পাতা:বিশ্বকোষ একাদশ খণ্ড.djvu/৭২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—t মণ্ডলীর হাহাকার আর ঘুচে না। ১৮৬৬ খৃঃ অঃ পূৰ্ব্ববর্তী ৩২ বৎসরের মধ্যে ২৪ বৎসর বন্যা হয়। উক্ত এক বৎসরের বন্যায় ৪ লক্ষ ১২ হাজার লোক, ঘরবাড়ী ও অসংখ্য - গোমেষাদি সমস্ত ভাসিয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে ফুর্ভিক্ষ মাসিয়া দেখা দেয় । বন্যার ভয়ে অধিবাসিগণ প্রত্যেক গৃহেই আত্মজীবনরক্ষার্থ একএকখানি নৌকা বাধিয়া রাখে। সমগ্র জেলার মধ্যে শতকরা ৯৮ জন হিন্দু, বাকি মুসলমান ও খুষ্টান । উচ্চশ্রেণীতে ব্ৰাহ্মণ, রাজপুত, করণ, খণ্ডাইত ও বাণিয়া এবং নিম্ন শ্রেণীতে চাষ, বাউরি, গোয়াল, তেলী, পূদ্র, কেওট, নাপিত, কাণ্ডার, তাতি, মালী, বtৱাই, কুস্তার, হাড়ি, লোহান, পান ও বৈষ্ণবগণই প্রধান । অধিবাসীদিগের মধ্যে হিন্দুগণ পুৰ্ব্বপ্রথানুসারে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্ৰিয়, বৈশু ও শূদ্ৰতেদে চারিভাগে বিভক্ত । সকলেই প্রাচীন পদ্ধতি অনুসারে স্ব শ্ব জাতীয় ব্যবসায়াবলম্বী ; একমাত্র এখানকার করণগণ বাঙ্গালার কায়স্থজাতির তুল্য। উড়িয়া ভাষায় সকলে কথাবাৰ্ত্ত কহিলেও সকলে তদেশজাত নছে । প্রবাসী বঙ্গবাসী বিষয়কৰ্ম্মোপলক্ষে এখানে আসিয়া অধিবাসীর হ্যায় অবস্থান করিতেন । র্তাহীদের পুৰ্ব্বতন পদবী থাকিলেও, আচার ব্যবহার ও ধৰ্ম্মকৰ্ম্মের অনেক পদ্ধতিই উড়িয়াগণের অনুকরণজড়িত। এমন কি অনেকে উড়িয়াকন্সার পাণিগ্রহণ করিয়া একবারে উড়িয়া হইয়া পড়িয়াছে। এতদ্ভিন্ন নদীমুখে ও চিন্ধত্বদের সন্নিকটে নৌকাবাৰ্ছী তৈলঙ্গী, গঞ্জাম্বাসী কুন্তী, মরাঠী, মুসলমান ও শবরগণ এখানকার অধিবাসী হইয়াছে। ভোজপুর, বুন্দেলখণ্ড ও উত্তরপশ্চিমপ্রদেশ হইতে বহতর লোক এখানে বাণিজ্যৰ্থ আসিয়া বাস করিতেছে। সমগ্র জেলায় প্রায় ৩৮৭১ট গ্রাম আছে এবং জগন্নাথাধিষ্ঠিত রাজধানী পুরী, পিপলী ও ভুবনেশ্বর নগরই প্রধান । [ তৎতৎশব দ্রষ্টব্য । ] প্রায় ১• শতাব্দ কাল পর্য্যস্থ এখানে বৌদ্ধধৰ্ম্ম প্রবল ছিল । সন্ন্যাসিদিগের গুহাবাস, পৰ্ব্বতীয় তা বাসবাটিক ও শিলাtলপিই তাহার নিদর্শন। খগুগিরি নামক পৰ্ব্বতই বৌদ্ধকাৰ্বিক্ষেত্রের প্রধান স্থান । সপ। গুহ, হস্তী ও ব্যাঘ্র-গুই এবং রাণীমুর নামক দ্বিতল বৌদ্ধসঙ্ঘ প্রভৃতি বহুতর বেীন্ধকীৰ্ত্তি বাহির হইয়াছে। ঐ সকল কীৰ্ত্তি গুলি তিনটী বিশিষ্টযুগে নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। ১ম যুগ-বস্তুপশুর বাসার ছায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুহা—বৌদ্ধ, ভিক্ষুক যোগীদিগের গ্রার্থনামন্দির। ২য় যুগ—এই সময়ে পরস্পরের সন্মিলন-স্থান ও সুন্দর মন্দিরাদি নিৰ্ম্মিত হয়। ৩য় যুগ-জাকজমকশালী বাটিকা ও মন্দিরাদির নিৰ্ম্মাণকাল। রাণীমূর-প্রাসাদ ইহার নিদর্শন। উক্ত সত্য XI 〉bペ [ १२¢ ] b পুরী মন্দিরে স্থাপয়িতার চিত্রিত লীলা খোদিত আছে। স্বৰ্য্যপূজার নিদর্শনভূমি কোণার্কের ধ্বংসাবশিষ্ট মন্দির এখনও উড়িষ্যার উপকূলে বিদ্যমান রহিয়াছে। - অধিবাসিগণ স্বভাবতঃই দরিদ্র। বেশভূষা সামান্ত এবং দারিদ্রব্যঞ্জক। জেলার দক্ষিণাংশবঠা ধনবান ব্যক্তিগণ কর্ণে ও গলদেশে কণ্ঠহারাদি অলঙ্কার পরিধান করে। ইহাদের গৃহবাস অবস্থা অনুসারে নিৰ্ম্মিত হইয় থাকে। এখানকার খাদ্যদ্রব্যাদিও নিতান্ত মূল্যবান নছে । পুরী মধ্যে যে সমস্ত প্রসাদ দেখা যায়, তাহ খাইতে তৃপ্তি জন্মিলেও তাহ বিশেষ রুচিকর নহে । বালক বালিকাগণের বিদ্যাশিক্ষার্থ এখানে মহাত্মা সর জর্জ ক্যাম্বেলের উৎসাহে প্রায় ২ হাজার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। এতদ্ব্যতীত সংস্কৃত চর্চার জন্ত আরও একটী বিদ্যালয় আছে । সাধুসমাগমের স্থান পবিত্র ঐক্ষেত্রধামেও বিভিন্ন শঙ্করাদি সাম্প্রদায়িক সন্ন্যাসিগণের মঠ দেখা যায়। ঐ সকল মঠ শাস্ত্রাদি অালোচনা ও সাধু প্রসঙ্গের একমাত্র পুণ্যময়স্থান এবং ঐ এক এক মহন্ত এক এক মঠের অধিকারী। ২ উক্ত জেলার উপবিভাগ। ভূপরিমাণ ১৫৩• বর্গমাইল । ৩ পুরীর প্রধান নগর বা জগন্নাথক্ষেত্র । অক্ষা” ১৯° ৪৮' ১৭' উঃ এবং দ্রাঘি” ৮৫° ৫৬ ৩৯র্ণ 었: 1 ষ্টার্লিং সাহেবের ইতিহাসপাঠে জানা যায় যে, ১৮২৪ খৃঃ তাদে এখানে ৫৭৪১টা বাসবাৰ্টী ছিল, এখন উত্তরোত্তর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছে । পুরী নগরট নিতান্ত ক্ষুদ্র নহে। পবিত্র ঐক্ষেত্রের সীমা হাইয়া ইহার আয়তন ৬৫ • • বিঘা। যাত্ৰিগণের সুবিধার জন্য এখানে অনেক বাসাবাটী আছে। ঘর গুলি ছ'চাবাশে নিৰ্ম্মিত। সমুদ্রতীরবর্তী বালুকাময় স্ত,গের মধ্য দিয়া নগরের জল সম্পূর্ণরূপে নিৰ্গত হয় না বলিয়া এবং পথগুলি অল্প পরিসর থাকায় এখানকার স্বাস্থা তত ভাল নয় । এজন্য সময় সময় এখানে জলধি উৎকট পীড়া অগিয়া দেখা দেয় । বিশেষতঃ রথযাত্র, রাসযাত্র, স্নানযাত্রা ও ঝুলনযাত্রী প্রভৃতি পদে এখানকার লোকসংখ্যা এত অধিক হয় যে পরম্পরের শারীরিক উত্তাপ এবং মূত্রপুরাধাদি ত্যাগে এখানকার জলবিয়ু খারাপ হইয়া গড়ে । সঙ্গে সঙ্গে মড়ক আসিয়াউপস্থিত হয় । জগন্নাথদর্শনাভিলাষী কত শত তীর্থযাত্রী তাকালে সমুদ্রগর্ভে নিক্ষিপ্ত হইয়া থাকেন, তাহা মিরূপণ করা কঠিন । এই অকালঘুতু্য নিবারণের জন্ত বদ্ধপরিকল্প ইংরাজকৰ্ম্মচারিগণ তিনটা উপায় অবলম্বন করিয়াছেন— ১ম-নিয়মিত সংথ্যার অতিরিক্ত লোক না আসিতে দেওয়া, ২য় – পথে কোন বিপদাপর্ণ না ঘটে, তাছার উপর লক্ষ্য রাখা, ৩য়-যাহাঁতে নগর মধ্যে কোন দেশব্যাপক দোলযাত্রা,