৎসরকাল রাজত্ব করিলে পর বাঙ্গা লার মসনদে তুঘান খা আরোহণ করেন। ৬৩৪ হিজিরায় तःि প্রয়োগে শৈফ উদ্দীনের মৃত্যু ঘটে ( ১২৩৭ খৃ: )। নাসির উদ্দীনের পর যথার্থ পক্ষে তুঘান খাই বঙ্গরাজ্য শাসন করিয়াছিলেন। তিনি নানা সদগুণে ভূষিত ছিলেন । সুলতান আলৰ্তমাসের অনুগ্রহে তিনি ৬৩০ হইতে ৬৩৪ হিঃ মুধ্যে যথাক্রমে বুদ্ৰাউন, বেহার ও গৌড়ের মসনদে সমধিষ্ঠিত হইয়াছিলেন। বঙ্গসিংহাসনে উপবিষ্ট হইয়া আজা উদ্দীন তুঘান খান উপাধি ধারণ করিয়া দিল্লীশ্বরী সুলতান রিজিয়ার সন্নিকটে উপঢৌকনাদিসহ একজন দূত প্রেরণ করেন। তাহাতে তিনি উচ্চ সন্মানলাভ এবং লোহিতবর্ণ ছত্র ধারণের অধিকার পান। অতঃপর তিনি ত্রিহুতপতিকে পদানত করিয়া কর দিতে বাধ্য করেন এবং বহু ধনরত্ন লইয়া গৌড় রাজধানীতে প্রত্যাবৃত্ত হন । সম্রাট, মসাউদের রাজত্বকালে দিল্লীর রাজসরকার বিশৃঙ্খল জানিয়া তিনি সেই রাজশক্তিকে অবজ্ঞাপূর্বক স্বয়ং স্বাধীন রাজরূপে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন এবং কড়া-মাণিকপুর অধিকার করিয়া স্বীয় রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন ( ১২৪২ খৃষ্টাব্দে ) । তথায় বাসকালে ৬৪০ হিজিরাব্দে তবকৎ-ই নাসির প্রণেতা মিনহাজের সহিত সুলতানের সাক্ষাৎ হয়। সুলতান তাহাকে সঙ্গে লইয়া বাঙ্গালায় আসেন । ১২৪৩ খৃষ্টাব্দে উৎকলপতি সুলতান তুঘানের বিরুদ্ধাচরণ করিলে তিনি মুসলমান সেনা লইয়া যাজপুর রাজ্য সীমান্তস্থিত কতাসন নামক স্থানে উপনীত হন। উড়িষ্যাবাসীর সহিত যুদ্ধে পরাজিত হইয়া সুলতান লক্ষ্মণাবতীতে সদলে ফিরিয়া আসেন। তাহাতে উত্তেজিত হইয়া উড়িষ্যাসৈন্ত বাঙ্গালা আক্রমণ করে (১২৪৪ খৃঃ,৬৪২ হি:)। গঙ্গবংশীয় নরপতি অনঙ্গভীমপুত্র মহাবীর নরসিংহদেব স্বয়ং এই অভিযানের অধিনায়ক ছিলেন । উড়িষ্যা সৈন্ত গৌড়নগর ও বীরভূমের প্রধান নগর লখনোর আলোড়িত এবং তথাকার সেনাপতি করিম্ উদ্দীনকে বিপৰ্য্যস্ত করিলে উপায়ান্তর না দেখিয়া সুলতান দিল্লীশ্বরের নিকট সাহায্য প্রার্থন করেন। তদনুসারে অযোধ্যার সুবাদার তৈমুর খাঁ কিরণ সদলে লক্ষ্মণাবতী অভিমুখে অগ্রসর হইলেন। তাহার আগমনে ভীত হইয়৷ উৎকলসৈন্ত লব্ধদ্রব্যাদি লইয়া স্বদেশাভিমুখে পলায়ন করিল। তৈমুর খাঁ সুলতান তুপ্রিলই তুঘানকে হীনবল দেখিয়া স্বয়ং বাঙ্গালার মসনদ অধিকার করিয়া বসিলেন । এই স্থত্রে উভয়পক্ষীয় মুসলমানসেনায় ঘোরতর যুদ্ধ ঘটে। ১২৪৪ খৃষ্টাব্দে উভয়পক্ষে একটা সন্ধি হয়। তাহাতে তৈমুর খান গৌড়ের মসনদে অধিষ্ঠিত হইলেন এবং সুলতান তুঘান স্বীয় ধনরত্ন লইয়া দিল্লী রাজধানীতে প্রস্থান করিলেন। দিল্লীশ্বর যথোচিত