পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/৫০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ন্যায় (ইতিহাস) রচনা করিয়া জাবার জৈনমত স্থাপনের চেষ্টা করেন ; তাহার দেখাদেখি সিদ্ধসেন নামক অপর একজন জৈন প্রায় ১২৪২ সত্বতে ‘প্রমাণ-প্রকাশ’ নামে একখানি জৈন-স্তারগ্রন্থ প্রচার করেন। এই সময়ে বিজয়হংসগণি নামে আর একজন জৈন পণ্ডিত ভা-সৰ্ব্বঙ্ক রচিত স্থায়-সারের টীকা লিখিয়া ঈশ্বরকারণবাদ উড়াইয়া দিবার চেষ্টা পান। ১২৫২ খৃষ্টাব্দে সরিঙ্গের পুত্র রাজবভট্ট স্থায়সায়বিচার নামে স্থায়সারের আর একখানি টীকা লিখির হিন্দুনৈয়ারিকমত সংস্থাপন করেন । তৎপরে রামদেবমিশ্রের পুত্র বরদরাজ ন্যায়দীপিকা, তার্কিকরক্ষা প্রভৃতি কএক খানি ন্যায় গ্রন্থ রচনা করেন ; এতন্মধ্যে মাধবাচার্য্য সৰ্ব্বদর্শনসংগ্রহে তার্কিকরক্ষার বচন উদ্ধৃত করিয়াছেন। তাহার পর জয়ন্তভট্ট ১২৯৩ খৃষ্টাব্দের নিকটবৰ্ত্তী কোন সময়ে স্তাল্প-কলিকা ও কাল্পমঞ্জরী নামে দুইখানি প্তীয়গ্রন্থ রচনা করেন । ১২২৬ শকে অর্থাৎ ১৩• ৪ খৃষ্টাব্দে বিখ্যাত জৈনাচার্ধ্য জিনপ্রভসুরি যড় দর্শনী নামে একথানি দার্শনিকগ্রন্থ রচনা করিয়া ঈশ্বরকারণবাদ খওন করিতে যত্নবান্‌ হন। তৎপরে তিলকসুরি ও পরে জিনপ্রভের উপদেশমত ক্রমান্বয়ে তাহার দুই শিষ্য এই তিন জনে তিনখানি স্থায়কদলীপঞ্জিকা প্রণয়ন করেন । শেষোক্ত দুইজনের নাম রত্নশেখরস্থরি এবং স্লাজশেখরপুরি । রাজশেখরপুরি স্থায়কদলীপঞ্জিকায় লিথিয়াছেন, ‘প্রথমে প্রশস্তপাদ বৈশেষিকসুত্রের ভাষ্য প্রকাশ করেন ; তৎপরে বোমশিবাচাৰ্য বোমমতী নামে । তাহার বৃত্তি, পরে ঐধরাচাৰ্য স্থায়কদলী নামে সম্পর্ত | তৎপরে উদয়নার্য কিরণাবলী ও অবশেষে শ্ৰীবৎসাচাৰ্য্য | লীলাৱতী লিথিয় যান। এই শেষোক্ত চারিখানি গ্রন্থই সাধারণের সহজবোধ না হওয়ার তিনি এই চায়কদলীপঞ্জিকা । লিখিতেছেন।” t --- র্তাহার গ্রন্থে দ্যায়-বৈশেষিকের অনেক । কথা থাকিলেও, তিনি প্রচ্ছন্নভাবে পুৰ্ব্বতন জৈন-নৈয়ায়িকদিগের মতসমর্থন করিয়াছেন । তিনি প্রকাণ্ডে ঈশ্বরবাদ নিরাকরণ না করিলেও, তাহার গ্রন্থ পাঠ করিলেই তাহাকে নিরীশ্বরবাদী বলিয়া বোধ হয় । সুপ্রসিদ্ধ উদয়নাচার্যের সময় হইতেই ভারতবাসী বৌদ্ধ নৈয়ায়িকদিগের সম্পূর্ণ অধঃপতন ঘটিয়াছিল। এই রাজশেখরের পর হইতে দেখা যায় ঞ্জৈনদার্শনিকগণেরও অবনতির স্বত্রপাত হইয়াছে। রাজশেখরের কিছু পূৰ্ব্বে কেশরমিশ্রের তর্কভাষী রচিত হয় । ইহারই পর নবাgারেল্প আবির্ভাব । খৃষ্টীয় ১৪শ শতাব্দীর প্রারম্ভে স্বপ্রসিদ্ধ গঙ্গেশোপাধ্যায় প্রাচুর্ভূত হইলেন। তিনি অসাধারণ তর্কশক্তিপ্রভাবে তত্ব । চিত্তামণি প্রকাশ করিয়া নৈরায়িকদিগের মধ্যে যুগান্তর | [ des J. ন্যায় (ইতিহাস } উপস্থিত করিলেন। প্রাচীন নৈরায়িকগণ কৈবল্যসিদ্ধির উদ্দেশ্রেই ব্যগ্রতা দেখাইয়াছেন। যদিও উদয়নের সময় হইতে জটিল তৰ্কসমূহের আলোচনা হইতেছিল, কিন্তু তাহারা লক্ষ্যভ্রষ্ট হন নাই। তাছার মূল পদার্থতত্বের আলোচনায় ব্যাপৃত ছিলেন, বৃথা আড়ম্বরে প্রবৃত্ত হন নাই। এখন গঙ্গেশ প্রত্যক্ষ, -অনুমান, উপমান ও শব্দ এই চারিখগুtষ্মক তত্বচিস্তামণি নামে এক বিস্তৃত প্রমাণ গ্রন্থ প্রচার করিলেন । পূৰ্ব্বতন নৈয়ায়িকগণ ১৬শ পদার্থ স্বীকার করিলেও ইনি কেবল "প্রমাণ" স্বীকার করিলেন । র্তাহ হইতে এই প্রমাণ লইয়াই নবদ্যায়ের স্বত্রপাত। তিনি প্রত্যক্ষখণ্ডে প্রামাণ্যবাদে–“অখ জগদেব দুঃখপঙ্কনিমগ্নমুদিধীধুরষ্টাদশবিদ্যাস্থানেঘড়াধিততম মাহীক্ষিকীং পরমকারুণিকে মুনিঃ প্রণিনায় । তত্র প্রেক্ষণবৎপ্রবৃত্তীৰ্থং প্রমাণাদিপদার্থতত্ত্বজ্ঞানাল্লিঃশ্রেয়সাধিগম ইতি” এইরূপে স্থায় বা আৰীক্ষিকী শাস্ত্রের উদ্দেশু প্রকাশ করিলেও গৌতম যে উদ্দেশুে স্থায়শাস্ত্র দর্শন মধ্যে গণ্য করেন, গোতমের সেই সাধু উদ্দেশু নব্যন্তায়ের আবিভাবে নৈয়ায়িকগণ ভুলিয়া যাইতে লাগিলেন। গৌতম ও বাৎস্তায়নাদি প্রবৰ্ত্তিত স্থায়দর্শনে আত্মতত্ব, দেহতত্ব, মুক্তিতত্ত্ব, ঈশ্বরতত্ব প্রভৃতি দর্শনপ্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ বর্ণিত হইয়াছে, নবন্যারের আবির্ভাবে ন্যায়শাস্ত্রের দার্শনিকত্ব লোপ পাইবার উপক্রম হইল। নবানৈয়ায়িকগণের অপবর্গ প্রধান উদ্বেগু ছিল, কিন্তু প্রাচীনের যে পন্থা অবলম্বন করিয়াছেন, নব্যের তাহা করেন নাই। নব্য ন্যায়ে কোন কোন স্থানে মূলপদার্থতত্ত্বের অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকিলেও তাঁহা উল্লেখযোগ্য নহে। গঙ্গেশের চিস্তামণিতে ঈশ্বরামুমান, অপুৰ্ব্ববাদ ইত্যাদি স্থান ভিন্ন অধ্যাত্মতত্ত্বের আলোচনা নিতান্ত অল্প। এমন কি, গঙ্গেশ স্থানে স্থানে গোতমেরও মত খণ্ডন করিরাছেন। র্তাহার গ্রন্থে কেবল তর্কের আড়ম্বর দেখা যায়। এই তর্কের তুফানে পড়িয়া নবানৈয়ায়িকগণ প্রাচীন স্থায়শাস্ত্র হইতে দূরে সরিয়া পড়িয়াছেন। নবানৈয়ায়িকগণ কেবল বাক্য লইয়া বিচার, লক্ষণসমূহের ও বিশেষণ পদের খণ্ডন, বিশেযশাস্তরপ্রক্ষেপে তাহার সমর্থন ইত্যাদি বাকৃঞ্জালের ঘট। বিস্তার করিয়াছেন। তাহার ধীশক্তির পরাকাষ্ঠী দেখাইয়া কেবল তর্কমার্গেরই আশ্রয় লইয়াছেন। প্রত্যক্ষ, উপমান, অমুমান ও শব্দ এই চারিট প্রমাণরূপ ভিত্তির উপর নবাচ্চারশাস্ত্র গঠিত হইয়াছে। গঙ্গেশ এই নব্যম্ভায়ের প্রবর্তক হইলেও সংস্থাপক নহেন, তৎপরবর্তী কালে তৎপুত্ৰ বৰ্দ্ধমান, তৎপরে পক্ষধর মিশ্র, রচিদত্ত, বামুদেব সাৰ্ব্বভৌম, রঘুনাথশিরোমণি, জয়রাম তর্কালঙ্কার, মথুরানাথ তর্কবাগীশ, গদাধর