পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নৈি... s: নারিকেশ স্থ একী পকি মধ্যে পরিগণিত। * বৃক্ষের গুড়ি পর্যভাবে, কখ- :ন ও বা ঈষৎ বক্রভাবে আকাশণ: ৫•।ঙ• হস্ত পৰ্যন্ত উচ্চ হহয়! থাকে। ইহার প্রতিপত্রের মধ্যস্থলে একটা করা শলাকণ বা কাটী আছে। • ভারতবর্ষ, ব্ৰহ্মদেশ ও সমুদয় গ্রীষ্মপ্রধান স্থানে ও সমুদ্রতীরে এই বৃক্ষ বহুল পরিমাণে উৎপন্ন হইয় থাকে। নারিকেল পরিপক্ষ হইলে ঝুনা হয়। বঙ্গোপসাগর হইতে আরম্ভ করিয়া গঙ্গানদীর দুইধারে, সমুদ্র হইতে প্রায় ১৫০৷২•• মাইল পর্যন্ত নারিকেলগাছ দেখা যায়। কিন্তু ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূলে সমুদ্র হইতে এরূপ দূরে উক্ত বৃক্ষ দৃষ্ট হয় না। এমন কি কোলাবার সমুদ্রতীর হইতে একক্রোশের অধিক দূরে এই বৃক্ষ জন্মে না। যত্নপূর্বক চাষ করিলে ইহা নানা স্থানে জন্মে। আসামেরও স্থানে স্থানে এই বৃক্ষ জন্মাইতে দেখা গিয়াছে। তবে প্রধানতঃ ইহা সমুদ্রতীরে ও ভারত মহাসাগরের প্রায় যাবতীয় দ্বীপে উৎপন্ন হইয়া থাকে। সংক্ষেপে বলিতে হইলে গঙ্গার দক্ষিণপারে সমুদ্র হইতে ২•• মাইল দূরবর্তী পর্যন্ত যাবতীয় স্থানে, ব্রহ্মপুত্রনদের উভয়তাঁরন্থ ভূমির কিছুদূর পর্যন্ত, মলবার ও করমণ্ডল উপকূলে, আমেরিকা ও আটলাণ্টিক দ্বীপে বহুল পরিমাণে জন্মে। বঙ্গোপসাগরে লাক্ষাদ্বীপপুঞ্জে ও নিকোবর দ্বীপে বহুকাল হইতে ইহা প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হইতেছে, এক্ষণে কৃষির যত্নে আন্দামানদ্বীপেও জন্মিতেছে । আন্দামানের আরও ৩০৷৪০ মাইল উত্তরে নারিকেল দ্বীপপুঞ্জে (Cocos) ইহা বিনা চাষে উৎপন্ন হয়। এম ড়ি ক্যাডোলি ( M De Candole ) বলেন যে “সম্ভবতঃ ভারতীয়দ্বীপ সমূহই ইহার আদিম উৎপত্তিস্থান এবং ভারতবর্ষ, সিংহণ ও চীনদেশে তিন সহস্রবৎসর পূৰ্ব্বে আদেী নারিকেল বুক্ষ ছিল না।” নারিকেল-রোপণ-প্রণালী ।--নারিকেলের চারা প্রস্তুত করিতে হইলে প্রথমতঃ ঝুনা নারিকেল সংগ্ৰহ করিতে হয় । চার বা অতি বুড়াগাছের ঝুনা নারিকেলের চার দীর্ঘজীবী ও পরিপুষ্ট হয় না। ঝুনা নারিকেল গাছ হইতে পাড়িয়া ; এক কি দেড়মাস গৃহে রাখিতে হয়, তৎপরে উহার কলা নির্গত | 2ইলে রোপণ করিবে । রোপণক্রিয় পৌষ হইতে চৈত্রের! মধ্যে ও শ্রাবণ ভাদে সম্পন্ন হইয় থাকে। কিন্তু অধিক | বৃষ্টি হইলে চার নষ্ট হইয়া যায় । নারিকেল পুতিবার জন্য : প্রথম দুষ্ট ফিট গভীর করিয়া একটা গৰ্ত্ত কাটিয় তাহাতে । বক্রভাবে নারিকেল পুতিতে হয় । নারিকেলের উপরিভাগের দুই ইঞ্চ পরিমাণ স্থান খালি রাখিয়া নারিকেলগুলি পরস্পর ১ ফুট দূরে বসাইবে। [ ge l নারিকেল উক্ত গৰ্ত্তে ছাই এবং লবণ দিতে হয় । উস্থা সারের কার্য্য করে এবং নারিকেলের চারাধবংসকারী কীট মারিয়া ফেলে । মধ্যে মধ্যে ইহাতে জল সিঞ্চন করিতে হয়। তাহ হইলে অল্পদিন মধ্যেই উক্ত নারিকেল হইতে চার বাহির হইবে । পরে ৬ মাস কি এক বৎসর অন্তে উহা স্থানান্তরে রোপণ করিলে কালক্রমে উহা পূৰ্ব্বোক্ত প্রকাগু বৃক্ষে পরিণত হয়। এই দ্বিতীয়বার রোপণের পূৰ্ব্বে রোপণ জন্য যে নুতন গর্ত প্রস্তুত করিতে হয়, জমি উর্বর হইলে গর্ত অতি ছোট হইলেই যথেষ্ট হয়, কিন্তু যদি জমি ভাল ন হয়, তবে ১ হইতে ২ গজ প্রন্থে ও ২হইতে ৩ ফিটু গভীর গর্ব প্রস্তুত করিতে হয়। কিন্তু এই জমি যদি শীতল কর্দমযুক্ত হয়, তবে ঐ গৰ্ত্ত ছাই ও বালুকামিশ্রিত করিয়া তস্থার পরিপূর্ণ করিবে। যদি জলা জমি হয়, তবে ঐ গর্তের চারিদিকে দেওয়াল প্রস্তুত করিতে হয়। এই সমস্ত গর্বে ১৬১৭ হাত অস্তুর চারা রোপণ করিতে হয়। জমিবিশেষে এই অস্তরের পার্থক্যও হইয়া থাকে। চারা পুতিয়া তাহার গোড়ার চতুঃপার্শ্বস্থ সরসভূমি পত্রাবরণ দ্বারা ঢাকিয়া রাখিতে হয়। যদি ঐ জমি স্বাভাবিক অমূৰ্ব্বর হয়, তবে লবণ, ছাই, থড়কুচি, পচামাছ, ছাগৰিষ্ঠ ও অন্যান্ত শুষ্কসার প্রথম এক বৎসরকাল এই চারার গোড়ায় দিতে হয় । একবৎসর অতীত হইলে ঐ চারার নূতন পত্রোৎগম হইতে থাকে। ঐ সময় চারার চারিদিকের জমি কোপাইয়া তাহাতে ছাই দিতে হয়। প্রতি বৎসর বর্ষার পূৰ্ব্বে এইরূপ করিতে হয়। ৪ বৎসর পরে গুড়ি দেখা দেয় ও প্রায় ১২ট পত্র বা বাইল ধারণ করে। পঞ্চমবর্ষে গুড়ি স্পষ্ট দেখা যায়। তখন প্রায় ২৪টী বাইল হয়। ইহার ৪৫ বৎসর পরেই নারিকেল ফল ফলিতে আরম্ভ করে । এই বৃক্ষ বড় হইলে যদি অন্তস্থানে তুলিয়া পোতার আবখ্যক হয়, তবে প্রথমে একটী বড় গৰ্ত্ত । প্রস্তুত করিয়া তাছাতে লবণ ও কিছু সার দিয়া, তৎপরে ঐ গাছট তুলিয়া ঐ গর্কে রোপণ করিতে হয়। তুলিবার সময় কতকগুলি শিকড় কাটিয়া ফেলিলেও কোন ক্ষতি হয় না। পূৰ্ব্বোক্ত প্রকারে বৃক্ষ প্রস্তুত হইলে উহা বৎসরে ৫০ হইতে ২ a ৯ পর্যাস্ত নারিকেলফল প্রসব করে । যে জমি নিম্ন ও বালুকাবিশিষ্ট এবং যেখানে সামুদ্রিক বায়ু প্রবাহিত হয় সেই জমিতেই উৎকৃষ্ট ও অধিক পরিমাণে নারিকেল জন্মে। নিম্নোক্ত প্রকারের জমিতে ভাল নারিকেল বৃক্ষ জন্মে না। ১। যে জমির রং ঘোর কাল বা নদীর ঘোলা জলের স্কার এবং যাহা বালুকামিশ্রিত। ২। যে মৃত্তিক কর্দম ও বালুকামিশ্রিত লৌহবৎ কঠিন।