পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/৪৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বদশে (দৈীশ) [ 880 বঙ্গদেশ ( মোগলশাসন ) বঙ্গেশ্বরের শিবিরে পলাইয়া আইসেন এবং স্বীয় অনুচরবর্গকে শের থানের সঙ্গ ত্যাগ করিতে আদেশ পাঠান। শের এইরূপে সেনাসংখ্যার হ্রাস হইতে দেখিয়া বেহায়দুর্গে আশ্রয় লইলেন। এ দিকে বঙ্গীয় সেনা আসিয়া দুর্গ অবরোধ করিল। কএক মাস বরোধের পর সেনাপতি ইব্রাহিম সাহায্যাৰ্থ নূতন সেনাদল প্রার্থনা করিয়া পাঠাইলেন,কিন্তু ঐ সেনা আসিবার পূর্বেই শের এক দিন অকস্মাৎ গে মধ্য হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া ভীমবেগে বঙ্গীয় লেনাকে আক্রমণ করিল। অতর্কিত আক্রমণে বঙ্গীয় সৈন্ত ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িল। সেনাপতি নিহত হইলেন এবং জলাল, গৌড় নগরে পলাইয়া আত্মরক্ষণ করিলেন (১৫৩৫-৩৬ খৃঃ) । পর বৎসর ৯৪৩ হিং, শের চুনার দুর্গ অধিকারপূর্বক সমগ্র বেহার প্রদেশে আপনার শাসনদণ্ড স্থাপন করিলেন। তদন্তর তেলিয়াগড়ি ও শক্রী-গড়ি সঙ্কট অতিক্রম করিয়া তিনি স্থলতানের অনুবৰ্ত্তী হইলেন এবং ক্রমশ: রাজধানী অভিমুখে অগ্রসর হইয়া গৌড়নগর স্বীয় সৈন্য দ্বারা পরিবেষ্টিত করিলেন । কিন্তু অধিক কাল বঙ্গে থাকিতে সমর্থ না হওয়ায় তিনি খাবাস থানের হস্তে সৈনাপত্য প্রদানপূৰ্ব্বক স্বয়ং বেহারে প্রত্যাবৃত্ত তইলেন । এই অবসরে মাহ্মদ শাহ মোগল-সম্রাট হুমায়ুন এবং পর্তুগীজাধিকৃত ভারতের প্রতিনিধি যুনো-দে কুনার সাহায্য লাভের চেষ্টা পান। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ঐ সহকারিদ্বয় আসিয়া সমুপস্থিত হইবার পূৰ্ব্বেই নগরবাসিগণ খাষ্ঠীভাবে আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হয় (হিঃ ৯৪3 = ১৫৩৭-৮ খৃ: )। সুলতান মাহ্মদ এই সময়ে নৌকারোহণপূৰ্ব্বক গৌড় হইতে হাজিপুরে পলাইয়৷ মাইসেন। বিপক্ষ সৈন্য র্তাহার পশ্চাদমুসরণ করিল। সুলতান বাধ্য হইয় আত্মরক্ষা করিতে সচেষ্ট হইলেন । ঘোরতর যুদ্ধ বাধিল । রণক্ষেত্রে সুলতানকে আহত দেখিয়া তাহার বন্ধুবৰ্গ তাঙ্গকে লইয়। পলায়ন করিল এবং চুনার দুর্গ অবরোধকারী সম্রাট, হুমায়ুনের শিবিরে আশ্রয় লাভ করিল। সম্রাট হুমায়ুন বঙ্গেশ্বরের তুর্দশায় সবিশেষ দুঃখিত হইলেন এবং অঙ্গীকার মত চুনার দুর্গ-বিজয়ের পর বঙ্গভিযানে উদ্যোগ করিলেন। এই সময়ে শের খান তেলিয়াগড়ি ও শক্রী-গড়ি সঙ্কট সুদৃঢ় করিতে ব্যস্ত ছিলেন। জাহাঙ্গীর কুলীবেগের অধীনে মোগলসৈন্ত সমাগত হইলে শেরপুত্র জলাল খান স্বীয় পাঠানসৈন্তসহ যুদ্ধার্থ অগ্রসর হইলেন । রণক্ষেত্রে মোগল সেনাপতি আহত হইলে মোগলসৈন্ত পলায়ন করিল। তদর্শনে হুমায়ুন স্বয়ং যুদ্ধযাত্রা করিলেন। কহলগার নিকট মোগলবাহিনী উপনীত হইলে মাহ্মদ শুনিলেন, পাঠানগণ র্তাহার পুত্রদ্ধয়কে নিহত করিয়াছে। এই দুঃসংবাদে শোকসম্ভপ্ত হৃদয়ে মাহ্ম, প্রাণত্যাগ করেন ( ১৫৩৮-৯ খৃঃ ) । তাহার রাজ্যকাল হইতেই প্রকৃতপক্ষে বাঙ্গালার স্বাধীন নরপতিবংশের অবসান হইল । হুমায়ুনকে সমাগত দেখিয়া জলাল খান সীমান্ত স্থান পরিত্যাগপূৰ্ব্বক গৌড়নগরে পিতৃসন্নিধানে সম্মিলিত হইলেন । সম্রাটুও এই অবসরে শকরীগড়ি সঙ্কট অধিকারপূর্বক গৌড়নগরাভিমুখে স্বীয় বাহিনী প্রধাবিত করিলেন। শের খ মোগলসৈষ্ঠের আগমনে ভীত হইয় রাজকোষের সমুদয় অর্থ সংগ্ৰহপূর্বক সাসেরামের অন্তর্গত ঝারথও প্রদেশে পলায়ন করিলেন এবং তথায় অত্যন্ত্রকালের মধ্যে অত্যন্ধুত কৌশলে সুপ্রসিদ্ধ রোহতাস কুর্গ নিৰ্ম্মাণ করাইয়াছিলেন। হুমায়ুন গৌড়নগর সমীপে উপনীত হইলে নগরবাসী সাহলাদে দ্বার উন্মুক্ত কবিল। তাহার আদেশে রাজ্যের মঙ্গল কামনায় রাজনামেই খুৎবা পাঠ হইল। তিনি নগরের নাম জন্নতাবাদ রাখিলেন । র্তাহার নামে যে মুদ্রাঙ্কণ হয়, তাহাতে নগরেব নূতন নাম সন্নিবিষ্ট হইয়াছিল। বঙ্গরাজ্য জয়ের পর সুলতান হুমায়ুন বিলাসমুথে নিমগ্ন হইলেন। তিনমাস ভোগমুখে রত থাকিয়াও তাহার আত্মপ্রসাদ উপস্থিত হইল না, তিনি থঞ্জনবিনিন্দিতনয়ন মন্থরগমন বীরাঙ্গনাকুলের নৃত্যগীতে সৰ্ব্বদা বিভোর হইয়া রছিলেন । শত্রদল এই অবসরে পুনরায় বলপুষ্ট করিয়া লইল । শের খান বলদর্পিত মোগল শত্রর বিরুদ্ধে যুদ্ধার্থ প্রস্তুত হইলেন। অনতিকালপরেই গুপ্তচরমুখে শত্রুপক্ষীয়ের উদ্যোগ ও ষড়যন্ত্রংবাদ পাইয়া সম্রাট হুমায়ুনের মুখস্থপ্তি ভঙ্গ হইল। তিনি কতকটা যেন ভীত হইয়াই যেই বর্ষা ঋতুতে আগ্র অভিমুখে প্রস্থান করিলেন । কিন্তু রাজ্যশাসনার্থ তিনি ৯৪৬ হিঞ্জিরাধ জাহাঙ্গীর কুলীবেগকে বাঙ্গালার শাসনকৰ্ত্ত নিযুক্ত কুরিয়া যান, প্তাহার আদেশে রাজ্যবক্ষার্থ তথায় ৫ হাজার মোগল অশ্বারোহী রক্ষিত হইয়াছিল । মোগল সৈন্ত বাঙ্গালার জলবায়ুপ্রকোপে অনভ্যস্ত ছিল । তাহারা নিরস্তব বারিপাতে ক্লিন্নচিত্ত ও ক্রমেই নানা বোগগ্ৰস্ত হইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হইতে লাগিল। এই সময়েই সম্রাটের 'অন্যতম ভ্রাতা বিদ্রোহী হইলেন। শের র্থ কৌশলে রোহতাস্ দুর্গবিজয়ে সফল মনোরথ হইয়া পুনরায় বঙ্গরাজ্য উদ্ধাবে সচেষ্টত হইলেন । তাহার উদ্যোগে ছত্রভঙ্গ আফগান সৈন্ত পুনরায় কৰ্ম্মনাশা তীরস্থ চৌসর গ্রামে সমবেত হইল । সম্রাটু গঙ্গাতীর উত্তরণপূর্বক আর অধিকদূর অগ্রসর হইতে পারিলেন না । মোগল সেনা পাঠান শিবিরভেদ করিতে সাহসী হইল না, অথবা গঙ্গা পুনরুত্তৰণপূৰ্ব্বক প্রত্যাবৃত্ত

  • ফেরিয়া ডি মুঞ্জ বলেন, শের খ। ছয় কোটা স্বর্ণমুদ্র লইয়া খান ।