পাতা:বিশ্বকোষ চতুর্দশ খণ্ড.djvu/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মন্ত্ৰ , 婦 ও আনন্দধাম । ইহার উপটু দেশে বিশুদ্ধ চক্র নামে ষোড়শ পদ্ম রক্রিয়াছে। এই ষোড়শ দলে ধুম, বর্ণ ষোড়শ স্বরবর্ণ বিদ্যমান আছে, এই পদ্ম মহাপ্রভাল্প সমুজ্জ্বল। এই পদ্ম জীবের হং সঃ মন্ত্র জপকে বিশুদ্ধ করিয়া দেয়, অর্থাৎ হংসঃ হইতে সোংহং ; সোহহং হইতে ওঁ, এইরূপে পরিণত করে । এই নিমিত্তই ইহার নাম বিশুদ্ধ পদ্ম ; ইহাকে আকাশচক্রও কহে । ইহার উপরি দেশে ক্রদ্বয়ের মধ্যে আত্মা কর্তৃক অধিষ্ঠিত মোজ্ঞাচক্র রহিয়াছে। এই স্থানে গুরুর আজ্ঞা সংক্রামিত হয় বলিয়া ইহাকে আজ্ঞাচক্র কছে । ইহার উৰ্দ্ধদেশে কৈলাসপুরী ও বোধনী চক্র বিদ্যমান । প্রথমে মন্ত্রের পুরক দ্বারা মূলাধারে মনঃ সংস্থাপিত করিতে হইবে গুহদেশে ও মেঢ়,দেশের মধ্য স্থলে মূলধরে যে কুওলিনী শক্তি রহিয়াছেন, ঐস্থান আকুঞ্চিত করিয়া তাহাকে জাগরিত করিতে হয়। পরে ব্রহ্মগ্রন্থি, বিষ্ণুগ্ৰন্থি ও রুদ্রগ্রন্থি ভেদসহকারে স্বয়স্কৃলিঙ্গ, বাণলিঙ্গ ও অন্যান্য লিঙ্গ ভেদপুৰ্ব্বক ঐ কুওলিনী দেবীকে বিন্দুচক্রে লহয়। যাইতে হইবে। পরে তাহা হইতে উখিত লাক্ষরলসদৃশ যে অমৃত রস উৎপন্ন হইবে, তদ্বারা কৃষ্ণা নাম যোগসিদ্ধিদায়িনী দেবীর তপণ করিয়া ব্ৰহ্মা,বিষ্ণু, রুদ্র, ঈশ্বর, সদাশিব, পরশিব, সাবিত্ৰী, মহালক্ষ্মী, ভদ্রকালী, ভুবনেশ্বরী, ডাকিনী, রাকিণী, লাকিনী, কাকিনী, হাকিনী প্রভূতি যট্‌চক্রস্থিত দেবতার তপণ করিতে হইবে । অনস্তর মন্ত্রসাধক সেই স্বযু মাপথ দ্বার। কুলকুণ্ডলিনীকে পুনৰ্ব্বার মুলাধারে আনয়ন করিবে। এই রূপ প্রতিদিন মন্ত্রযোগ অভ্যাস করিলে জরামরণ প্রভূতি কোন ভয়হ থাকে না । এই রূপে উপযুক্ত গুরুর নিকট মন্ত্রযোগ অভ্যাস করিলে দুষিত মন্ত্র সকলও সিদ্ধ হয়, ইহাতে কিছু মাত্র সন্দেহ নাই। হ'ছাহ মন্ত্রঘোগ । এইরূপ মন্ত্রযোগ সিদ্ধ ছহলে সাধক মহাদেৰের স্থায় গুণ সম্পন্ন হন। এই মন্ত্রযোগ অবলম্বন করিয়া নিম্নোক্তরূপে ধারণ৷ করিতে হইবে । যিনি যে দেবতার মন্ত্রের সাধনা করিবেন, তিনি দিককালাদির অনবচ্ছিন্ন সেই দেবে চিত্ত-সমর্পণপূৰ্ব্বক জীব গ্রহ্মের ঐক্য করিয়৷ তৎক্ষণাৎ তন্ময় হইয়া যাহবেন। যদি সাধকের চিত্ত নিৰ্ম্মল না হয়, তাহ হইলে শাস্ত্র সিদ্ধ হইতে পারিৰে ন । এইরূপ স্থলে মন্ত্রযোগী অবস্থখযোগ দ্বারা অর্থাৎ ষে কোন অবয়বে চিত্তসমাধান দ্বারা যোগ অভ্যাস করিবে। সাধক নিজ নিজ ইষ্টদেবতার শরীরে এইরূপে মনোনিবেশ করিয়। ধারণা অভ্যাল কৱিবে । মন্ত্রযোগী ষে কোন ইষ্ট মন্ত্র অবলম্বন করিয়৷ জপ, জোম প্রভৃতির অমুষ্ঠান কল্পিবেল। ইহা [ S&8 } মন্ত্র - - अङ्गणकाङ्क्-िक्र-अ_ ভিন্ন তাহার আর.অল্প কিছুই অবগুকৰ্ত্তৰ কৰ্ম্ম নাই। যে সময় সাধক পরম তত্ত্ব জ্ঞাত হইতে পরিবেন, তখন আর র্তাহার পক্ষে কোন বিধিনিষেধই থাকিবে না। মন্ত্ৰযোগের প্রকারাত্তর শারদাতিলকে লিখিত আছে,— “ষপ্লবত্যজুলায়ামং শরীরং উভয়াত্মকম্। গুদধ্বজান্তরে কন্দমুংসেধাদ্যস্কুলং বিদু: ॥” (তন্ত্রসার) । শিব ও শক্তি এই উভয়াত্মক শরীর যুবতি অঙ্গুল দীর্ঘ। গুহদেশ ও ধ্বজের মধ্যস্থলে দুষ্ট অঙ্গুলি উন্নত একটা পথ অাছে। ইহার বিস্তার তাহার দ্বিগুণ,এই পথ গোলাকার। এই মুলাধার হইতে যে সমুদায় নাড়ী উদগত হইয়াছে, তন্মধ্যে তিনটী নাড়ী প্রধান। ইহার মধ্যে বামদিকে যে নাড়ী আছে, তাহার নাম হড়া, দক্ষিণদিকে যে নাড়ী আছে তাছার নাম পিঙ্গল, মধ্যস্থলে যে নাড়ী আছে তাহার নাম স্বযুম্না । এই স্বযুম্ন। মেরুদও আশ্রয় করিয়া রহিয়াছে। স্বযুম্ন। নাড়ী শিখা দ্বারা পাদাঙ্গুষ্ঠযুগলে এবং শির। দ্বারা উদ্ধ ব্ৰহ্মস্থান পর্য্যন্ত গমন করিয়াছে। এই নাড়ী চন্দ্র, স্বৰ্য্য ও অগ্নিস্বরূপ। এই স্বযুম্ন। নাড়ীর মধ্যে চিত্রা নামে এক নাড়ী আছে, ইহার মধ্যে পদ্মসূত্রসদৃশ ব্রহ্মরন্ধ রহিয়াছে। এই নাড়ীতে সমুদয় আধার বিদ্যমান। ইহাই দিব্যমাৰ্গ, স্থস্থ। দ্বারা অমুতানন্দ ভোগ করা যায় । আধারপদ্মের মধ্যস্থলে একটা অতি স্বল্পর ত্রিকোণ মণ্ডল আছে, এই ত্রিকোণমণ্ডল দিব্য ও জ্যোতিৰ্ম্ময় । উছাতে সকলের আত্মস্বরূপ। বিদ্যুল্লতাসদৃশ পরমদেবতা কুওলিনী অৰস্থান করিতেছেন । তাহার আকার নিদ্ৰিত সৰ্পের দ্যায় । এই কুওলিনী শক্তি হংস আশ্রয়পুৰ্ব্বক জীবাত্মাকে ধারণ করিয়া রহিয়াছেন। হংস-ও প্রাণকে আশ্রয় করিয়া আছে । পুরোক্ত নাড়াপথও প্রাণবায়ুর আশ্রয় । সমুদায় ব্যক্তির মুলাধার হইতে যথাবিধানে বায়ু উদগত হইয়া নাড়াপথে গমনপুৰ্ব্বক শরীর হইতে বহির্দেশে গমন করে । এই প্রাণৰায়ুর পারমাণ সচরাচর দ্বাদশাঙ্গুল মাত্র। সাধক মুরম্য মৃদ্ধ আসনে ৰিশুদ্ধ ৰক্স ও কুশাদি বিস্তার করিয়া মন্ত্রযোগ অভ্যাস করিবেন। আরম্ভের সময় তিনি প্রাণবায়ু দ্বারা যথাবিধানে দেহে ভূতোদয় পরিজ্ঞাত হইবেন। পরে দৃঢ়তার নিমিত্ত দেহে সেই সেই ভূতের অর্চনা করিৰেন। মন্ত্রযোগাভ্যাসের সময় সমাহিতম্বদয়ে অঙ্গুলি দ্বারা ইস্ক্রিয় সমুদয় দৃঢ়ৰূপে রুদ্ধ করিবে । অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা উভয় কর্ণ, তর্জনীদ্বয় দ্বারা উভয় লোচন, মধ্যমাদ্বয় দ্বারা উভয় নাসারভূ, ও অবশিষ্ট অঙ্গুলি দ্বারা বদন দৃঢ়ৰূপে রুদ্ধ করিয়া ইঙ্গিয় সমুদয় প্রাণ ও মনের একতা অম্বুধ্যানপুৰ্ব্বক বায়ু ধারণ করবে। ইহ।