পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাসিক , খুষ্টের সৃষ্ট শতাঙ্গা পূৰ্প হইতে দুই শতাব্দী পর পর্যন্ত । বৌদ্ধধৰ্ম্মাবলম্বী মৰুভূত বংশয়েরা এই জেলার শাসনকৰ্ত্ত । ঝ রাজা, ছিলেন। পূৰ্ব্বতন হিন্দুদিগের মধ্যে চালুক, স্বাঠোর, চন্সেল এবং দেবগিরির যাদববংশীয়দিগের এস্থানে বাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। মুসলমান রাজত্বের সময় ( খৃঃ ১২৯৫ ইষ্টতে ১৭৬০ অব্দ পর্যন্ত ) এই স্থান ক্রমান্বয়ে দে গুগিরির ( দৌলতাবাদ ) শাসনকৰ্ত্ত, কুলবর্গের বাহ্মণিরাঃ, আহ্মদনগরের নিয়াম-শাহিবংশ এল আরঙ্গাবাদের মোগলরাঙ্কগণের পর পর অধীনে থাকে। তৎপরে খৃঃ ১৭৬০ ইষ্টতে ১৮১৮ অঞ্চ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রদিগের শাসনাধীন ছিল । তদনস্থর ইহা বুটশ অধিকারভুক্ত হইয়াছে। ইংরাজের শাসনাধীনে আসার পর ১৮৪৩ খৃষ্টাব্দে যুরোপীয়গণ এখানে গো-হত্যা করিলে প্রথম বিদ্রোহের সূচনা হয়। পরে ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দে ভাগোষ্ঠীর কর্তৃত্বাধীনে রেছিল, আরবী এবং ভীলগণ একর হুষ্টয়া ভয়ানক উপদ্রব করিয়াছিল । এখানকার লোক সাধারণতঃ নাসিক সহরে বাস করিতে ভালবাসে । সহাদির তরাই প্রদেশে যে সমস্ত লোক বাস করে, তাহারা অনেকেই একস্থানে অধিক দিন থাকে না । স্থান পরিবর্তন করিয়া বাস করাই তাছাদের অভ্যাস। কারণ, তথাকার ভূমিতে পর পর দুষ্ট বৎসরের অধিক ফসল জন্মে না । গ্রীষ্মকালে ইগরা বনে যষ্টিয়া কাষ্ঠ কাটিয়া আনিয়া বিক্রয় ! করে এবং শস্তাভাবে মৎস্ত, ফল ও বৃক্ষের মূল ভক্ষণ করিয়া জীবনধারণ করে । পৰ্ব্বতবাসিদিগের মধ্যে ভাল, কোলি, ঠাকুর, বাণী ও কাঠড়ির প্রসিদ্ধ । ইহাদের মধ্যে কোধিয়া সৰ্ব্বাপেক্ষ সভা এবং কাঠড়িরা সৰ্ব্বাপেক্ষ দরিদ্র ; মুসলমান ও মারোষাড়ির অন্তর ছষ্টতে আসিয়া এথানে বাস করিয়াtধু । জেলায় বৎসরে একবার ভিন্ন প্রায় ছুটবার ফসল হয় না। বাঙ্গুর নামক শস্তই এখানকার প্রধান খাদ্য। গম, ল, ছোলা, ইক্ষু, আঙ্গুর, ডুমুর, পিয়ার এবং কলা এখানে জন্মিয় থাকে ৷ খৃঃ ১৩৯৬ হইতে নাসিক ১৪•৭ অঞ্চ পর্যাপ্ত এখানে যে ভয়ানক ভিক্ষ হয়, তাহাতে নাসিক-জেলায় বিশেষ ক্ষতিগ্ৰস্ত হইয়াছিল। ঐ ছভিক্ষের } নাম ‘দুর্গাদেবী-ফুর্ভিক্ষ ।' মধ্যে মধ্যে প্রায়ই এখানে দুৰ্ভিক্ষ । হইয়া থাকে। বস্তু ও পঙ্গপাল প্রভৃতি পতঙ্গে ইহাদের বিশেষ । অনিষ্ট করে। ১৮৭২ খৃষ্টাকে এখানে ভয়ানক বস্ত হয় । । তাছাতে জাত শস্তাদির বিশেষ ক্ষতি করে। ১৮৭৬৭৭ খৃষ্টাব্দে ; এখানে পুনরায় ফুর্ভিক্ষ দেখা যায় । এই জেলার মধ্যে ফিওলা নামক স্থানে কাপড় এবং : রেশমের বস্থাদি গ্রন্থত হইয়া, বোম্বাই, পুণ, সাতার প্রভৃতি । [ १२ ] নাসিক স্থানে বিক্রয়ার্থ প্রেরিত হয়। নাসিকে তাম্র, পিত্তল ও রৌপ্য বাসনাদি প্রস্তুত হইয়া থাকে। এখন এই স্থানে রেলপথ হওয়ায় ব্যবসাবাণিজ্যের বিশেষ সুবিধা হইয়াছে । নাসিক মহকুমা নাসিক জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থিত। এখানকার ভূমি সাধারণতঃ বন্ধুর। পশ্চিমভাগ পৰ্ব্বতসঙ্কুল । দর্ণ উপত্যকার ভূমি অন্যান্ত স্থানাপেক্ষ নিম্ন ও উর্বরা । জলবায়ু নিতান্ত মন নহে । ২ নাসিক জেলার প্রধান নগর । অক্ষা ১৯° ৫৯ ৪৫ উঃ এবং দ্রাঘি ৭৬ ৪৯ ৫৯ পূৰ্ব্ব মধ্যে অবস্থিত। ঋতুভেদে নাসিকের লোকসংখ্যার ইতর বিশেষ লক্ষিত হয় । কারণ, সময় সময় বহুসংখ্যক তীর্থপর্য্যটক এখানে আসিয়া বাস করেন। মোটামুট ২৪,৪৫০ জন লোক এখানে অবস্থিতি করে । বহুদিন হইল, এখানে উৎকৃষ্ট কাগজ প্রস্তুত হইত, এক্ষণে ঐ ব্যবসা একটু মনীভূত হইয়াছে । পিত্তল এবং তাম্রের ব্যবসার জন্তু বোম্বাই প্রেসিডেন্সির মধ্যে নাসিক নগরই বিখ্যাত। এখানকার ভূতপূৰ্ব্ব পেশবার নূতন ও পুরাতন রাজভবনে মিউনিসিপালিট ও কালেক্টর আফিস স্থাপিত আছে। এই নগর বহুকালবোধ হিন্দুদিগের একটা প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান বলিয়া পরিগণিত। রামায়ণবর্ণিত পঞ্চবটী-বনও নাসিকের অতি সন্নিকটে গোদাবরীর অপরপারে অবস্থিত। কথিত আছে, সুর্য্যবংশাবতংস রামচন্দ্র পিতৃসত্য পালনজষ্ঠ জানকী ও লক্ষ্মণসহ এই নাসিকনগরে অবস্থিতি করেন, তৎকালে লক্ষ্মণ রাবণভগিনী শূৰ্পনখার নাসাকৰ্ণ ছেদন করেন । এথানকার গোদাবরী নদীর দৃপ্ত অতি মনোহর । বহুসংখ্যক হিন্দুমন্দির হিন্দু দেবদেবীর মূৰ্ত্তি ধারণ করিয়া গোদবরীর উভয়তীরে ধবলাকারে বিদ্যমান রহিয়াছে । ঐ সমস্ত দেবালয়ের মধ্যে পঞ্চবটীতে একট প্রস্তরময় মন্দিরে শ্রীরাম ও সীতাদেবীর মূৰ্ত্তি রহিয়াছে। ১৭৮২ খৃষ্টাব্দে রঙ্গরাও ওঢ়িকর ঐ মূৰ্ত্তি স্থাপন করেন। পঞ্চবটীতে রামেশ্বরমহাদেব নামে আর একটা মন্দির অাছে। পেশবা বালাজীবাঞ্জীরাওর নারশঙ্কররাজ বাহাদুর নামে এক প্রসিদ্ধ কৰ্ম্মচারী ১৭৫৪ খৃষ্টাকে ঐ মন্দির সম্ভবতঃ প্রতিষ্ঠা করেন। নাসিকে সুন্দরনারায়ণ নামক মন্দিরে লক্ষ্মী ও নারায়ণের প্রতিমূৰ্ত্তি খোদিত আছে। ইহার সম্মুখে রামকুণ্ড বা অস্তিবিলাতীর্থ। অপর একটা মন্দিরে লক্ষণমূৰ্ত্তি বিদ্যমান রহিয়াছে। একট গুহাভ্যন্তরে সীতাদেবীর প্রতিমূৰ্ত্তি খোদিত আছে, উহাকে সীতাগুহ কহে । এইরূপ বহুসংখ্যক দেবদেবীর মন্দিরে স্থানট পরিপূর্ণ। এখানে অনেক শিলালিপি পাওয়া গিয়াছে। এখানে কোঙ্কণস্থ বা চিত্তপীবন ব্রাহ্মণের সংখ্যাই অধিক । এই স্থান