পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/১৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিৰ্ব্বাণ [ సిఆ ] নিৰ্ব্বাণ নিবিয়া গিয়াছে, তাহার দেহট মাত্র রহিয়াছে। কিয়ংকাল । পরে স্বয় আসিয়া তাহার দেহের ধ্বংস সাধন করে । তিনি ; নিৰ্পাণ লাভ করিয়া অস্তিত্ব ও নাস্তিবের অতীত হইয়া যান। অর্থর (বুদ্ধত্ব ) ও নির্মাণের পার্থক্য এই যে, অৰ্ছতের নিজের । সত্ত থাকে, কিন্তু নিৰ্ব্বাণলাভ হইলে সত্তার নাশ হয়। নিৰ্ব্বাণ ও অর্থব ( বুদ্ধত্ব ) ইহার কোন অবস্থায়ই রাগ, দ্বেব ও মোহ ! থাকে না । অৰ্হত্ত্ব ( বুদ্ধত্ব )কে সোপাধিশেষ নিৰ্ব্বাণ ও | tলকাশকে অনুপধিশেষ নিৰ্ব্বাণ বলা যাইতে পারে । রামচন্দ্র ভারতী ভক্তিশতক গ্রন্থে লিখিয়াছেন ;- | "সৰ্ব্বপ্রাণীতিপাতাৎ পরধনহরণাৎ সঙ্গমাদঙ্গনায়। মিথ্যাবাদাচ্চ মদ্যাস্তুবতি জগতি যোহকালভুক্তে নিবৃত্তঃ । সঙ্গীতশ্রকৃমুগন্ধাভরণবিললিতাফুক্ষশয্যাসনাদপ্যাসীন্ধীমান্‌স এব ত্ৰিদশনরগুরো তৎস্বতে নাত্র শঙ্কা । | স্রোতাপত্তাদিমার্গান সদবয়বযুতান সুস্তি রাগাদিদোষান | গোযাস্তে ছিন্নমুলা হতভবগতয়স্তৎফলৈৰ্যান্তি শাস্তিম্।” ( ভক্তিশতক ) পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণের নির্বাণিবিষয়ক সমালোচনা । কোন কোন ওস্থে বর্ণিত আছে,--নিৰ্ব্বাণ “শাস্তি ও সুখের আলয়" এবং অন্তান্ত গ্রন্থে দেখিতে পাওয়া যায় "শূন্ততায় লয়ের । নাম নিৰ্ব্বাণ”। এইরূপ পরস্পর বিরোধী মত অবলোকন করিয়া ১৮৬৯ খৃঃ অঙ্গে অধ্যাপক মোক্ষমূলর এই সকল মতের পরম্পর সামঞ্জস্ত সংস্থাপনের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, স্বরাদি গ্রন্থে বুদ্ধের নিজ উক্তি আছে এবং ঐ সকল গ্রন্থের মতে । আত্মার চিরশাস্তিতে প্রবেশের নাম নিৰ্ব্বাণ। পরবর্তী বৌদ্ধ পার্শনিকগণ কুটতর্কাবলম্বনপুৰ্ব্বক অভিধৰ্ম্মাদি গ্রন্থে নিৰ্ব্বাণের যে লক্ষণ করিয়াছেন, তদনুসারে শূন্ততায় লয়ের নাম নিৰ্ব্বাণ । ১৮৭- পৃ অশ্বে অধ্যাপক চাইলডাঙ্গ নিৰ্মাণবিষয়ক ! পরম্পর বিরোধীমতসমূহের একবাক্যতা প্রতিপন্ন করিতে ; যাইয়া বলেন, অৰ্হত্ত্ব (বুদ্ধত্ব ) ও নিৰ্ব্বাণ এই দুই শব্দই নিৰ্ব্বাণ অর্থে বৌদ্ধদার্শনিকগণ ব্যবহার করিয়াছেন । অৰ্হত্ব ও নিৰ্ব্বাণ প্রায় একাধবাচক হইলে ও উছাদের মধ্যে একটু अरङ আছে । অৰ্হত্ব শাস্তি ও মুখের নিদান, কিন্তু সত্তার ধ্বংসই | নির্মাণ। যে সকল স্থলে বৌদ্ধদার্শনিকগণ নিৰ্ব্বাণকে শাস্তির নিকেতন বলিয়া বর্ণন করিয়াছেন, ঐ সকল স্থলে নিৰ্ব্বাণশব্দে অৰ্হত্ত্ব ( বুদ্ধত্ব ) বুঝিতে হইবে । ১৮৭১ খৃঃ অধে জেম্স ডি অলউইস মহোদয় নিৰ্ব্বাণ বিষয়ক নানা গবেষণাপূর্ণ প্রবন্ধে অৰ্হত্ত্ব ও নিৰ্ব্বাণের পরম্পর ভেদসংস্থাপনপূৰ্ব্বক বৌদ্ধগ্রন্থের পরস্পর বিরুদ্ধ বাক্যসমূহের সামঞ্জস্ত রক্ষা করিয়াছেন। বৌদ্ধগ্রন্থসমূহে উপধি শেষ নিৰ্ব্বণি ( অৰ্হত্ত্ব ) এবং অনুপধিশেষ নিৰ্ব্বাণ (নিৰ্ব্বাপ ) উভয়েরই বর্ণনা আছে । মহামতি বার্ণ নিৰ্বাণ, পরিনিৰ্ব্বাণ ও মহাপরিনিৰ্ব্বাণ এই সকল শব্দ অবলোকন করিয়া, উহাদের অর্থগত পরস্পর ভেদ করিয়াছেন ; কিন্তু প্রকৃত পক্ষে উহারা সকলেই সমর্থিক । নিৰ্ব্বাণের আবার অধিকত্ব অল্লত্ব কি ? কোন কোন পাশ্চাত্য পণ্ডিত নিৰ্ব্বাণ ও সুখাবর্তীকে এক বলিয়া প্রতিপন্ন করিতে প্রয়াস পাইয়াছেন । কেহ কেহ বা কামাবচর দেবলোক ও নিৰ্ব্বাণ একই পদার্থ বলিয়া ব্যাখ্যা করিয়াছেন । বস্তুতঃ নিৰ্ব্বাণের প্রকৃত অর্থ বোধগম্য না হওরায়, ঐরূপ অপসিদ্ধান্তের কল্পনা করা হইয়াছে । ডাক্তার রীজ, ডেভিড়সের মতে, চিত্তের পাপশূন্ত স্থির অবস্থাই নিৰ্মাণ। পূর্ণ শান্তি, পূর্ণ জ্ঞান, ও পূর্ণ বিশুদ্ধি এই অবস্থার ফল । স্বপ্রসিদ্ধ ডাক্তার সুগিটউইটু লিখিয়াছেন, যে নিৰ্ব্বাণ সাক্ষাৎকার ও অহল্পলাভ একই কথা । প্রসঙ্গ সম্প্রদায়ের মতে স্বর্গ ও নিৰ্ব্বাণ এই দুইটী পথ বোধিসত্ত্বগণের অবলম্বনীয়। সৎকার্যের অনুষ্ঠান দ্বারা সুখাবতীতে পুর্ণ সুখ ভোগ করা যায় এবং সম্যক্ জ্ঞানের অধিগমে সংসারের উচ্ছেদ ও নিৰ্ব্বাণ লাভ হয় । সত্তার সম্যক ধ্বংস ও সংসারের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ নির্বাণের বিযয়ীভূত । হেনরী আলাবাষ্ঠীর লিথিয়াছেন যে, নিৰ্ব্বাণ শব্দের তার্থ সত্তার ধ্বংস কিনা এবিষয়ে বৌদ্ধগণের মধ্যে মতভেদ আছে । যাহাহউক, ভবিষ্যৎ উদ্বেগ, দুঃথ এবং জন্মের সম্পূর্ণ উচ্ছেদই নিৰ্ব্বাণ । তিনি বলেন, স্যামবাসিগণের মতে নিৰ্ব্বাণ একটী মুখের স্থান, তথায় উদ্বেগাদি কিছুই নাই, ঐ স্থান অতিশয় মনোরম ও পবিত্র। বুদ্ধদেব সংসারের আদি ও অন্ত নিরূপণ করেন নাই। বুদ্ধের মতে, পরিদৃপ্তমান জড়জগৎ দুঃখময়, সুতরাং উহা হইতে সম্পূর্ণ বিমুক্তিলাভ নিতান্ত প্রার্থনীয়। এই দুঃখময় জগতের উচ্ছেদই নিৰ্ব্বাণ। রেভারেও বিল চীনদেশীয় বৌদ্ধ মত সমালোচনা করিয়া লিথিয়াছেন, নানার্জুনের প্রজ্ঞামূলশাস্ত্রটকার মতে যাহা অপ্রাপা, ক্ষণিকত্ব ও শাশ্বতিকত্বের অতীত এবং যাহার উৎপাদ ও নিরোধ নাই, তাহাই নিৰ্ব্বাণ । তাহার সিদ্ধান্ত এই, যাহা কালত্রয়ে অবিকৃত থাকে এবং যাহা দেশবিশেষ দ্বারা পরিচ্ছিন্ন নহে, এরূপ প্রত্যক্ষাতিরিক্ত অবস্থাই নিৰ্ব্বাণ। উহাই তথাগতের স্বরূপ । তাহার মতে, সমগ্রগ্রন্থের সারমৰ্ম্ম এই যে, উপাধির অতিরিক্ত (নিরুপধিশেষ ) অবস্থাই নিৰ্ব্বাণ । রেভারেও ফ্রন্সন তিব্বতীয় বৌদ্ধমত আলোচনা করিয়া