পাতা:বিশ্বকোষ ত্রয়োদশ খণ্ড.djvu/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বুদ্ধদেব — ইহার মধ্যে তিনি ৮৩ বার সন্ন্যাসী, ৫৮ বার মহারাজ, ৪৩ বার ; বৃক্ষদেবতা, ২৬ বার ধৰ্ম্মোপদেশক, ২৪ বার রাজামাতা, ২৪ বার পুরোহিত ব্ৰাহ্মণ, ২৪ বার যুবরাজ, ২৩ বার ভদ্রলোক, ২২ বার পণ্ডিত, ২ • বার ইঞ্জ, ১৮ বার মৰ্কট, ১৩ বার বণিক, ১২ বার | ধনী, ১• বার যুগ, ১• বার সিংহ, ৮ বার হংস, ৬ বার হস্তী, । ১২ বার কুকুট, ৫ বার স্তৃতা, ৫ বার সোপর্ণ গরুড়, ৪ বার অখ, । ৪ বার বৃক্ষ, ৩ বার কুস্তকার, ৩ বার অস্ত্যজ জাতি, ১ বার মৎস্ত, ২ বার হস্তিপক, ২ বার ইলুর, ১ বার কুকুর, ১ বার সর্পচিকিৎসক, ১ বার স্বত্রধর, ১ বার কৰ্ম্মকার, ১ বার ভেক, , ১ ধার শশক ইত্যাদিরূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন । উপরে যে তালিকা প্রদত্ত হইল উল সম্পূর্ণ তালিকা নহে। ] গৌতম বুদ্ধ অসংখ্য জন্ম পরিগ্রহ করিয়াছিলেন। সে সকলের | আমূল বৃত্তান্ত সংগ্রহ কর নিতান্ত দুরূহ। তিনি এক একজন্মে । এক একপ্রকার সংকৰ্ম্মের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন। কোন | জন্মে দাসা, কখনও শীলতা, কোন সময়ে নৈক্রম, কখন বা । প্রজ্ঞ এবং সময়াস্তরে বীর্থ, ক্ষান্তি, সত্য.. অধিষ্ঠান, মৈত্র ও | উপেক্ষ এই সকল সদগুণের পরাকাষ্ঠী প্রদর্শন করিয়াছিলেন । উদ্ধৃত দশটা গুণের নাম দশ পারমিতা। গৌতম কখনও সাধারণভাবে এই দশ পারমিতার অনুষ্ঠান করিতেন। যখন তিনি সমধিক যত্নে এই সকলের অনুষ্ঠান করিতেন, তখন ঐ সকলের } গুণ উপপারমিতা নামে অভিহিত হষ্টত। আর যখন তিনি | অতীব নৈপুণ্যের সহ ঐ সকল সম্পা করিতেন, তখন উগই । পরমার্থ পারমিী বলিয়া গণ্য হইত। - গৌতমযুদ্ধ খদিরাঙ্গার-জন্মে নিজের চক্ষুঃ, মস্তক, মাংস, সস্তান, স্ত্রী ও সৰ্ব্বস্ব বিতরণ করিয়া দানপীরমিতার (১) অনু- ! ষ্ঠান করেন । ভূমিদত্ত জন্মে তিনি ত্ৰিবিধ শীলপারমিত (২) সম্পন্ন করেন। ক্ষুদ্র সুপ্ত সোমজন্মে তিনি কাঞ্চন, মণি, মাণিক্য, দাস ও দাসী ইত্যাদি ত্যাগ করিয়া সন্ন্যাসধৰ্ম্ম গ্রহণ । করেন এবং এই জন্মে তাঙ্কার নিক্রম পারমিতা (৩) অঙ্গুষ্ঠিত श्छ। असुख्ख्। अन्त তিনি প্রজ্ঞা পারমিতা (৪) সমাচরণ করেন । মহজনক জন্মে তিনি ধীর্ঘ্য পায়মিতার (৫) পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন । ক্ষান্তিবাদ জন্মে তিনি লোকের অস্থায় ও নিচুর ব্যবহার অমানচিত্তে সৰু করিয়া ক্ষান্তিপারমিতার (৬) ; উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখাইয়াছিলেন। মহামুগু সোমন্বয়ে তিনি । সতgীয়মিত (৭, তেমিজন্মে তিনি অবিচলিত প্রতিজ্ঞায় শ্রেয়- ; ধৰ্ম্মের অনুষ্ঠান করিয়া অধিষ্ঠান পারমিতা (৮) ও তিনি নরজন্মে শত্রু ও মিত্র, উপকারী ও অপকারী, জ্ঞাতি ও অপরিচিত প্রভৃতি সকলের সমভাব প্রদর্শন করিয়া মৈন্ত্ৰী (৯) এবং চিত্তের আবিষম ভাৰ বা উপেক্ষা পায়মিতা (১০) প্রদর্শন করেন। هرم ] } বুদ্ধদেব এক একটা পারমিতার সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান করিতে বুদ্ধ দশটা পরিমিতাবিশেষ নৈপুণ্যের সহ নিম্পন্ন করিয়াছিলেন বলিয়া র্তাহার নাম “দশভূমীশ্বর” হইয়াছিল। কৰ্ম্মের বিচিত্র পরিণামবশতঃ গৌতমবুদ্ধ নানা জন্ম পরিগ্রহ করিয়াছিলেন বটে ; কিন্তু তিনি কখনও অসৎকর্মের অনুষ্ঠান করেন নাই। তির্যাগ যোনিতে সমুদ্ভূত হইয়াও তিনি বুদ্ধোচিত কৰ্ম্মের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন। নিম্নে বুদ্ধদেবের যে কয়েকটা জন্মের বিষয় বিবৃত হইল, উহা পাঠ করিয়া সকলেই বুঝিতে পরিবেন, বৌদ্ধচরিতাখ্যায়কগণের বিশ্বাস, গৌতমবুদ্ধ পশ্বাদি জাতিতে জন্মিয়াও সত্য, ক্ষান্তি ইত্যাদি ধৰ্ম্ম হইতে বিচলিত হন নাই। মৰ্কটজন্ম –প্রজ্ঞাপারমিত । এক সময়ে গৌতম মৰ্কটরূপে জন্মগ্রহণ করিয়া ৮• • • • মর্কটের অধিপতিত্ব লাভ করিয়াছিলেন । হিমালয়ের প্রত্যন্ত প্রদেশে বনখণ্ড মধ্যে র্তাহার রাজ্য অবস্থিত ছিল । তাহার সাম্রাজ্যের সমীপে কোন ক্ষুদ্র গ্রামে একটা প্রকাও তেঁতুলের গাছ ছিল। মৰ্কটগণ ঐ গাছের তেঁতুল খাইবার জন্ত অভিলাষ প্রকাশ করিলে গৌতম তাহাদিগকে বলিলেন,—“হে মৰ্কট-প্রজাগণ, তোমরা শিষ্টত ত্যাগ করিও না। ঐ তেঁতুলের গাছটা গ্রামবাসিগণ বহুষত্নে সংবৰ্দ্ধন করিয়াছে এবং ঐ তেঁতুল যাহাতে শীঘ্ৰ নষ্ট না হয়, তজ্জন্ত উহারা সতর্ক রহিয়াছে।’ মৰ্কটগণ র্তাহার কথায় কোন উত্তর করিল না । পরিশেষে রাত্রিকালে প্রায় ৫০০ মৰ্কট একত্র হইয়া নিঃশব্দে ঐ তেঁতুল খাইতে চলিল। ডাবিল, কেহই জানিতে পারিবে না ; কিন্তু তাহারা তেঁতুল খাইতে থাইতে আত্মবিস্তৃত হইয়াছিল । তাছারা হুপ হপ করিয়া পরস্পরের মনের, হর্ষ প্রকাশ করিতেছিল । তখন গ্রামবাসীরা মৰ্কটের শব্দ শুনিয়া প্রত্যেকে এক একখানি লগুড় লইয়া গাছের তলে আসিল । তাছার স্থির করিল “আমরা প্রভাত পৰ্য্যন্তু এইস্থানে দণ্ডায়মান থাকিব, মৰ্কটগণ বৃক্ষ হইত্তে নামিলেই সকলে মিলিয়া উহাদের প্রাণনাশ করিব।” ক্রমে ঐ সংবাদ মৰ্কটরাজ গৌতমের কর্ণগোচর হইল । তিনি ভাবিলেন, আমার সছুপদেশ সত্বেও মর্কটগণ তেঁতুলের লোভ ত্যাগ করিতে পারে নাই । তাহীদের জীবন এখম ঘোর বিপদাপন্ন। যাহা হউক প্রজাকে রক্ষা করা রাজার কর্তব্য । অতএব কোন উপায় অবলম্বন করিয়া উহাদিগকে রক্ষা করি । তখন গৌতম গ্রামের মধ্যে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন, সেখানে শিশু, বৃদ্ধ, স্ত্রীলোক, সকলেই স্বযুপ্ত। আর গ্রামের বয়স্ক লোক সকল লগুড় লইয়া তেঁতুলগাছের নিকট গমন করিয়াছে, গ্রামের মধ্যে সকলেই নিঃশঙ্ক, কেবল একটা গৃহে