পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারায়ণরস প্রতিষ্ঠাবিধি, বাস্তপুরুষবিধি, বৃষোৎসর্গবিধি প্রভৃতি গ্রন্থ পাওয়া যায়। ইহার পুত্রের নাম রামকৃষ্ণ ভট্ট, এবং পৌত্র দিনকর ও প্রসিদ্ধ স্মাৰ্ত্ত কমলাকর ভট্ট। ২৫ নারায়ণভট্টয় নামে প্রসিদ্ধ স্মৃতিনিবন্ধকার । ১৬ বৈষ্ণবজ্যোতিশাস্ত্রপ্রণেতা । নারায়ণভট্ট, একজন বৈষ্ণব। ইনি বৃন্দাবনে উঠাগ্রামে বাস করিতেন। দাউঞ্জীর সেবায়, ইহার বড় আনন্দ ছিল । ইনি প্রতিদিন বৈষ্ণবগণকে ভোজ্যদ্বারা সেবা করিতেন । একদা কোন ধনবান ব্যক্তি ইহাকে প্রয়াগতীর্থে যাইতে বলিলে ইনি দুঃখিত হইয় তাহাকে বৃন্দাবন ও হরিভক্তিমাহাত্ম্য দেখাইবার জন্য বৃন্দাবনে প্রয়াগতীর্থ দেখাইয়াছিলেন, এবং তাহাকে বুঝাইয়াছিলেন যে, এইখানেই সৰ্ব্বতীর্থ আছে । ( ভক্তমাল ) ২ কাশীবাদী একজন বিখ্যাত পণ্ডিত। অরঞ্জেব কর্তৃক কাশীস্থ দেববিগ্রহ সমুদয় নষ্ট হইবার পূৰ্ব্বে ইনি জ্ঞানবাপীর দক্ষিণভাগে এক মুনীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করিয়া তাহাতে শিবলিঙ্গ স্থাপন করেন। ( ভ” ব্ৰহ্মথ গু ৫৮৫-৮৬ ) "নারায়ণমিশ্র, ১.সন্ধাবন্নভায্যকার। ২ নারায়ণমিতীয় নামে ধৰ্ম্মশাস্ত্রকার । নারায়ণভটআরড়, লগীধরের পুত্র। ইনি প্রয়োগসার বা গৃহাগ্লিসাগর ও শ্রাদ্ধসাগর রচনা করেন । ইনি ভট্টোজির মত উদ্ধত করিয়াছেন। নারায়ণভারতী, সারস্বতসারসংগ্রহ নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ রচয়িতা । নারায়ণভিযক, একজন প্রসিদ্ধ বৈাক গ্রন্থকার। ইহার ক্লত কৰ্ম্মপ্রকাশ, বাতস্বত্বাদিনির্ণয়, বৈদ্যুচিস্তামণি, বৈদ্যবৃন্দ ও বুৈদ্যামৃত প্রভৃতি গ্রন্থ পাওয়া যায়। নারায়ণমুনি, তত্ত্বত্র নিরূপণ ও তত্বসংগ্ৰহ নামে সংস্কৃত প্রস্থ প্রণেতা । ২ রঘুপতিরহস্তদীপিকারচয়িত । ৩ গণপতিতত্ত্বপ্রকাশিক নামে গণেশসহস্রনামের ভাষ্যকার । নারায়ণমুনীন্দ্র, ছালতিলক ও হাসবিংশতির বেদান্তরক্ষা নামে টীকাকার । নারায়ণযতি, রামায়ণতত্ত্বদর্পণরচয়িত। নারায়ণযতীশ্বর, স্বদর্শনস্তব-রচয়িত। নারায়ণযাজ্ঞিক, যাজিক পাঠক রামচন্ত্রের পুত্র ও গঙ্গাধরের ভ্রাতা । ইহার বিরচিত কর্কামুগা পদার্থদীপিকা নামে একখানি সংস্কৃত গ্রন্থ পাওয়া যায়। ইহাতে পৌর্ণমাসেক্টর বিষয় লিখিত হইয়াছে। নারায়ণরস (পুং ) ঔষধবিশেষ। প্রস্তুত প্রণালী—হিদুল, [ ৪৩ ] নারায়ণ-বন সৌরাষ্ট্রমৃত্তিক, রসাঞ্জন, মনছাল, স্বর্ণ, পারদ, তাম্র, গন্ধক, লৌহ সৈন্ধবলবণ, মাতই, চই, শরপুস্থ, বিড়ঙ্গ, যমানী, গজ: পিপ্পলী, মরিচ, আকন্দমূল, বরুশমুল, শ্বেতধুন ও হরীতকী এই সকল দ্রব্য সমান পরিমাণে লইয়া কটুতৈলের সহিত মৰ্দ্দন করিয়া ১ মাধ। পরিমাণে গুড়িক প্রস্তুত করিবে। অমুপান মধু। ইহা সেবন করিলে নাড়ীত্রণ ও ভগন্দর প্রভৃতি বিনষ্ট হয়। ( ভৈষজ্যরত্না ভগন্দরাধিকার ) নারায়ণরায়, বিক্রমসেনচম্পূ নামে চম্পূকাব্যগ্রণেতা। নারায়ণরাও, বালাজিরাও পেশবার তৃতীয় পুত্র। ১৭৭২ খৃষ্টাব্দে সিংহাসন আরোহণ করেন। ১৭৭৩ খৃষ্টাব্দে ৩০এ আগষ্ট তারিখে ইহার পিতৃব্য রঘুনাথরাও ইহাকে হত্যা করেন। তৎপরে ইহার শিশুপুত্র শিবাজী মাধোরাও অভিষিক্ত হন। ইহার বংশধর বলবৎরাও এখনও বিদ্যমান আছেন। নারায়ণরাজ, একজন চোল রাজা । নারায়ণলব্ধি, একজন প্রাচীন সংস্কৃতকবি, স্বক্তকর্ণামৃতে ইহার কবিতা উদ্ধৃত হইয়াছে। নারায়ণ-বন, মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সীর উত্তর-আর্কট জেলার একটা সহর। অক্ষা" ১৩ ২৭ উঃ এবং দ্রাঘি” ৭৯° ৩৮' পূঃ । মাম্রাজ রেলওয়ের পত্তর ষ্টেশনের ৩ মাইল পূর্বে অরুণ নদীর তীরে অবস্থিত এবং উহা কারবেটনগরের জমিদারীভুক্ত । নারায়ণ-বন শব্দ হইতে স্পষ্টই অনুমিত হয় যে, বহুকাল পূৰ্ব্বে এই স্থান বনাকীর্ণ ছিল। প্রবাদ এইরূপ যে, ভগবান নারায়ণ এই বনে বিচরণ করিতেন । চতুমুখ ব্ৰহ্মা এক সময়ে কাঞ্চীপুরে অশ্বমেধ যজ্ঞ করিয়াছিলেন এবং এই স্থানটী অতি পবিত্র বলিয়া যজ্ঞের সীমাস্বরূপ মনোনীত করিয়া লন । এখানে ‘অ্যানার চৈরন্মা’ বা মহিষাসুর-মদিনী আসিয়া যজ্ঞ স্থলের সীমা রক্ষা করিয়া ছিলেন, তদবধিই তিনি এই স্থানে অবস্থান করিতেছেন । ইহা একটী পুরাতন প্রসিদ্ধ তীর্থ স্থান । স্থানীয় হস্তলিপি পাঠে জানা যায় যে, তঞ্জোরের মহারাজ কুলোলুঙ্গ চোলের জারজ পুত্ৰ তেওঁীমান এই স্থান আপনার অধিকারভুক্ত করিয়া লন । তাহার প্রপৌত্র রাজা নারায়ণদেবের রাজত্বকালে মিথিলাপতি গবাসম্বন তিরুপতির তীর্থ দর্শনে আইসেন। এই স্থানের অবস্থদর্শনে প্রীত হইয়া, এখানে রাজ্য স্থাপনে তিনি অভিলার্য হন এবং সেই হেতু ব্যঙ্কটেশ্বরের আরাধনা করেন। ব্যঙ্কটেশস্বামী তাহার স্তবে সন্তুষ্ট হইয়। তাছাকে নারারণদেবের নিকট অভিপ্রায় ব্যক্ত করিতে অসুঞ্জ করেন। মিথিলাপতি গবাসম্বন নারায়ণদেবের নিকট অৰ্দ্ধ রাজ্য প্রাপ্ত হইলে এই নারায়ণ-বনে আপন রাজধানী স্থাপন করিলেন।