পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/৪০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নেপাল বাঢ়ারা এখন "নিত্য ব্যবহার করে। উৎসবের সময় যখন দেবমূর্কি লইয়া ইহাদিগকে কোন কাৰ্য্য করিতে হয়, তখন ইহার দক্ষিণ হস্তটমাত্র জামার হাতার মধ্য হইতে বাহির করিয়া লয়। ইহাতে দক্ষিণ হস্তের সঙ্গে সঙ্গে বক্ষাৰ্দ্ধও অনাবৃত হইয় পড়ে। এই সমস্ত পোষাক রক্তবর্ণ বা অলক্তবর্ণের হুইয়া থাকে । অনেকে নানাবিধ পীতবর্ণের পোষাকও পরে। বজাচার্য ও ভিক্ষুগণেয় পোষাকে কোন প্রভেদ নাই, কেবল শিরোভূ বিভিন্ন। বজাচার্যের মস্তকে তাম্রবর্ণের নানা কারুকার্য্যবিশিষ্ট মুকুট, হস্তে বা কটবন্ধে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ এবং হস্তে বজ্ৰদণ্ড ও ঘণ্টা, গলায় ১০৮টা দানার বিচিত্রবর্ণের স্ফটিকমালা বা অল্পবিধ মালা থাকে। মালার একপাশ্বে ক্ষুদ্র ঘণ্টা ও অপর পাশ্বে ক্ষুদ্র বক্স কুলান এবং তার একটী নানাবর্ণের স্ফটিকখগু-খচিত বজ্ৰ ধুকধুকিয় যায় ঝুলিতে থাকে। ভিক্ষুদিগের মস্তকে রঙ্গিণবস্ত্রের উষ্ণৗষ থাকে, তাহাকে উড়ান টুপি বলে। এই টুপির উপরে একটী পিত্তলের বোতাম বা বঙ্গ থাকে এবং টুপির সম্মুখে একটা চৈত্যের আকৃতি থাকে। সামান্ত সামান্ত উৎসবে এবং বাঢ়াযাত্রায় বজাচার্য্যেরাও উড়ান টুপি ব্যবহার করে। ভিক্ষুদিগের গলায় সীমান্ত মালা, দক্ষিণহস্তে "থিক্ষিলিকা" নামক দগু ও বামহস্তে ’পি গুপাত্র’ নামক পিত্তলের স্থালী থাকে। ইহাতে লোক ভিক্ষাদান করে । বাঢ়ারা যেখানে বরাবর বাস করে তাহাই বিহার বা মঠ নামে খ্যাত। এই সকল বিহার বা মঠাদি প্রধান প্রধান বৌদ্ধমন্দিরের নিকটে অবস্থিত। যে সকল বংশ অতি প্রাচীনকাল হইতে যে বিহার বা মঠে বাস করিয়া আসিতেছে, তাহাদের মধ্যে একটা ঘনিষ্ঠত এমন জন্মিয়াছে যে তদনুসারে এক এক বিছার বা মঠবাসীদিগকে এক একট ক্ষুদ্রসম্প্রদায় বলা যায়। এইরূপ এক এক সম্প্রদায় মধ্যে আবার বিশেষ বিশেয কতকগুলি আচার ব্যবহার ও রীতিনীতি বদ্ধমূল হষ্টয়া গিয়াছে, তদ্বারা কে কোন বিহারের বা কোন মঠের লোক তাছা বুঝা যায়। বাঢ়ার শাস্তস্বভাব, পরিশ্রমী, সদাচারী, কিন্তু ইহাদের মধ্যে আর এখন বৌদ্ধধৰ্ম্মোক্ত কি সন্ন্যাসী কি গৃহীর আচার-ব্যবহার অবিকৃতভাবে প্রচলিত নাই। বৌদ্ধধৰ্ম্মে কোন স্থলে মৎস্তমাংসাহার বা মাদক ব্যবহারের নিয়ম নাই এবং মধ্যাহ্নের পূৰ্ব্বেই দৈনিক আহার সমাপনের বিধান আছে, কিন্তু বাঢ়ার সেকালের বৌদ্ধসন্ন্যাসীর স্থানাভিষিক্ত হইয়াও, এই সামান্ত নিয়মও প্রতিপালন করে মা। ইহার সুবিধা পাইলেই ছাগ ও মহিষমাংস আহার করে, স্বহস্তে ছাগ বিনাশ করে, অতিশয় মদ্যপানাদি করে এবং দিবসে যখন ইচ্ছা দুই চারিবার ভোজন করিয়া থাকে। মদ্যপায়ী - [ 8०२ ] নেপাল حبیب سماج হইলেও, ইহাদের মধ্যে মাতাল নাই বলিলেই চলে। অষ্টান্ত বৌদ্ধগণ বাঢ়াদিগকে ঠিক ব্রাহ্মণের ন্যায় সম্মান করে। ব্রাহ্মণকে দান করা হিন্দুয় পক্ষে যেমন পুণ্যজনক, বাঢ়াদিগকে দান করা নেপালী বৌদ্ধগণ ঠিক তদ্রুপ বিবেচনা করে। বাঢ়ারাও ধৰ্ম্মহৃদয় ব্যক্তির নিকট হইতে এইরূপ দান লইতে সৰ্ব্বদা প্রস্তত থাকে । উদাসগণ বাণিজ্যব্যবসায়ী এবং হিন্দুর বৈগুবর্ণের ন্যায়। ইহাদের মধ্যে সাতটা শ্রেণী আছে, ১ম শ্রেণীর নাম উদাস । তিব্বত ও চীনের সহিত যত ব্যবসায় সবই এই উদাস শ্রেণীর একচেটিয়া। এই সাত শ্রেণীর একএকটা বংশগত ব্যবসায় আছে, তবে ইছারা বাঢ়াদিগের ন্যায় ব্যবসায় করিতে তাদৃশ বাধ্য নহে। ইহার! সকলেই মহাজনী করে, অধিকন্তু মিশ্ৰধাতুর দ্রব্যাদি ও খাদমিশান দ্রব্যাদি প্রস্তুত, প্রস্তরের অট্টালিকাদি ও ভাস্করের কার্য্য, দেবতামূর্তিনিৰ্ম্মাণ, নিত্যব্যবহার্য্য তৈজসাদি নিৰ্ম্মাণ, চুতারের কার্য, খোল ও ইষ্টকাদি নিৰ্ম্মাণ প্রভৃতি কুমারের কার্য্যও করে । উদাসের গোড়া বৌদ্ধ । প্রকাতে ইহারা হিন্দু দেবদেবীর পূজা করে ন, অথবা ব্রাহ্মণ দ্বারা আপনাদের পৌরোহিত্য করায় না । ইহার ধৰ্ম্মকৰ্ম্মে বজ্রাচার্য্যেয় উপদেশ লয়। উদাসেরা কখন বাঢ়া শ্রেণীতে প্রবেশ করিতে পারে না, কিন্তু বাঢ়ার ইহাদের সহিত আহারব্যবহার করিয়া ইহাদের দলে মিলিতে পারে। উদাসের সাত শ্রেণীতে একত্র আহার ব্যবহার করিয়া থাকে। ইহারা জাপুগণের সহিত আহার ব্যবহার করে না। ইহার একসময়ে বিশেষ ধনী হইয়া উঠিয়াছিল, ব্যবসায়ের হীনতায় ইহাদের অবস্থা আজকাল ততটা উন্নত নাই। এখন বাঢ়ারাই বাণিজ্য ব্যবসায়ে প্রাধান্তলাভ করিতেছে । অন্যান্য সমস্ত বৌদ্ধই জাপুশ্ৰেণী মধ্যে গণ্য । ইহাদের রীতিনীতি ও আচারব্যবহার আরও বিকৃত । বৌদ্ধাচারের সহিত ইহার হিন্দুর আচার অবিচ্ছেদ্যরূপে মিশাইরা ফেলিয়াছে। হিন্দুর মন্দিরাদিতে গিয়া উৎসবের সময় ইহার পুজা দেয়। বিবাহ ও অস্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও ইহারা উভয় মিশাইয়া একরূপ মিশ্রভাবে কার্ষ্য নিৰ্ব্বাহ করে। ইহাদের সামাজিক কার্য্যের সময় বজাচার্যের সঙ্গে সঙ্গে এক ব্রাহ্মণ পুরোহিত থাকেন । ইহাঙ্গের মধ্যে তিনটী শ্রেণী আছে। সকল শ্রেণীর বংশগত ব্যবসায় অাছে। ছয় শ্রেণীর কৃষিসংক্রাস্ত কৰ্ম্ম, এক শ্রেণীর জমীর পরিমাণাদি ও এক শ্রেণীর কুস্তকারবৃত্তি । কৃষিজীবী ছয় শ্রেণীর নামই জাপু। উদাসগণের পরেই ইহার স্থান পায়। ত্রিশ প্রকার জাপুর মধ্যে উক্ত প্রকৃত জীপুগণ সীমাজিক বিধানে অন্যান্য শ্রেণী অপেক্ষী সন্মানার্থ। প্রকৃত জাপু