পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/১৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিয়ম সন্তোষ, তৃপ্তি, (বিনা চেষ্টায় যাহা লাভ হইবে ), তাহাতেই পরিতৃপ্ত থাকিতে হইবে, কিছুদিন এই যোগাঙ্গ অনুষ্ঠান করিলে সন্তোষচিত্তে দৃঢ় নিবন্ধ হইয়া থাকে। তপঃ, স্বাধ্যায় ও ঈশ্বরপ্রণিধান—শ্রদ্ধাপূর্বক শাস্ত্রোক্ত ব্ৰতনিয়মাদির অমুষ্ঠান করার নাম তপস্তা। প্রণব প্রভৃতি ঈশ্বরবাচক শব্দের জপ অর্থাৎ অর্থ স্মরণপূর্বক উচ্চারণ এবং অধ্যায়ুশাস্ত্রের মৰ্ম্মানুসন্ধানে রত থাকার নাম স্বাধ্যায়, এবং ভক্তি সহকারে ঈশ্বরার্গিতচিত্ত হইয়া কার্য করার নাম ঈশ্বর-প্রণিধান । এই তিনপ্রকার ক্রিয়ার নাম ক্রিয়াযোগ । তপস্তা ভিন্ন যোগসিদ্ধ হইবার সস্তাবনা নাই। কেন না মকুষ্যের চিত্তে অনাদিকালের বিষয়বাসন ও অবিদ্যা বদ্ধমূল হইয়া রহিয়াছে। তপস্তাব্যতীত তাছার সম্ভাবনা নাই। চিত্তে বাসনা থাকিতে যোগ হইতে পারে না, এই বাসনানাশের জন্য তপস্তী অবগু বিধেয় । এই সকল ক্রিয়াযোগ যুগপদ অনুষ্ঠান করিতে পারিলে ভাল হয়, নচেৎ একটী করিয়া আয়ত্ত করিতে হইবে। এই নিয়মযোগাঙ্গ আয়ত্ত হইলে এক একটী শক্তি লাভ হইয় থাকে। প্রথমে অহিংসাদি প্রতিষ্ঠা হইলে বৈরত্যাগ প্রভৃতি শক্তিলাভ হইয়া থাকে যম দেথ । ] নিয়মের প্রথমানুষ্ঠান শৌচ, এই শৌচ সিদ্ধি দ্বারা তাপন শরীরের প্রতি তুচ্ছ জ্ঞান জন্মে এবং পরসঙ্গেচ্ছাও দুর হয়। বাহুশৌচ অভ্যাস করিতে করিতে ক্রমে আত্মশরীরের প্রতি একপ্রকার ঘুণ উপস্থিত হয়। তথন আর জল-বুদ্ব দতুল্য মরণধৰ্ম্মী ও মলমূত্রাদিময় অন্নবিকার শরীরের প্রতি কোন প্রকার আস্থা বা আদর থাকে না, এবং পরশরীরসংসর্গের ইচ্ছাও নিবৃত্তি হয়। আভ্যন্তর শৌচ আরম্ভ করিলে, প্রথমে [ ১৫৩ ] -- সত্ত্বশুদ্ধি, ক্রমে একাগ্রতা ও আত্মদর্শনক্ষমত হয় । ভাবওদ্ধিরূপ আভ্যন্তর শোচ যখন চরমসীমা প্রাপ্ত হয়, অস্তঃকরণ তথন এরূপ অদ্ভূতপূৰ্ব্ব সুখময় ও প্রকাশময় হয় যে, তখন কিছুতেই খেদামুভব হয় না । এই পূর্ণ পরিতৃপ্ততার নামান্তর সোমনস্ত। সোঁমনস্ত জন্মিলে একাগ্রতা-শক্তি প্রাছভূত হয়, অথবা সহজ হইয়া আইসে । একাগ্রতা-শক্তি জন্মিলে ইন্দ্ৰিয়ঞ্জয়, ইন্দ্রিযুজয় হইলেই চিত্ত তখন আত্মদর্শনে সক্ষম হয়। সন্তোৰ অভ্যস্ত হইলে যোগী একপ্রকার অনুপম মুখ প্রাপ্ত । হয় । সে সুখবিধয় নিরপেক্ষ, সুতরাং সেই মুখ নিরতিশয়। -- তপস্তাক্রমে দৃঢ় হইলে তপোনিষ্ঠ হয় । শ্রদ্ধাভক্তি সহকারে তদগতচিত্ত হইয়া কৃচ্ছত্রতপ্রভৃতি শাস্ত্রবিহিত তপস্তায় প্রত থাকিলে, ক্রমে তখন শরীর বা মনের শক্তি প্রতিবন্ধক জ্ঞানের আবরণ নষ্ট হইয়া যায়। মুতরাং তখন সেই তপঃসিদ্ধযোগী ! শরীরের ও ইঞ্জিয়ের উপর যথেচ্ছারপে ক্ষমতা পরিচালন | X | | i { "9:్స নিয়ম করিতে পারেন। তখন তিনি আপন শরীরকে ইচ্ছাক্রমে অতুল্য বা বৃহৎ করিতে পারেন। তখন ইঞ্জিয়গা চৰ্ম্মচক্ষুর অতীত, স্বাদপি সূক্ষ্মতম পদার্থে ও সুদূরবর্তী পদার্থে সংযুক্ত করিতে পারেন । স্বাধ্যায়ের উৎকর্ষ হইলে, ইষ্টদেবতা সমর্শন হয়। সংযতচিত্ত হইয়া সৰ্ব্বদা প্রণবজপ, ইষ্টমন্ত্রজপ, ইষ্টদেবতার স্তব-পাঠ কিংবা অন্য কোনরূপ শাস্ত্রবাক্য পাঠ করিতে করিতে ক্রমে যখন তাহ পরিপক অবস্থা প্রাপ্ত হয়, তখন সেই স্বাধ্যায়নিষ্ঠ বা জপাদিপরায়ণ যোগির ইষ্টদেবতা সনাশন হইয়া থাকে । ঈশ্বর-প্রণিধান—ঈশ্বরে চিত্ত-নিবেশ যখন পরিপক্কত প্রাপ্ত হয়, তখন অস্ত কোন সাধন না করিলেও উৎকৃষ্টতর সমাধি লাভ হয়। ঈশ্বরপ্রণিধাতা যোগির যোগলাভের নিমিত্ত অন্য কোনরূপ যোগাঙ্গ অবলম্বন করিতে হয় না। একমাত্র ভক্তিবলেই তিনি ঈশ্বরে সমাহিত হন । ভক্ত ব্যক্তি কেবল তক্তি দ্বারাই ঈশ্বরকে উদ্বোধিত বা প্রসন্ন করিয়া তদীয় অনুগ্রহের তেজে আত্মক্লেশ দগ্ধ ও বিস্ত্রসমূহ বিনাশ করিয়া নিম্প্রতিবন্ধকে সমাহিত ও যোগফল প্রাপ্ত হন । নিয়মযোগাঙ্গ অনুষ্ঠান করিলে এই সকল ফললাভ হইয়া থাকে । ( পাতঞ্জলদ" সাধনপা” ) "নিয়মাঃ পঞ্চসত্যাদ্য বাহমাভ্যন্তরং দ্বিধা । শৌচং তুষ্টিশ্চ সন্তোষন্তপশেচক্ৰিয়নিগ্ৰহঃ ॥ স্নানমেনোপবাসেজ্যাস্বাধ্যায়োপস্থনিগ্ৰহঃ । তপোহক্রোধোগুরে ভক্তিঃ শৌচঞ্চ নিযমীঃ স্মৃতীঃ ॥ যমাঃ পঞ্চাথ নিযমাঃ শৌচং দ্বিবিধর্মীরিতং । সন্তোষপ্তপসাং জপ্যং বাসুদেবর্চিনং যমঃ ॥” ( গরুড়পু ) শৌচ, তুষ্টি, সন্তোষ, তপস্তা, ইন্দ্ৰিয়নিগ্রহ, স্নান, মোন, উপবাস, ইজ্যা, স্বাধ্যায়, উপস্থনিগ্রহ অর্থাৎ ব্রহ্মচর্যা, অক্রোধ, গুরুভক্তি ও শৌচ এই সকল নিয়ম। বিষ্ণুপুরাণে লিখিত আছে,—যোগী আপনার মনকে তত্ত্বজ্ঞানের উপযোগী করিবার জন্ত, নিষ্কামভাবে ব্রহ্মচৰ্য্য, অহিংসা, সত্য, অস্তেয় ও অপরিগ্রহ এই পঞ্চ যম এবং স্বাধ্যায়, শৌচ, সন্তোষ, তপস্তা ও ঈশ্বরপ্রণিধান এই সকল নিয়ম অনুষ্ঠান করিবেন । ( বিষ্ণুপু ৬ অংশ ৭ অ” ) তন্ত্রসারে লিথিত আছে,— “তপঃ সন্তোষ আস্তিক্যং দানং দেবস্ত পূজনম্। সিদ্ধান্তশ্রবণঞ্চৈব ইন্মতিশ জপোছতম্। দশৈতে নিযমাঃ প্রোক্ত যোগশাস্ত্রবিশারদৈঃ ॥” (তন্ত্রসার ) তপসী, সন্তোষ, আস্তিকা, দান, দেবপূজা, সিন্ধান্তশ্রবণ, স্ত্রী, মতি, জপ ও হোম এই দশট নিয়ম।