পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারায়ণ মাকাশদি উদ্ভূত হইয়াছে ইহার নাম নায়, এই নারা কারণ স্বরূপে ব্যাপ্ত হয় এই জষ্ঠ নারায়ণ কহে। শ্রুতিতে প্রতিপাদিত হইছে, আত্মা হইতেই আকাশ উদ্ভূত। ‘আত্মন আঁকাশঃ সকৃতঃ' (শ্রতি )। নির আত্মা ততো জাতানি আকাশীদানি নারাণি তানি কাৰ্য্যাণি অয়তে কারণাত্মনা ব্যাপ্লতে নারায়ণঃ ( ভাষ্য) যাহা হইতে তত্ত্ব সকল জাত হর এবং যাহাতেই বিলীন হয়, তাহার নাম নারায়ণ । “নরাজ্জাতানি তত্ত্বানি নারাণীতি বিচুবুধাঃ। তাস্তেবায়নং যন্ত তেন নারায়ণঃ স্থতঃ ॥” ( মহাভারত ) অয়নত্বাদিতি বা প্রলয়ঃ যৎপ্রযস্তাভি সংবিশন্তি ইতিশ্রীতেঃ । মসুতে লিথিত আছে-- “আপো নারা ইতি প্রোক্তা আপো বৈ নরসুনবঃ। তা যদস্তায়নং পূৰ্ব্বং তেন নারায়ণঃ স্বতঃ।" (মন্ত্র ১।১০) নর শষ্ণে পরমায়ু, এই নর হইতে সৰ্ব্বাগ্রে প্রস্থত বলিয়া জলকে নারী কহে । নারা ব্ৰহ্মরূপে অবস্থিত পরমাত্মার সৰ্ব্বপ্রথম অয়ন বা আশ্রয় বলিয়া ব্ৰহ্মাকে নারায়ণ কহে । যাহা কিছু দেখা যায় বা শ্রুত হয়, সেই সকল বস্তুরই অন্তর ও বাছির ব্যাপিয়া নায়ারণ অবস্থিত আছেন, অর্থাৎ নারায়ণ জগতের সকল বস্তুতেই সৰ্ব্বত্র বিদ্যমান আছেন । “যচ্চ কিঞ্চিজগৎ সৰ্ব্বং দৃশুতে শ্রুয়তেহপি বা । অন্তর্বহিশ, তৎসৰ্ব্বং ব্যাপ্য নারায়ণঃ স্থিতঃ ॥” কোন মহন্তরে ভগবান বিষ্ণু নর নামক ঋষির অপত্য হইয়াছিলেন, এইজষ্ঠ ভগবানের নাম নারায়ণ হইয়াছে। (অমরটীকায় ভরত ) ! “নারঞ্চ মোক্ষণং পুণাময়নং জ্ঞানমীপিাতম্। ততোজ্ঞানং ভবেদ্যুম্মাৎ সোহয়ং নারায়ণঃ স্মৃতঃ ॥” (ব্রহ্মবৈ শ্ৰীকৃষ্ণজ” ১v৯ অ’) নার শব্দের অর্থ মোক্ষ, অয়ন শব্দে অভিলষিত জ্ঞান, s যাহা হইতে মোক্ষ ও জ্ঞানবিষয়ক জ্ঞান হয়, তাহাকে । নারায়ণ কহে । আরও লিখিত আছে— “নারাশ্চ কৃতপাপাশ্চাপায়নং গমনং স্থতম্। যতো হি গমনং তেষাং সোহয়ং নারায়ণঃ স্কৃতঃ ॥” ( ব্রহ্মবৈ শ্রীকৃষ্ণজ” ১•৯ অ• ) পাপিদিগকে নারী কহে, অয়ন শব্দের অর্থ গমন, যাহা হইতে পাপীর গতি হয়, তাহাকে নারীরণ কহে । এই প্রকার নারায়ণ শব্দের নামনিরুক্তি বহু প্রকার লিখিত আছে ; বtছল্য ভয়ে অধিক লিখিত হইল না। ধাছা হইতে এই জগৎ ও ভূত সকল হইতেছে, জীবিত থাকিতেছে, এবং [ రిఆ ] নারায়ণ অস্তিমে যাহাতেই লীন হইবে, সেই ভগবান পরব্রহ্মই নারায়ণ । বেদের মতে-ইনি প্রথম পুরুষ । ( শতপথব্রাহ্মণ ১৩৬২৷১, শাম্বায়নশ্রেীতস্বত্র ১৬।১৩১ ) ব্ৰহ্মবৈবর্ত মতে, নারায়ণের দুই মূৰ্ত্তি, দ্বিভূজ ও চতুভূজ । বৈকুণ্ঠে চতুভূজ মূৰ্ত্তি এবং গোলোকে দ্বিভূজ মূৰ্ত্তি। মহালক্ষ্মী ও সরস্বতী চতুভূজ নারায়ণের পত্নী, গঙ্গা এবং তুলসীদেবী দ্বিভূজ নারায়ণের প্রিয়া । “শ্ৰীকৃষ্ণস্ত দ্বিধারূপো দ্বিভূজশ্চ চতুভুজঃ। চতুভূজশ্চ বৈকুণ্ঠে গোলোকে দ্বিভুজঃ স্বয়ং ॥ চতুৰ্ভুজস্ত পত্নী চ মহালক্ষ্মী সরস্বতী । গঙ্গা চ তুলসী চৈব দেবী নারায়ণপ্রিয় ” ( ব্রহ্মবৈ” প্রকৃতিখ” ৬৪ অ” ) নারায়ণের নামোচ্চারণ করিলে সকল পাতক বিনষ্ট হয় । তিন শত কল্প ধরিয়া গঙ্গাদিতীর্থে স্নান করিলে যে ফল লাভ হয়, একবার নারায়ণ নাম উচ্চারণ করিলে সেই ফল লাভ হইয়া থাকে। নারায়ণ, অচ্যুত, বাসুদেব ও অনন্ত এই সকল নামোচ্চারণ করিলে মোক্ষলাভ হয় । যাহার নারায়ণ এই শব্দ উচ্চারণ করে, তাহাদিগের কথন নরক দর্শন হয় না। “নারায়ণেতি শব্দোহস্তি বাগস্তি বশবর্কিনী । তথাপি নরকে মূঢ়াঃ পতন্তীহ কিমকুতম্।।” ( মহাভারত ) নারায়ণের পূজা করিতে হইলে নিম্নলিখিতরূপে ধান করিতে হয় । ধ্যান--"ধোয়ুঃ সদা সবিস্তৃমগুলমধ্যবৰ্ত্তী নারায়ণঃ সরসিজাসনসন্নিবিষ্ট । কেয়ূরবান কনককুণ্ডলবান কিরীটিহারী হিরন্ময়বপুষ্কৃতশঙ্খচক্রঃ ॥” ( আদিত্যহৃদয় ) প্রতিদিন নারায়ণপূজা প্রত্যেক ব্রাহ্মণের অবশু কর্তব্য । শালগ্রামশিলাপূজাকে নারায়ণপূজা বা বিষ্ণুপুজা কহে। [ শালগ্রামপুজা ও বিষ্ণুপূজ দেথ। । কোন কোন কৰ্ম্ম করিলে নারায়ণের প্রতি বা অপ্রতি হয়, ক্রিয়াযোগসারে তাহার বিষয় এইরূপ লিখিত আছে – “কৰ্ম্মণা যেন বিপ্রেশ্ন তুষ্টমে হৃদি জায়তে । ক্রোধশ্চ তৎ সমস্তং তে কথয়ামি সমাসতঃ ॥” ( ক্রিয়াযোগসার ১৮ অ' ) যে, কৰ্ম্মে আমার ( নারায়ণের ) তুষ্টিলাভ হয়, তোমাকে সেই সকল বিষয় সংক্ষেপে বলিতেছি,—সৰ্ব্বভূতে দয়, নিরহজার, আমার উদ্দেশে ভক্তিপূর্বক ধৰ্ম্মকাৰ্য্যানুষ্ঠান, যথার্থ বাক্যকথন, মিষ্ট বস্তু বিষ্ণুর উদ্দেশে নিবেদন, যাহার মান ও