পাতা:বিশ্বকোষ পঞ্চম খণ্ড.djvu/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* , গন্ধরুহ [ ૨૦ ] গন্ধৰ্ব্ব ও ঐধুসক মিশাইলে যত পরিমাণ দ্রব্য হয়, তাহাতে সেই পরিমাণ বালা ও দারুচিমি ধোগ করিবে । শ্ৰীবাস ও সঙ্গরস দিবে না, পরে সেই সকল দ্রব্য দ্বার স্বান জল প্রস্তুত করিবে । লোধ, উর্ণর, তগরপাছক, অগুরু, মুখ, প্রিয়ঙ্গু, যন ও পথ্য এই সকল দ্রব্যকে নবকোষ্ঠ কচ্ছপুট হইতে তিন তিনটী দ্রব্য সম্যকরূপে উদ্ধার করিয়া চন্দন ও শিলারস দুইভাগ, অৰ্দ্ধপরিমাণ গুক্তি, সিকি পরিমাণ শতপুপা, কটু হিস্কুল ও গুড় দিয়া ঘূপিত করিলে চৌরাশি প্রকার কেশর গন্ধ প্রস্তুত হয়। হরীতকীচুর্ণসংযুক্ত গোমূত্রে দস্তকাষ্ঠ ৭ দিন ভিজাইয়। রাথিয় গন্ধজলে নিক্ষেপ করিবে। এলাচী, দারুচিনি, তেজপাতা, মধু, মরিচ, নাগপুষ্প ও কুড় এই সকল দ্রব্য মিশ্রিত করিয়া পরিস্কার জলে কিছুকাল রাথিয়া দিলে গন্ধজল প্রস্তুত হয়। পরে জাতিফল, তেজপাত, এলাচি ও কৰ্পর যথাক্রমে চারি, দুই, এক ও তিনভাগ দ্বারা অবছুৰ্ণিত করিয়া স্বৰ্য্যকিরণে শুকাইবে । গন্ধযুক্ত দন্তকাষ্ঠ সেবন করিলে মুখের প্রসন্নতা, কাস্তি ও সৌগন্ধ বৃদ্ধি হয় এবং বাক্যও অতিশয় শ্রীতিমুখকর হইয়া থাকে । ( বৃহৎসংহিত। ৭৭ অ: ) গন্ধযুতি ( স্ত্রী ) নানাগ্রকার গন্ধদ্রব্যের একত্র মিশ্রণ। গন্ধরস (পুং ) গন্ধযুক্তে রসো ষষ্ঠ বহুত্রী। উপধাতুবিশেষ, বোল, চলিত কথায় ফুলসত্ত্ব বলে । ইহার পর্য্যায়—বোল, প্রাণ, পিও, গোপ, রস, গোস, পিগুগোস, শশ, গোসশশ, গান্ধীর, মসীবর্দ্ধন, বোলজ, গোপক । [ দ্বি } গন্ধশ্চ রসশ ইতরেতর দ্বন্দ্ব" । ২ গন্ধ ও রস । “দ্যায়োপেতং ব্রাহ্মণেভ্যে যদল্লং শ্রদ্ধাপুতং গন্ধরসোপপন্নম্।।” (ভারত ৫২৭।১১ ) গন্ধরসাঙ্গক ( পুং ) গন্ধরসেহিঙ্গে যস্য বহুব্রী ততঃ স্বার্থে কন । শ্ৰীবেষ্ট নামক গন্ধদ্রব্য। ( রাজনি" ) গন্ধরাজ (পুং ) গন্ধানাং গন্ধসারাণtং রাজা ৬তং ততঃ টছ ( রাজাহসথিভ্যষ্টচ। প। ৫৪৯১ ) ১ যুগের বৃক্ষ। ২ কণগুগগুলু। ৩ স্বনামখ্যাত পুষ্পবৃক্ষ, ইহার পুষ্প অতিশয় সুগন্ধি, গন্ধে দশদিক্‌ আমোদিত হয় । শ্বেতবর্ণ ১২টা দল ও ৬টা কেশরবিশিষ্ট। বসন্তকালে ও বর্ষাকালে প্রস্ফুটিত হয়। ইহার ফল নাই, ডাল রোপণ করিলে বাচিয়া থাকে। ৪ শ্রেষ্ঠগন্ধ । (ক্লী ) গন্ধেন রাজতে রাজ-অৰ্চ। ৫ চন্দন। ৬ জবাদি নামক গন্ধদ্রব্য । গন্ধরাজী (স্ত্রী ) গন্ধরাজ-স্ক্রিয়াং উীপূ। নর্থী নামক গন্ধদ্রব্য । গন্ধরাজ (পুং ) গন্ধেন রাজতে রাজ-ক্ষিপ। ধূপক, ধুনা । গন্ধরুহ! ( স্ত্রী ) বনমল্লিক, কাঠমল্লিকা ফুলগাছ। ইহার পৰ্যার মদয়ঞ্জী, মোদয়ন্তি, সরস্রব । ( রাজনি" ) গন্ধৰ্ব্ব (পুং ) গীঃ স্তুতিরূপ। গীতিরূপ বা বাচ। রশীন বা ধারয়তি ধু-ব । গে। শব্দস্ত চ গমদেশঃ । ১ ঘোটক । “রথং সংয়োজয়ামাম গন্ধৰ্ব্বৈর্হেমমালিভিঃ ” ( ভারত ৩১৬১২৩। ) ২ মুগবিশেষ, কস্তীমুগ ৩ অন্তরাভবসত্ত্ব । (৩৩১৩২) অমরের টীকাকার রায়মুকুটের মতে প্রাণীর মৃত্যু হইলে যতদিন পর্যন্ত অপর শরীর প্রাপ্ত না হয়, ততদিন পর্যন্ত একটা স্বগ্ন শরীর গ্রহণ করিয়া যাতনা অকুভব করে, এই অবস্থায় তাহাদিগকে অন্তরাভবসত্ত্ব বলে । টীকাকার রমানাথের মতে অন্তরীভবসত্ত্বের অর্থ গুপ্ত প্রাণী, তিনি উদাহরণ স্বরূপ বিরাটপর্বের “গন্ধধtঃ পতয়ে মম” এই বাক্যটা উদ্ধৃত করিয়াছেন । ৪ গ্রহবিশেষ, ইহার সময় পাইলে মনুষ্যশরীরে প্রবেশ করিয়া নানা রকমের অশাস্তির উৎপাদন করে । আর্য্যচিকিৎসক সুশ্রুত বলেন, যে কবিরাজ ক্ষত ও মাতুর রোগীকে নিশাচরদিগের হাত হইতে রক্ষা করিতে সৰ্ব্বদাই যত্ন করিবেন । রোগী ক্ষত হউক অার নাই হউক কোনরূপে অশুচি হইলে অথবা তাহা দিগের মর্যাদা রক্ষা না করিলে গ্ৰহগণ হিংসাভিলাষ পূরণ করিতে অথবা পূজা পাইবার আশায় রোগীকে আশ্রয় করিয়া নানা রকমের অশান্তি জন্মাইতে থাকে, যথানিয়মে তাহাদের পূজা কিম্ব উপযুক্ত ঔষধ সময় মত দিতে না পারলে রোগীকে মারিয়াও ফেলে । এইরূপ গ্রহ অসংখ্য, কিন্তু প্রধানতঃ ইহাদিগকে আটভাগে বিভক্ত করিতে পারা যায় । যথা—দেব, অমুর, গন্ধৰ্ব্ব, যক্ষ, পিতৃ, রক্ষ, ভূজঙ্গ ও পিশাচ । ইহাদিগের আবেশ হইলে রোগী ভূত ভবিষ্যৎ জানিতে পারে, তখন রোগীকে জিজ্ঞাসা করিলে সে বে কোন অতীত বা ভবিষ্যৎ গোপনীয় ঘটনা ঠিক বলিয়া দিতে পারে, তখন তাহার সহিষ্ণুতা একেবারেই বিলুপ্ত হইয়া যায়, যে সকল কাৰ্য্য মনুষ্যবুদ্ধির অগম্য কখনও মনুষ্য দ্বারা সম্পন্ন হইবার সম্ভব নাই, রোগী অনায়াসেই সেই সকল কার্য্য অনুষ্ঠান করিয়া দর্শকবৃন্দকে বিস্ময়াপন্ন ও আত্মীয় স্বজনকে ভয়বিহবল ও শোক কাতর করিয়া তোলে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক মতে যাহাই বলুন, প্রাচীনেরা কিন্তু এই অবস্থাকেই ভূতে পাওয়া বা গ্ৰহাবেশ বলিয়া থাকিতেন এবং গ্রহপূজাদি করিয়া রোগীকে প্রকৃতিস্ত করিতেও পারিতেন। দেয প্রভৃতি অপর অপর গ্ৰহগণের কথা তৎতৎ শবে দ্রষ্টব্য ] গন্ধৰ্ব্ব গ্রহের আবেশ হইলে রোগীর মন সৰ্ব্বদাই হৃষ্ট থাকে, নদীতীরে বা নির্জন বনে বেড়াইতে এবং শুদ্ধাচারে থাকিতে অভিলাষ জন্মে। এই অবস্থায় রোগী গন্ধ মাল্য ও -গীতে অতিশয় গ্ৰীতি প্রকাশ করে, সৰ্ব্বদাই হাস্য করিতে