পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/৪৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বঙ্গদেশ (দাসবংশ ) তুর্ক সেনাপতিকে দ্বিতীয়বার গৌড় বিজয়ে প্রেরণ করেন। এবারও দিল্লী-সৈন্সের পরাভব ঘটে। ইহাতে ক্রদ্ধ হইয়া সম্রাট, বলা স্বয়ং পুত্র বল্লুর খানকে সঙ্গে লইয়া বাঙ্গালা আক্রমণ করেন । তুঘল সম্রাটের আগমনে ভীত হইয়া ধনরত্ন সঞ্চয়পুৰ্ব্বক ত্রিপুরাভিমুখে পলাইয়া যান। দিল্লীশ্বর গৌড়রাজধানীতে পদার্পণ কবিয়া হিসাম উদ্দীনকে গৌড়ের শাসনকর্তা নিয়োজিত করিয়া সদ্বলে ত্রিপুরাভিমুথে অগ্রসর হইয়া সোণারগায়ে শিবির সন্নিবেশ করিলেন,এখানকার স্বাধীন হিন্দুৰূপ দমুজরায় (সেনবংশীয় দনৌজা মাধব ) তাহার সাহায্যকরণাভিপ্রায়ে নদীপথ রক্ষাভার গ্রহণ করেন। মালিক বারিক ও মহম্মদ শের প্রভৃতি সেনানায়কের অধীনে স্বীয় সেনাদল বিভক্ত করিয়া সম্রাটুতাহাদিগকে বিদ্রোহীর অন্বেষণে নিয়োগ করিলেন । তুঘল পথি মধ্যে আক্রান্ত ও বিনষ্ট হন (১২৮২ খৃষ্টাব্দে)। অনস্তর বলা স্বীয় দ্বিতীয় পুত্রকে নাসির উদ্দীন উপাধি দিয়া বাঙ্গালার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। সুলতান বস্বরা খান নাসির উদ্দীন গৌড়সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হইবার কিছুকাল পরে তাহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার মৃত্যু হয় এবং তিনি দিল্লীসাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হন ; কিন্তু তিনি উক্ত গুরুভার বহন করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করাতে তৎপুত্র কৈকোবাদ সৰ্ব্বসম্মতিক্রমে সম্রাট পদে অভিষিক্ত হইলেন এবং নাসির স্বয়ং গৌড়ে রাজত্ব করিতে লাগিলেন। কৈকোবাদ ক্রমে অত্যন্ত দুক্ৰিয়াসক্ত হইয়া পড়িলে নাসির উদ্দীন পুন: পুনঃ উপদেশপত্র লিথিয় তাহীকে সতর্ক করিতে লাগিলেন, কিন্তু তাহাতে কোন সুফল ফলিল না, বরং কুমন্ত্রীর প্ররোচনায় ও মন্ত্রণায় উদ্দীপ্ত হইয়া কৈকোবাদ পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করিলেন। উভয়ের সৈন্ত ঘর্ঘরা ও সৰ্ব্বা নদীতীরে পরম্পরেব নিকটবৰ্ত্তী হইল। দুই দিন কিছুই হইল না । তৃতীয় দিবসে নাসির উদ্দীন সম্রাটের সহিত সাক্ষাতের প্রার্থনা জানাইয়া স্বহস্তে পত্র লিখিলেন । মন্ত্রীর পরামর্শে কৈকোবাদ পদের মর্য্যাদা রক্ষা করিতে শিখিলেন । পুত্র সিংহাসনে আসীন রহিলেন, পিতা আসিয়া যথারীতি দুইবার কুর্ণিস করিলেন, তিনবার করিতে যাইতেছেন, এমন সময়ে কৈকোবাদ সিংহাসন হইতে নামিয়া পিতাকে অভিবাদনপুৰ্ব্বক তাহার নিকট ক্ষম প্রার্থনা করিলেন । অনন্তর পিতাকে সিংহাসনে বসাইরা আপমি নীচে বসিলেন। পিতা পুত্রে মিলন হইল। নাসির পুত্রকে সছুপদেশ দিয়া গৌড়ে প্রত্যাৱৰ্ত্তনপূর্বক কিয়ৎকাল রাজ্যশাসন করিয়া মানবলীলা সংবরণ করিলেন (১২৯২ খৃষ্টাব্দে ) । এদিকে জলাল উদ্দীন খিলজীর হস্তে কৈকোৰাদ রাজ্য ও প্রাণ হারাইলেন (১২৯০ খৃষ্টাবে)। জ্বলাল উদ্দীন এবং তৎপরে গাল উদ্দীনের রাজত্বের প্রথমকালপর্যন্ত মুলতান নাসির উদ্দীন [ 8७९ ] বঙ্গদেশ (দাসবংশ ) নিৰ্ব্বিত্বে গৌড়রাজ্য শাসন করিয়াছিলেন, কিন্তু শেষ সময়ে জাল উদ্দীন শক্তিসমৃদ্ধিতে পূর্ণ হইয়া উঠিলে,তিনি সম্রাটের ভয়ে স্বেচ্ছায় গৌড়সিংহাসন ত্যাগ করিয়া লক্ষ্মণাবতী ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের সামন্তরাজরূপে গৌড়নগরে বাস করিতে অধিকার পান ( ১২৯৯ খৃষ্টাব্দে ) । এই সময়ে কৈকায়ুস এবং ফিরোজ শাহ, নামক নাসির উদ্দীনের পুত্রদ্বয় যথাক্রমে গৌড়ে রাজত্ব করেন। ফিরোজ শাহের সময়ে তৎপুত্র বাহাদুর থান সমবেত মুসলমানশক্তির সাহায্যে দনুজরায়কে পরাজয় করিয়া পূৰ্ব্ববাঙ্গালার শাসনাধিকার লাভ করিয়া সুবর্ণ গ্রামে রাজধানী স্থাপন করেন । ১৩১৭ বা ১৩১৮ খৃঃ অব্দে ফিরোজ শাহের মৃত্যু ঘটে এবং তাহার জোঃ পুত্র শাহাব উদ্দীন লক্ষ্মণাবতীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু অল্পকাল পরেই বাহাদুর খ' শাহাব উদ্দীনকে গোঁড় হইতে তাড়াইয়া দেন । এই সময়ে মুবারক শাহ দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত। বলদপিত বাহাদুর খান তাহার রাজশক্তিকে উপেক্ষাপূর্বক বাহার শাহ নাম গ্রহণ ও স্বনামে মুদ্রাঙ্কণ করিয়া স্বাধীনতা অবলম্বন করেন। মুবারকের অনতিকাল পরেই খিলজীবংশের বিলয় সাধিত হয় এবং গিয়াস উদ্দীন তোগলক দিল্লী-সিংহাসনে সমধিষ্ঠিত হন । এদিকে রাজ্যচু্যত শাহাব, উদ্দীন ভারত-রাজধানী দিল্লীতে উপনীত হইয়া সম্রাটু গিয়াস উদ্দীন তোগলকের শরণাপন্ন হইলেন । কিন্তু ইহার পরে কি হইল জানা যায় না । সম্রাট, ১৩২৪ খৃষ্টাৰো বাঙ্গালায় আসিয়া শাহাবু উদ্দীনের ভ্রাতা নাসির উদ্দীনকে শাসনকর্তৃত্ব প্রদান করেন এবং বাহাদুরকে বন্দী করিয়া দিল্লী লইয়া যান । বাহাদুর শাহকে সঙ্গে লইয়া দিল্লীধামে উপনীত হইবা মাত্র সম্রাটু নাসির উদ্দীনের মৃত্যু সংবাদ পাইলেন। তিনি বঙ্গ পরিত্যাগকালে বহরম থাকে সুবর্ণগ্রাম এবং আহ্মদ থাকে ত্রিহুতরাজ্যে অভিষিক্ত করিয়া যান। এই ঘটনার কিছুদিন পরে ১৩২৫ খৃষ্টাব্দে মহম্মদ তোগলক দিল্লীশ্বর হন। নাসিরের মৃত্যুর পর, তিনি কদের থাকে লক্ষ্মণাবতীর ও আজম উল মুলককে সপ্তগ্রামের শাসনকর্তৃপদে নিযুক্ত করেন। ১৩৩৮ খৃষ্টাব্দে সুবর্ণগ্রামের শাসনকর্তা বহরম খাঁর মৃত্যু ঘটে। তোগলকেৰ প্রস্থানের পর হইতেই বাঙ্গালায় নানা রাজনৈতিক বিপ্লব স্বচিত হইতে থাকে এবং তাহ হইতেই অল্পকালের মধ্যে বাঙ্গালীয় স্বতন্ত্র ও স্বাধীন মুসলমানরাজ্য সংস্থাপিত হইবার স্বত্রপাত হয় । বহরম খাঁর মৃত্যুতে উৎফুল্প হইয় তাহার কৰ্ম্মচারী ফখর উদ্দীন সুবর্ণগ্রামের মসনদে জারোহণপূর্বক আপনাকে স্বাধীন