পাতা:বিশ্বকোষ একাদশ খণ্ড.djvu/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Fr비 পলাশবৃক্ষের ত্বক কাটিয়া দিলে অথবা স্বভাবতঃই ইহার গাত্রে ছিদ্র হইয়া একপ্রকার আটাবৎ নিৰ্য্যাস বাহির হয় । উহা সাধারণে চুনিয়া-গদ বা বেঙ্গল-কিনো, এবং উত্তরপশ্চিমপ্রদেশে কামারকস, বোম্বাই অঞ্চলে চিনিয়া-গঁদ, পলাশ-কিগদ, কিনিয়া-গদ নামে প্রসিদ্ধ । যখন বৃক্ষগাত্র হইতে এই নিৰ্য্যাস বাহির হইতে থাকে, তখন ইহা লালবর্ণের মটরের আকৃতির স্থায় দেখা যায়। প্রথমে ইহা কাঁচবৎ স্বচ্ছ থাকে। কিছুদিনের পুরাতন হইলে উহা অস্বচ্ছ ও ক্রমশঃই গাঢ়বর্ণের হইয়া থাকে। অতঃপর অtটার গোলদানাগুলি আপনাপনি ভাঙ্গিতে সুরু হয়। ইহা ধারকতা গুণবিশিষ্ট এবং চৰ্ম্মাদিতে কস্ লাগাইবার জষ্ঠ ইহা বিশেষ উপযোগী । শুষ্ক আটা অল্প চাপে গুড়াইয়া যায় এবং জলে ডিজাইয়। উহ! পরিস্কার করিতে হয় । জলে এই গদ উত্তমরূপে মিলাইয়া পরে তাহাতে পারসলফেট্‌-অফ-আইরণ (Per৪ulpbate of iron) ঢালিয়া দিলে উহার বর্ণ সবুজ হইয়া যায়। উহাতে কোনরূপ অম্ল দিলে মিশ্রিত জলের বর্ণ কমলানেবুর রঙ্গের মত হয়, কষ্টিক-পটাশযোগে উছার বর্ণ সিন্দূরের মত লাল হয়, অধিক প্রয়োগে ক্রমে ধূসর হইতে রঙ্গ পুনরায় পাতল হইয়া আইসে । কষ্টক-সোড ও এমোনিয়াযোগে ইহার বর্ণ স্তর ঘটে । কার্ব নেট-অফ-পটাশ ও সোডা দিলে ইহার বর্ণ গাঢ় হয় ; কিন্তু t কাপাস, রেশমী বা পশম বস্ত্রে উহার রঙ্গ পাক হইয়া বসে না । এই গদ অালোকে ধরিলে আস্তে আস্তে পুড়িয়া ছাই হইয়। যায় ; কিন্তু কোনরূপ গন্ধ বাহির হয় না । মুখের মধ্যে ধরিলে উহা স্বতঃই নরম হইয় থাকে ; কিন্তু আগুণে তাতাইলে অপেক্ষাকৃত শক্ত ও গুড়া হইয়া যায় । ভারতবর্ষে ও যুরোপখণ্ডে ইহার গদ ধারকতা গুণযুক্ত ঔষধরূপে প্রয়োগ হইয়া থাকে । বস্ত্রাদি রঙ্গ করিতে ও কস দ্বার। চৰ্ম্ম পরিস্কার করিতে ইহার ব্যবহার দেখা যায় । নীল ( Blue-indigo ) খিতাইয়া পরিস্কার করিতে ইহার অধিক প্রয়োজন হয় । কাগজ প্রস্তুতের উপকরণ মধ্যে ইহা আটারূপে ব্যবহার করিলেও করা যাইতে পারে । চৰ্ম্মপ্রস্তুতকালে ইহাতে চৰ্ম্ম বেশী নরম হয় না, কেবল পাকা রঙ্গ ধরে মাত্র। ইহার পুষ্প হইতে উত্তম ও উজ্জল পীতবর্ণের রঙ্গ প্রস্তুত হয়। চৈত্র ও বৈশাখে পুষ্প প্রস্ফুটিত হইলে তাহা কুড়াইয়। রৌদ্রে শুকায়, কখন বা সেই শুধপুষ্প গুড়া করিয়া রাখে। ঠাণ্ডাজলে ঐ গুড় নিক্ষেপ করিলে অথবা উত্তপ্ত জলে ফুটাইলে উৎকৃষ্ট রঙ্গ বাহির হয়। বিভিন্ন বস্তুর সহযোগে পলাশ হইতে নানাপ্রকার রঙ্গ পাওয়া যায়। শুদ্ধ পলাশপুষ্পের রঙ্গে কাপড় রঙ্গ হয়। কখন কখন এলকালি, ফটুকিরি, চূণ অথবা [ १8 ] পলাশ সাজিমাট ( Wood-ash ) দ্বারা উত্তমরূপে কাপড় সিদ্ধ করিয়া পরে উক্ত দ্রব্যাদি মিশ্রিত পলাশপুষ্পের রঙ্গে তাহা ভুবাইয়৷ রাথিতে হয়। জলমধ্যে বস্ত্র কিছুকাল সিক্ত হইলে, তাহা তুলিয়া লইয়া ঐ রঙ্গ মিশ্রিত জল অগ্নিতে ফুটাইয় অৰ্দ্ধেক মারিতে হইবে । অতঃপর জল ঠাও হইলে, তাহাতে কাপড় পুনরায় ডুবাইয়া দিতে হয়। বর্ণের অল্পত নিবন্ধন জল পুনরায় উত্তপ্ত করিয়া রঙ্গের সামঞ্জস্ত নিরূপণ করিয়া লইবে, অবিশুক মত রঙ্গের জল গাঢ় দৃষ্ট হইলে, উহা নামাইয়া কাপড় ভিজাইয়া লইবে । পলাশপুষ্পের রঙ্গে রঞ্জিত বস্ত্র হিন্দুর আদরের জিনিস। হোলী ( দোল ) পর্বোপলক্ষে ভারতবাসী হিন্দুগণ পলাশ রঞ্জিত রক্তাভ-ছরিদ্র। বর্ণের বস্ত্র পরিধান করিতে ভালবাসে। সাজিমাটি, ফট্‌কিরি প্রভৃতিতে রঙ্গের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। পলাশপুষ্পে হরসিংহার ( Nyctanthes Arbor-tristis ), việrt{ (Bixa Orellana ) Sitz I ErfFS ( Morinda Tinctoria ), FT ( Curcuma longa), <*A (Ctesalpinia Sappam), &fèfè ëfëçr মিশাইলে পলাশপুষ্পের হরিদ্রাবর্ণ বৃদ্ধি করে । গমবেদকং ( Plecospermum Spinosum ) zitą F sitĘ osoitet HC:st মিশাইয়া রেশম চুবাইলে উজ্জ্বলতা ও দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে । রঙ্গ তরল (ফিক ) করিতে হইলে হরি বা হর ( Terminalia chebula), crta (Symplocos racemosa ) s četvrt( Garcinia pedunculata) zięfs Efg" fil-fēts stín পার্থক্য লক্ষিত হয়। টাটুকা পুষ্পের রসে ফট্‌কিরিমিশ্রিত জল ঢালিয়া দিলে উহ। পরিস্কার হইয়া যায়। পরে ঐ মিশ্রিত রঙ্গ কোন পাত্রে রাখিয়া রৌদ্রের উত্তাপে শুকাইয়া লইলে, উহার বর্ণ গাম্বোজ’ ( Gamboge ) অপেক্ষ উৎকৃষ্ট দাড়ায় । ইহার ফুল হইতে প্রাপ্ত হরিদ্রাবর্ণে একপ্রকার আবির প্রস্তুত হয় । হোলী উৎসবে উহা ব্যবহৃত হইয়া থাকে। শৃঙ্গার বীজ ময়দার মত গুড়াইয় তাহাতে গুলেলা রঙ্গ মিশাল দিতে হয় । উহা অাবীর নামে খ্যাত । [ আবীর দেথ । ] এই বুক্ষের আঁইসে (Fibres) দড়ি ও কাগজ প্রস্তুত হইয়া থাকে। কচি শিকড় হইতে যে সুতার স্তায় আঁইল পাওয়া যায়, ছোটনাগপুর মধ্যপ্রদেশ, অযোধ্যা, রাজপুতান ও বোম্বাই প্রভৃতি পাৰ্ব্বত্য-প্রদেশে উহাতে দড়ি প্রস্তুত হয়। উহার কাষ্ঠ হইতে দেশী চন্দনকাষ্ঠ প্রস্তুত করা যাইতে পারে। পলাশ-পাপড়া বা পলাশ-বাঁজে একপ্রকার স্বচ্ছ ও নিৰ্ম্মল তৈল (কোথাও কোথাও মুছগ-ভৈল নামে খ্যাত ) প্রস্তুত্ত হয় । ঔষধীর্থ উহার ব্যবহার দেখা যায়। পূর্বেই উল্লেখ করিয়াছি, ইহার নির্যাসে ধারকতা-গুণ