পাতা:বিশ্বকোষ একাদশ খণ্ড.djvu/৫১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুণ্ডবৰ্দ্ধন - মৎস্য, ভৃঙ্গার, প্রাসাদ, মালা, বেদী, ধূপ, ও শ্ৰীবৃক্ষ সদৃশাকার । যে সকল পুণ্ডক চিহ্ন তাহাও শুভ ফলদ হইয় থাকে। যে অশ্বের মস্তক, ললাট ও বদন ব্যাপিয়া সরল পুণ্ডক থাকে, সেই অশ্ব অতি প্রশস্ত। পৰ্ব্বত, ইন্দু, পতাকা, ও প্রক্‌দাম সদৃশ যে পুণ্ডক তাহাও অশ্বগণের মঙ্গলসূচক। এই সকল পুং,ক শুভসূচক। অশুভ পুঞ্জকের বিষয় এইরূপ লিখিত আছে,—কাক, কঙ্ক, কবন্ধ, অহি, গৃধ্র ও গোমায়ুসদৃশ, অসিত, পীত ও রক্তবর্ণ পুণ্ডক প্রশস্ত নহে। তিৰ্য্যগুগামী, বিচ্ছিন্ন, শৃঙ্খল ও পাশসদৃশ এবং শূলগ্র ও বাম দেহস্থিত যে পুণ্ডক, তাহা শুভদায়ক নহে। যে অশ্বের জিহব কল্মষ ও রুক্ষ্ম এবং ভষ্মবর্ণ সদৃশ পুং,ক তাহাও প্রশস্ত নহে। ৬ পুণ্ড দেশের রাজা । ( ভারত ১।৪।২৪ ) । পুণ্ডকা ( স্ত্রী ) পুণ্ডুক-টাপু । ১ মাধবীলত। ২ তিলক বৃক্ষ । ৩ শুক্ল জাতি পুষ্পবৃক্ষ । ( বৈদ্যকনি” ) পুণ্ড,কেলি (পুং ) পুণ্ডে ইক্ষুবিশেষে কেলিযস্ত । হস্তী। ( শব্দমালা ) । পুণ্ডনগর ( ক্লী ) পুণ্ড দেশের রাজধানী । পুং বৰ্দ্ধন, গুওদিশের প্রাচীন রাজধানী। পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীমধ্যে এই স্থান ‘গৌড়পুর’ বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। প্রাচীন গ্রন্থে পুণ্ড বৰ্দ্ধন ও পৌ গুবৰ্দ্ধন উভয় নামই দৃষ্ট হয় । এখন কথা হইতেছে, গৌরবম্পন্ধী গৌড়ের রাজধানী ! পুণ্ডবৰ্দ্ধন কোথায় ? সেই পেও বৰ্দ্ধনের বর্তমান অবস্থিতি-নির্ণয় সম্বন্ধে প্রত্ন তত্ত্ববিদগণ একমত নহেন। কেহ বলেন, রঙ্গপুরের মধ্যে পেও বৰ্দ্ধন অবস্থিত ছিল । আবার কাছারও মতে, বৰ্দ্ধনকুট নামক স্থানই প্রাচীন পৌণ্ডবৰ্দ্ধনের কতকটা নির্দেশ করতেছে। কেহ মনে করেন, এখনকার পাবনা সহরই প্রাচীন পৌণ্ডবৰ্দ্ধন । আবার কেহ মত পরিবর্তন করিয়া বলেন, তা নয়, করতোয়ানদীর ধারে বগুড়া হইতে ৭ মাইল উত্তরে | ও বৰ্দ্ধন কুটীর ১২ মাইল দক্ষিণে মহাস্থানগড় নামে যে এক অতি প্রাচীন স্থান আছে, সেইস্থানেই পেও বৰ্দ্ধন নগর ছিল । কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, ইহার কোনটাই ঠিক নহে । কলহণের রাজতরঙ্গিণী-পাঠে জানা যায় যে, খৃষ্টীয় ৮ম শতাৰো, গৌড় নামক ভূভাগের রাজধানীর নাম ছিল গোঁওবন্ধন । কথাটিৎসাগর-পাঠে কতকটা বুঝা যায়, পোঁও নগরী গঙ্গার কিছুদূরে অবস্থিত ছিল। চীনপরিব্রাজক হিউএন্‌ সিয়াং এই নগরে অসিয়াছিলেন, অনেক নেীকার্য্যালয় দেখিয়৷ ছিলেন। তিনি গঙ্গ। উত্তীর্ণ হইয়া পৌণ্ডবৰ্দ্ধন রাজ্যে প্রবেশ করেন । রাজতরঙ্গিণীতেও লিখিত অাছে, জয়াদিত্য গঙ্গাতীরে সৈন্তগণকে বিদায় দিয়া ছদ্মবেশে গৌড়ের রাজধানী পেীগুবৰ্দ্ধন [ ৫১০ J পুং বৰ্দ্ধন, নগরে উপস্থিত হন। উপরে যে কয়টা বিভিন্ন মত উস্থত করিয়াছি, পাবনা ব্যতীত ভার কোনটাই গঙ্গার নিকটবর্তী নহে। আবার পাবনার পুরাতত্ব ও ভূতত্ব আলোচনা করিলে কোন মতেই ইহাকে অতি প্রাচীন স্থান বলিয়া গণ্য করা যায় না । - প্রসিদ্ধ মালদহ নগরের দুই ক্রোশ উত্তরপূৰ্ব্বে ও গেী নগর হইতে ৮ ক্রোশ উত্তরে ফিরোজাবাদ নামে এক অতি প্রাচীন স্থান আছে। স্থানীয় লোকের এই স্থানকে পোড়োবা বা পাড়, ( বড়পড়ে ) নামে অভিহিত করে। এই স্থানের এক ক্রোশ উত্তরপশ্চিমে ও মালদহের আড়াই ক্রোশ উত্তরে বারদোয়ারী পড়েবার ভগ্নাবশেষ বিদ্যমান। পোড়োবা অথবা পাড়য় শব্দ পেও বৰ্দ্ধন অথবা পুণ্ড বৰ্দ্ধন শব্দেরই অপভ্রংশ বলিয়া আমাদের বিশ্বাস। স্থানীয় লোকেরাও বলিয়া থাকেন যে, এখানে বহুকাল হিন্দু রাজগণ আধিপত্য করিয়া গিয়াছেন । প্রাচীন ছিন্দুকীfর্ষর ধ্বংসাবশেষ, বহুতর ভাস্কর ও শিল্পসমাযুক্ত ভগ্ন মন্দিরাদির নিদর্শন এবং বহুংখ্যক কৃপতড়াগাদির প্রাচীন গর্ভ এখানকার হিন্দুরাজত্বের অতীত কীৰ্ত্তি বিশেষরূপে ঘোযণা করিতেছি । এই ধ্বংসাবশেষ পুড়েবার বারদোয়ারী হইতে দক্ষিণপশ্চিমে গঙ্গাতট পৰ্য্যন্ত প্রায় ১২ ক্রোশের অধিক স্থান জুড়িয়া আছে। চীনপরিব্রাজক হিউ এন্সিয়াং যখন পেও বৰ্দ্ধন রাজধানীতে আগমন করেন, তৎকালে ইচার আয়তন প্রায় ২॥৩ ক্রোশ বিস্তৃত ছিল । তৎকালে এখানে তড়াগ-বাটিকাদি সমীচ্ছাদিত ও বহুসংখ্যক লোকের ঘনবসতি ছিল । তিনি এখানে হীনযান ও মহাযান-মতাবলম্বী বৌদ্ধগণের প্রায় ২•টা মজারাম, শত শত হিন্দু দেবালয়, বহুতর হিন্দু দার্শনিকের সমাবেশ এবং বহুসংখ্যক দিগম্বর লিগ্রস্থদিগের বাস দেখিয়াছিলেন । চীন-পরিব্রাজক পৌণ্ডবৰ্ধনের যথেষ্ট সমৃদ্ধি দর্শন করিলেও তৎকালে পৌণ্ডবৰ্দ্ধন স্বাধীন রাজ্য বলিয়। গণ্য ছিল না এবং আয়তনেও ক্ষুদ্র ছিল । কাশ্মীররাজ জয়াদিত্য আসিয়াও এখানে প্রচুর বিভূতি সন্দর্শন করিয়াছিলেন। তখনও গোঁড়াধিপ জয়ন্ত এক সামান্ত ভূপতি বলিয়াই গণ্য ছিলেন, কিন্তু যখন তিনি পঞ্চ গৌড়ের অধীশ্বর হইলেন, তখন তাহার রাজধানীর সমুদ্ধি প্রভূত পরিমাণে বন্ধিত হইয়াছিল, তাহাতে সন্দেহ নাই। বর্তমান পুড়োবা ( পাড়য়া) নামক স্থান, যাহাকে আমরা প্রাচীন পৌণ্ডবৰ্দ্ধন নগর বলিয়া স্থির করিয়াছি, এই স্থান এখনকার গঙ্গাস্ত্রেত হইতে প্রায় ৭.৮ ক্রোশ দুরে অবস্থিত ; কিন্তু এখানকার নদীর অবস্থা যেরূপ দেখিতেছি, পূর্বে এরূপ ছিল না । বর্তমান মালদা-সহরের পরপারে যে কালিলী নদী বহিতেছে, এক সময়ে ভাগীরথী এই অঞ্চল