পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিউটন আইজাক এখানে আসিয়া তিনি মনোনিবেশপুৰ্ব্বক এই সকল বিশ্বরের তথ্য অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন। এইরূপে তাছার মানসিক কল্পনা ১৬ বৎসরকাল তাহার অন্তর্নিবিষ্ট ছিল। পরে ১৬৮২ খৃষ্টাব্দে রমেল-সোসাইটর অধিবেশনে উপস্থিত হইয়। পিকার্ড সাহেব-অনুষ্ঠিত যাম্যোক্তররেখাংশের ( Arc of a meridian ) পরিমাণ অবগত হইয়া, তিনি পৃথিবীর ব্যাসাদ্ধের পরিমাণ নির্ণয় করেন । এই সময়ে তাহার পূর্বসঞ্চিত আকর্ষণ-শক্তি-প্রকরণ যাহা তিনি এতদিন ধরিয়া হৃদয়ে কল্পনা করিয়া আসিতেছেন, তাহী ক্রমশঃই পরিস্ফুট হইতে থাকে। ইহাতে তিনি এতই উত্তেজিত ও স্বায়বীয় দুর্বলতায় এতাদৃশ চঞ্চল হইয়াছিলেন যে, তিনি উক্ত গণনা সমাধা করিয়া উঠিতে পারেন নাই। ইহার পর বৎসরে তিনি কেন্দ্রাভিমুখিনী (centripetal) শক্তির সাহায্যে পদার্থসমূহের গতি নিরাকরণ করিয়া কএকট প্রবন্ধ লেখেন । ১৬৮৬ খৃষ্টাকো উহ। ডাঃ ভিনসেন্ট কর্তৃক রয়েল-সোসাইটতে প্রদত্ত হয় এবং বহু বাদানুবাদের পর স্থিরীকৃত হইয়। ১৬৮৭ খৃষ্টাব্দে তাহার কৃত “প্রিন্সিপিয়া”, নামক গ্রন্থে প্রথমে প্রকাশিত হয় । ইহার 'পর নিউটন সৌরজগতের প্রত্যেক অণু পরমাণুর পরস্পরের প্রতি আকুষ্টি এবং কোন বিশিষ্ট বস্তুর আকর্ষণে উহারা তাহাতে সংলগ্নভাবে স্থিত, এই বিষয়টা নির্দেশ করেন । ইহাই মাধ্যাকর্ষণশক্তি, যাহা বহুকাল পূৰ্ব্বে অন্মদেশীয় পণ্ডিতগণ স্থির করিয়া গিয়াছেন । [ মাধ্যাকর্ষণ দেথ । ] গ্ৰহগণের পরিচালনা দেখিবার জন্ত, নিউটন ১৬৭১ খৃষ্টাব্দে নিজ হস্তে একটী দূরবীক্ষণযন্ত্ৰ নিৰ্ম্মাণ করেন। ঐ যন্ত্রট অদ্যাপিও রয়েল-সোসাইটতে রক্ষিত আছে। ১৬৭২ খৃষ্টাব্দে তিনি উক্ত সভার সদস্ত নির্বাচিত হন। ১৬৮৮ খৃষ্টাব্দে তিনি শিক্ষাবিভাগের প্রতিনিধি হইয়া পার্লিমেণ্ট মহাসভায় আসন গ্রহণ করেন । এই সময়ের কিছুপরে তিনি বাৎসরিক ৬০০ পাউণ্ড বেতনে টঙ্কশালার প্রধানাধ্যক্ষের পদ পান। ১৬৯৯ খৃষ্টাব্দে তিনি পারি (Paris) নগরের রয়েল-একাডেমিঅফ-সায়েন্স’ সভার ফরেন-এসোসিয়েট এবং ১৭০৩ খৃষ্টাব্দে রয়েল-সোসাইটর প্রেসিডেন্ট হইয় তাহার মৃত্যু পর্যন্ত উক্ত | পদে সসন্মানে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৭০৫ খৃষ্টাব্দে ইংলণ্ডের মহারাজ্ঞী এনি (Queen Anne) তাহাকে ‘নাইট’ উপাধি দান করেন। ১৭২২ খৃষ্টাব্দে তিনি মৃত্র ও বাতরোগে আক্রান্ত হয়েন এক্স ১৭২৭ খৃষ্টাব্দে ৮৫ বৎসর বয়সে কেনিংষ্টন নগরে জীবলীলা সম্বরণ করেন। নিউটন সৰ্ব্বসমেত ১২থানি পুস্তক রচনা করেন । তন্মধ্যে প্রিন্সিপিয়া, অপটিক্স, এনালিসিস পার ইকোয়ে সানিস নিউমেরে টারমিনোরাম ইনফিনিটাস, এমেথড অফ X R. N. [ دباؤ ] নিউ-ফাউগুলগু ফ্লাকসন এবং এনালিসিস বাই ইন্‌ফিনাইট সিরিজ এবং বাইবেলের সংস্কারক দুইখানি গ্রন্থ প্রধান। তিনি যে সমস্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রবন্ধাবলী রয়েল-সোসাইটতে অর্পণ করেন, তাহাউক্ত সোসাইটীর কার্যবিবরণীর (Transactions) ৭ম হইতে ১১শ ভাগে সন্নিবিষ্ট আছে । নিউ-ফাউগুলগু, গ্রেটর্টনের অধিকৃত একটা দ্বীপ। আট লাণ্টিক মহাসাগরে অক্ষা” ৪৬° ৪০% হইতে ৫১° ৩৭° উঃ এবং দ্রাঘি” ৫২° ২৫ হইতে ৫৯• ১৫% পশ্চিম মধ্যে অবস্থিত। ১• • • খৃষ্টাব্দের পূৰ্ব্বে নরওয়ে দেশবাসীরা এই দ্বীপ প্রথম আবিষ্কার করেন। অতঃপর ১৪৯৭ খৃঃ অব্দে জন কাবট্‌ ( John Cabot ) ইহা পুনরাবিষ্কার করেন । এই স্থানে উপনিবেশ স্থাপন জন্ত সার জর্জ *insis (Sir George calvert ) ক একবার চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্য হন ; অবশেষে ১৬২৩ খৃঃ অন্ধে ঐ দ্বীপের দক্ষিণপূৰ্ব্বাংশে একটা উপনিবেশ স্থাপিত হয়। ক্রমে ক্রমে এখানে অপরাপর উপনিবেশ স্থাপিত হইয়াছে। এই দ্বীপের ক্ষেত্রফল ৬০,০০০ বর্গমাইল । অত্ৰত অধিবাসিদিগের মধ্যে অধিকাংশ লোকই মৎস্যজীবী । অতি অল্পসংখ্যক লোকেই চাষবাস করিয়া থাকে। সকলেই খৃষ্টধৰ্ম্মাবলম্বী, কতক প্রোটেষ্টাণ্ট (Protestant) ®* *$* (Roman Catholic) রোমান কাথলিক । আটলাণ্টিকের মধ্যে অবস্থিত এবং অধিকাংশ সময় বরফে আবৃত থাকায় এথানকার গ্রীষ্ম ঋতু অতি মনোরম ; এই সময়ে দিবস ও রজনী অত্যন্ত সুখজনক। সম্প্রতি এই দেশবাসিরা কৃষিকার্য্যে বিশেষ মনোযোগ দিয়াছে। গম, কলাই, যব, আলু প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে জন্মাইতেছে। স্থানীয় গধর্মেণ্ট নানাদেশ হইতে নানাবিধ শস্তের বীজ আমদানী করিতেছেন । কিন্তু মৎস্ত ধরাই দ্বীপবাসিদিগের প্রধান উপজীবিকা । তৈল ও চৰ্ম্মের নিমিত্ত মকর (Scals) ধরা হয়। তৈল প্রস্তুত করিবার নিমিত্ত কড় (cod) মৎস্তও ধরা হইয়া থাকে। বহুসংখ্যক লোক এই ব্যবসা দ্বারা জীবনযাত্রা নিৰ্ব্বাহ করিয়া থাকে। এখান হইতে প্রচুর সামন (Salmon) মৎস্য আমেরিক প্রভৃতি স্থানে রপ্তানি হইয়া থাকে । হরিণ, র্থেকৃশিয়াল ইত্যাদি পাওয়া যায়। নিউ-ফাউগুলণ্ডের রাজধানী সেন্টজমস ( St. Johns ) ঐ দ্বীপের দক্ষিণপূৰ্ব্বাংশে অক্ষা” ৪৭° ৩৩ উঃ, এবং দ্রাঘি” ৫২° ৪৩ পূঃ মধ্যে অবস্থিত। তথায় জলের কল ও গ্যাসের কল আছে এবং একটা বাণিজ্যগৃহ (Custom-house) frkfe করা হইয়াছে। উক্ত দ্বীপের দক্ষিণপূৰ্ব্বদিকের তীরভূমি অতি বিশাল,