পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/৬৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বল্লভাচার্য্য বল্লভাচাৰ্য্য, বল্লভাচারীনামক বৈষ্ণবমত প্রতিষ্ঠাতা একজন আচাৰ্য্য। তিনি লক্ষ্মণভট্টনামক এক জন তেলগু ব্ৰাহ্মণের দ্বিতীয় পুত্ররূপে ১৪৭৯ খৃষ্টাৰে জন্মগ্রহণ করেন। তাহার পিতামাতা দাক্ষিণাত্যের মুদূর তৈলঙ্গ প্রান্ত হইতে তীর্থযাত্রা উদেশে উত্তরভারতে আসিয়া উপনীত হন । এইখানে বারণসীর অদূরবর্তী চম্পারণ্য নগরে তিনি প্রস্থত হইয়াছিলেন। এই কারণে উত্তর-পশ্চিম-ভারতবাসী পণ্ডিতগণ র্তাহাকে উত্তরভারতবাসী বলিয়া গৌরব করিয়া থাকেন । বল্লভের পিতা বিষ্ণুস্বামী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। বারাণসী ধামে অবস্থিতিকালে ধৰ্ম্মাচার লইয়া তৎস্থানবাসীর সহিত তন্মতাবলম্বীদিগের ঘোর বিরোধ উপস্থিত হয়। এই কারণে তাহাকে বারাণসী ছাড়িয়া অস্তন্ত্র যাইতে হইয়াছিল ; ঐ সময়ে তাহার পত্নী পূর্ণগর্ত ছিলেন। অতি দ্রুত পলায়ন কালে পথাতিক্রমণ কষ্টে অকালে অষ্টম মাসে তাছার পত্নী এই নবকুমার প্রসব কবেন। তাহারা আপনাদের জীবন বিপদসঙ্কুল জানিয়াই হউক, অথবা পুত্রের দেবাশ্রয়লাভের আশ্বাসেই হউক, সেই সদ্যঃপ্রস্থত তনয়কে একটা বৃক্ষতলে ফেলিয়া রাথিয়া যান । এইরূপে দূরান্তরে গমনপূৰ্ব্বক কিছুদিন অতিবাহনের পর, যখন তাহাদের প্রাণের আশঙ্কা দূরীভূত হইল, তখন তাহারা ধীরে ধীরে সেই পথে পুনরায় আসিয়া স্বীয় পুত্রকে তদবস্থায় অক্ষত শরীর ও জীবিত দেখিয়া আনন্দাশ্র বিসর্জন করিতে করিতে কোলে তুলিয়া লইলেন । তদনন্তর পুলকপূরিতম্বদয়ে তাহার সপুত্র বারাণসীতে উপস্থিত হইয়া তথায় কিছুকাল অবস্থানের পর, শ্ৰীবৃন্দারণ্যের সমীপবৰ্ত্তী গোকুল নগরে আসিয়া বাস করেন । এখানে নাবায়ণভট্টের অধীনে কোমলপ্রকৃতি বালক বল্লভের অধ্যাপনা চলিতে লাগিল । স্বীয় সুকৃতি ও অধ্যবসায়বলে বালক অতি অল্পকালের মধ্যেই নানা শাস্ত্রে সুপণ্ডিত হইয়া উঠেন। প্রবাদ এইরূপ যে, তিনি চারি মাসের মধ্যে সংস্কৃত সাহিত্য ও দর্শনশাস্ত্রে সম্যক ব্যুৎপত্তি লাভ করিয়াছিলেন। একাদশ বর্ষ বয়ঃক্রমকালে তাহার পিতৃবিয়োগ হয়, এই সময় হষ্টতেই সাংসারিক বিশৃঙ্খলা তাহার পাঠ্য জীবনকে তমসাচ্ছন্ন করিয়া ফেলে। তাহাতে তাহার শান্তিময় চিত্তে ঘোর সাংসারিক বিরহ আসিয়া সমুপস্থিত হয়। সেই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক আচারানুষ্ঠানের বৈসাদৃপ্ত দেখিয়া তিনি আরও হতअनि इहेमा “प्ड़न। ४३ गरुश cनषिद्र उनित्र डिनि यज्ञ७ [ ७११ ] , রামভূজং ঐঃ খ্ৰীচক্রে মধ্বাচার্যাঙ্কফুর্মুখঃ। এবিষ্ণুস্বামিন রুত্রে নিখাদিত চতুসম " (अवां4&रवाब्रङ्गाबलौ) XVII > * * ধৰ্ম্মপথাশ্রয়ই চিত্ত্বভারপিনোদনের এক মাত্র অবলম্বন জানিয়া ধৰ্ম্মশাস্ত্রালোচনায় প্রবৃত্ত হন এবং ক্রমশঃ সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক আচারাদি সংস্কার দ্বারা একটী অভিনব ধৰ্ম্মমতস্থাপনের আশা তাহার হৃদয়ে জাগিয়া উঠে । এই উদ্দীপনার বশবৰ্ত্তী হইয়া বল্লভ বাল-গোপাল উপাসনারূপ স্বীয় অভিনব মত প্রচার করেন। উত্তর-ভারতে তাছার মত বিস্তার করিবার পূৰ্ব্বেই, কাৰ্য্যব্যপদেশে তাহাকে একবার মাতৃভূমি দর্শন করিতে দক্ষিণাত্যে গমন করিতে হইয়াছিল, এখানে অচিরেই তাহার কীৰ্ত্তিস্তম্ভ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তথায় দামোদর দাস নামক একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ ব্যক্তি সৰ্ব্বপ্রথমে তাহার নিকট দীক্ষিত হইয় তাহার ধৰ্ম্মমতের আশ্রয় গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি বিজয়নগরে স্বীয় মাতুলালয়ে গমন করেন । এখানে বিজয়নগর রাজদরবারে রাজপণ্ডিতগণ র্তাহাব মতনিরাসের জন্ত একটি প্রকাশু সভায় তাহাকে বিচারে আহ্বান করিলে তিনি তথায় যাইয়া উপস্থিত হন। পণ্ডিতমণ্ডলী তাহার তর্কে পরাজিত হইলেন । রাজা কৃঞ্চদেব স্বয়ং তর্কস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অপরিচিত সেই যুবকের বাগিতা ও জ্ঞানবত্তা দেখিয়া চমৎকৃত হইলেন এবং স্বয়ং তঁাচার শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়া তাহাকে আপনার ধৰ্ম্মগুরু বলিয়া পুজা করিলেন । এই ঘটনা হইতেই বল্লভাচার্য্যের ধৰ্ম্মমতের প্রতিষ্ঠাভিত্তি আরও দৃঢ়তর হইল। তিনি অতঃপর যে স্থানে গমন করিতে লাগিলেন, সেই স্থানে অনেকেই তাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করিতে লাগিল, এইরূপে উজ্জয়িনী, বারাণসী, হরিদ্বার, প্রয়াগ প্রভৃতি প্রসিদ্ধ ও পবিত্র ধৰ্ম্মক্ষেত্রে তাহার নবীন মতে অসংখ্য ব্যক্তি দীক্ষিত হইল। তাহার মতে, আজীবন ব্রহ্মচৰ্য্যাবলম্বন ন্যায়সঙ্গত বা ধৰ্ম্মপ্রণোদিত নহে। বারাণসী অবস্থানকালে তাই তিনি স্বয়ং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছিলেন। এই বিবাহের কালে ১৫১১ খৃঃান্ধে গোপীনাথ এবং ১৫১৬ খৃষ্টাব্দে বিটঠলনাথ নামে তাস্থার দুইটী পুত্র সস্তান হয় । তিনি শেষ জীবনে প্রায়ই ব্রজভূমি ত্যাগ করেন নাই। তথায় ১৫২ খৃষ্টাব্দে তিনি গোবৰ্দ্ধন শৈলের পার্শ্বে ঐনাথের স্বপ্রসিদ্ধ ও স্ববৃহৎ মন্দির স্থাপন করেন। একদা বৃন্দাবনে ভগবধানে নিরত থাকিয়া তিনি শ্ৰীকৃষ্ণের সাক্ষাৎ লাভ করেন। ভগবান ঐ সময়ে তাহাকে স্বীয় পূজার বা উপাসনার একটা অভিনব প্রথা প্রবর্তন করিতে আদেশ দেন এবং বলেন যে, ঐ প্রথায় তাহার বালকমূর্তিরই উপাসনার ব্যবস্থা জানিবে। তদনুসারে বালকৃষ্ণ বা বালগোপাল নামে ঐ উপাসনাপদ্ধতি প্রচলিত হইয়াছে। বারাণসীতে র্তাহার বাসভবন ছিল । সেখানে তিনি বাস