বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বকোষ দ্বাবিংশ খণ্ড.djvu/৬৪৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

छ्भiश्न অবস্থা বর্ণনাতীত । তিনি তখনই ভক্তিপূর্ণন্ধদয়ে কুপপার্থে ভূমিষ্ট হইয়া ঈশ্বরকে শত সহস্র ধগুৰাদ প্রদান করিতে লাগিলেন এবং তাঁহার পর ষে সকল অনুচরেরা তাহার পশ্চাতে আসিতেছিল, তাহদের জন্য চৰ্ম্মপাত্রে জলপূর্ণ করিয়া তখনই পাঠাইয়া দিলেন । হুমায়ুনের অল্পচরগণের সহিত একজন বৃদ্ধ বণিক ও ছিলেন, তিনি তৃষ্ণায় নিতাস্ত কাতর হইয়। উত্থানশক্তিরহিত অবস্থায় বালির উপর পড়িয়াছিলেন । এই বণিকের পুত্র পিতার জীবনাশা ত্যাগ করিয়। তাছার পাশ্বে দাড়াইয়া ছিল ; ঐ ব্যক্তির নিকট হুমায়ুন পূৰ্ব্বে অনেক টাকা কঙ্গ লইয়া ছিলেন । বাদশাহ এই সুযোগে সেই ঋণদায় হইতে মুক্ত হইবার আশায় বলিলেন, “যদি তুমি আমার ঋণমুক্ত কর, তাছা হইলে তুমি যত জল চাও আমি দিতে পারি।” প্রত্যুম্বরে বণিৰূ বলেন, -এ অবস্থায় একপাত্র জল পৃথিবীৰ সমস্ত ধনরাশির অপেক্ষাও অধিক মূল্যবান । আমি বাদশাহের প্রস্তাৰে এখনি সন্মত হইলাম।” বাদশাহ তাহাকে পরিতৃপ্ত কয়িয় জলপান করাইলেন। ইহার পর পথে পুনৰ্ব্বার ভীষণ জলকষ্ট উপস্থিত হইয়াছিল ; কয়দিন পর্যন্ত কোথাও এক বিন্দু জল পাওয়া যার নাই, চতুর্থ দিবসে একস্থানে পুনরায় কয়ট জলপূর্ণ কুপ দেখিতে পাওয়া যায়, কিন্তু সে গুলি অত্যন্ত গভীর হওয়ায় ও সে সমস্ত স্থানে জল তুলিবার পাত্র বেশী না থাকায় জল তুলিতে কিছু বিলম্ব হইতে লাগিল। এদিকে সকলেই তখন জল পান করিবার জন্ত ব্যস্ত ; অবস্থা দেথিয়া ৰাদশাহ পূৰ্ব্ব হইতেই আদেশ প্রদান করিয়াছিলেন, যে জলের নিকট উপস্থিত হইলে তখনিই ঢঙ্কাবাস্ত হুইবেক, ঐ ঢঙ্কাশব্দানুসায়ে সকলে পালাক্রম একে একে কুপপাশ্বে গিয়া জলপান কল্পিবেক । কিন্তু সে সমর সে আদেশ কে শুনিবে ? জল উত্তোলিত হুইতে না হইতেই একেবারে বহুজন আসিয়া উপস্থিত হইল এবং আগ্রহাতিশয়ে কাড়াকড়ি করিতে দড়ি ছিড়িয়া জলপাত্র কুপমধ্যে পড়িয়া গেল, সেই সঙ্গে কয়েক জন তৃষ্ণাতুরও কুপসাৎ হইল। এই ঘটনায় সকলেই হাহাকার করিতে লাগিল ; কেহ কেহ অসহ যন্ত্রণায় কাতয় হইয়া জিহবা বাহির করিয়া তপ্ত বালুকারাশির উপর গড়াগড়ি যাইতে লাগিল । যাহার কুপমধ্যে পড়িয়ছিল, তাহারা মৃত্যুর ক্রোড়ে সকল যন্ত্রণায় হাত হইতে মুক্তি পাইল । এরূপ শোচনীয় অবস্থা দেখিয়া বাদশাহ নিতান্ত অধীর হইয়া উঠিলেন। এমন সময় অমরকোটের রাজা সাদরে বাদশাহকে আশ্রয় দিবার জন্ত র্তাহার পুত্রকে দূত স্বরূপ পাঠাইয়া দেন। হুমায়ুন তাহার আশ্রয়ে এক বৎসর কfল অতিবাহিত করেন। অমরকোটের রাঙ্গ তাহাকে সৈন্তসাহায্যও প্রদান করিয়াছিলেন। তিনি [ ৬৪৩ ] হুমায়ুন ঐ সৈন্ত লইয়া গিন্ধু প্রদেশ অধিকার কল্পিবায় জন্ত গমন করেন । যখন হুমায়ুন ঐ যুদ্ধযাত্রায় বহির্গত হন, তখন র্তাহার প্ৰিয়তম! মছিৰী হামিদ গৰ্ভবতী ছিলেন ; যুদ্ধযাত্রা করিবার দুই দিন পরে, যখন ইমায়ুন পুষ্করিণীতীরে অবস্থান করিতেছিলেন, সেই সময় তাহার পুত্রের জন্মসংবাদ প্রাপ্ত হন । এই পুত্রই জগদ্বিখ্যাত আকবর। এই আনন্দসংবাদশ্রবণে আমীর ওমরাহগণ সকলে একত্র হইলে হুমায়ুন জছোঁর নামে জনৈক অমুগত্ত ভৃত্যকে যে সকল দ্রব্য র্তাহার নিকটে ছিল, তাছা আনয়ন করিবার জন্ত আদেশ করিলেন । তাছার আদেশানুসারে জছোঁর দুইশত মুদ্র, এক দফা রৌপ্য অলঙ্কার ও দুটা কোযবদ্ধ করা আনয়ন করিল। বাদশাহ মুদ্র ও অলঙ্কারাদি সমস্ত ফিরাইয়া দিয়া কেবল কস্ত রাখগুটী গ্রহণ করিয়া এক খানি চীনদেশীয় পাত্রের উপর তাeা ভাঙ্গিয় তাহার দান গুলি সমবেত ওমরাহগণকে উপঢৌকন স্বরূপ প্রদান করিলেন এবং তঁtহাদের প্রতি চাহিয়া বলিলেন, “আমার পুত্রের জন্মোপলক্ষে আপনাদিগকে উপহার দিবার মত দ্রব্য কেবল মাত্র আমার এই কন্তুর অবশিষ্ট আছে । এই কম্ভরীৰ সুগন্ধ যেমন চতুর্দিষ্ট আমোদিত করিয়াছে, আশা করি আমার পুত্রের যশঃসৌরভে ও একদিন সমস্ত পৃথিবী এমনই পুলকিত হইবে।” এই যুদ্ধযাত্রাতেও কিন্তু হুমায়ুন কৃতকার্য হইতে পারেন নাই, অবস্থাবৈ গুণ্যে র্তাহfর নিতান্ত আত্মীয়গণ ও পর হইয়া যায়, ও নানারূপে অস্তৰ্ব্বিদ্রোহের জন্ত ব্যতিব্যস্ত হইয়। তিনি কান্দহারে পলায়ন করেন। ঐ সময়ে কানাহার তাহার কনিষ্ঠ ভ্রাত আঙ্করীর অধীন ছিল ; তিনি মধ্যম ভ্রাত কারাণের প্রতিনিধিরূপে রাজ্যশাসন করিতেছিলেন । আজ তাছারই স্বায়ে তাহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ভূতপূৰ্ব্ব ভারতসম্রাট আশ্রয় আশায় কাতর ভাবে উপস্থিত । কিন্তু আশ্চৰ্য্য মনুষ্য-হৃদয়, ততোধিক আশ্চর্যা মঙ্গুষ্যের তাগ্য-পরিবর্তন । আন্ময়ী তাহাকে আশ্রয় প্রদান করিতে সন্মত হইলেন না। বয়ং তাছাকে বিপদগ্ৰস্ত করিবার চেষ্ট৷ পাইতে লাগিলেন । আফগানিস্থান ও আর তাছার পক্ষে নিরাপদ নহে দেখিয় হুমায়ুন পারস্তে পলায়ন করেন ; কিন্তু বাইবার সময় আপনার প্রিয়তম পুত্র আকবরকে তাহার খুল্লতাতের আশ্রয়ে রাখিয়া যান । হুমায়ুন যৎকালে এইরূপ বাত্যাতাড়িত বৃক্ষপত্রের স্থায় নানাস্থানে নিরাশ্রয় ঘুড়িয়া বেড়াইতে ছিলেন, সেট সময়ের মধ্যে ভারতসাম্রাজ্যের অনেক পরিবর্তন ঘটে । শের শাহ দিল্লী জয় করিয়া ভারতসম্রাট হইয়াtছলেন একথা পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে । কিন্তু তাহার মৃত্যুর পর শীঘ্রই তাহার সেই বিস্তৃত সাম্রাজ্যের পতন ঘটিল । শের শাহের পুত্র সেলিম