পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অজার ছেন, পৃথিবীর সমুদয় বায়ুতে ৮১,০০,•••••••••••••• মণ অঙ্গারাম আছে। শুধু, কাঠ কয়লা প্রভৃতি পুড়িলেই অঙ্গারায় জন্মে না। সকল জস্তুর প্রশ্বাসের সঙ্গে এবং লোমকূপ দিয়া অষ্টপ্রহর ইহা বাহির হইয়া আসিতেছে। উদ্ভিদের এই বাষ্প নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। তাছাই ক্রমে কাঠ ও পাতায় পরিণত হয়। সকল রকম বাম্পের চেয়ে অঙ্গারায় বাষ্প অধিক ভারী। ইহার ভিতর আগুন জ্বলে না। অঙ্গারাম বাম্পের শিশির ভিতর জলন্ত পলিতা ফেলিয়া দিলে তখনি নিবিয়া যায় । তাই, কয়লার খনিতে আগুন লাগিলে তাহা নিবাইবার এমন সহজ উপায় আর নাই। খনির চারি দিকের পথ বন্ধ করিয়া তাহার ভিতর অঙ্গারাম প্রবেশ করাইলে তৎক্ষণাৎ আগুন নিবিয়া যায়। যেখানে আগুন জলে না, প্রাণশিখাও সেখানে জলিতে পারে না । অনেক দিনের পুরাতন কূপে অঙ্গরান্ন জন্মে। তাই সে প্রকার কূপে মানুষ নামিলে তখনি মরিয়া যায়। মধ্যে মধ্যে এই রূপ দুর্ঘটনার গল্প প্রায় সকলেই শুনিতে পান। সম্প্রতি চুচুড়ায় তিন চারি জন লোক একটা পুরাতন ইদারার ভিতর নামিয়া প্রাণ হারাইয়াছে । পুরাণ পাতকুয়া ঝালাইতে হইলে কিম্বা তাহার ভিতর ঘট বাট পড়িলে সহসা লোক নামাইবে না। প্রথমে লাষ্ঠনের ভিতর বাতী জালিয়া তাহা কুপের ভিতর ঝুলাইয়া দিৰে । জলের নিকট পর্য্যস্ত গেলেও যদ্যপি আলো জলিতে থাকে, তাহা হইলে বিপদের ভয় নাই। কিন্তু যদি হঠাৎ আলো নিবিয়া যায়, তবে সে কুপে মানুষ নামিলে মৃত্যু নিশ্চিত। একটা ছোট ঘরে অধিক লোক একত্র গুইলে বসিলে নানা প্রকার পীড়া জন্মে। চাই কি, সহসা মৃত্যুও ঘটিতে পারে। কলিকাতার অন্ধকূপের দুর্ঘটনার কথা আজি | কালি সকলেই পড়িয়াছেন। ১৭৫৭ খৃঃ অন্ধ ২১শে জুন, রাত্রিকাল। ঘরের ছাদ মাঠঘাট নদীর তট সকলি নীরব, নিস্তব্ধ । কোথাও বাতাস নাই---গাছের পাতাটীও নড়িতেছে না । পাতাল পর্য্যন্ত ফাটিয়া যাইতেছে, গ্রীষ্মে প্রাণ বাহির হইতেছে । নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার কৰ্ম্মচারীর ১৪৬ জন লোক একটা চোর কুঠারীতে বদ্ধ করিয়া রাখিলেন। পর দিন প্রাতে তন্মধ্যে কেবল ২৩ জন ব্যক্তি জীবিত ছিল। তাছাদেরও অনেকে শেষে জর রোগে প্রাণত্যাগ করে। আমাদের দেশের লোক श्राख्न হত্যা করিতে হইলে গলায় দড়ী দেয়, আফিম থায়— { [ ઝ8] आशांद्र তাহাতে কত কষ্ট পারিস মগরের লোক পণ্ডিত; তাই র্তাহারা অামাদের চেয়ে বেশ ভাল করিয়া মরিতে জানেন। আত্মহত্যা করিবার সাধ হইলে তাহার ঘরের ভিতর কয়লা জালিয়া শুইয়া থাকেন । দোক্ষ জানাল ঋদ্ধ, বাতাস খেলিতে পায়ন,—কাজেই অঙ্গারামের বিষে শীঘ্ৰ মৃত্যু ঘটে। তন্দ্ৰপ মৃত্যুতে একটুও কষ্টনাই। কয়েক বৎসর হইল আমোদপুর ষ্টেশনের জনৈক খালাসী আপনার স্ত্রীপুত্র লইয়া একটী ছোট ঘরে শয়ন করে। শীতকাল,—আংটায় গন্‌গল্‌ করিয়া কয়লা পুড়িতেছে, দ্বার রুদ্ধ। কিঞ্চিৎ কাল পরে তাহার একজন জাষ্ট্ৰীয় ব্যক্তি আসিয়া দেখে, সকলেই মরিয়া গিয়াছে। ১৮৭২ সালে সিমলা পাহাড়েও ঠিক এই প্রকার একট দুর্ঘটনা হইয়। ছিল। নেপিয়ার সাহেব কয়েক জন কুলি লইয়া উপর পৰ্ব্বতে বেড়াইতে যান। রাত্রিকাল, অত্যন্ত শীত ; মহিষের শিং কঁাপিয়া উঠিতেছে। কুলিরা আপনাদের তাম্বুর মধ্যে গৰ্ত্ত কাটিয়া তাহাতে কয়লা জালিল। গর্তের চারি ধারে লোক, গায়ে গায়ে লোক ; সকলে একত্র কাছা কাছি গুইয়া আছে। রাত্রিতে বরফ পড়িয়া তাম্বুর চতুদ্বার ঢাকিয়া ফেলিল, বাতাস থেলিবার কোথাও একটু পথ থাকিল না । সে জন্ত জলন্ত কয়লার অঙ্গারাম বিষে প্রায় সমস্ত কুলির মৃত্যু ঘটে; কেবল দ্বারের নিকটবর্তী দুইজন ব্যক্তি অনেক কষ্টে বাচিয়াছিল। বিলাতে আজি কালি অঙ্গারাম দ্বারা কুকুর মারা হইতেছে । মানুষ দয়ার সাগর। লাঠীর বাড়ীতে জীবহিংসা করিলে যেন অনেকটা কষ্ট হয় । কাজ পড়িলে হিংসা কর ক্ষতি নাই, কিন্তু তাহাতে মনুষ্যত্ব দেখান চাই । তজ্জন্ত কুকুর মারিতে হইলে তাহাদিগকে অঙ্গরীয় পূর্ণ একটা ঘরের ভিতর বদ্ধ করা হয় । বদ্ধ করিলে প্রথমে তাহার ঘুমাইয় পড়ে, শেষে কিঞ্চিৎ পরে মরিয়া যায়। এদেশে শীত কালে অনেকেই মালসায় আগুন সাজাইয়া রাখেন। স্থতিকাগৃহেও গুল ও কাঠ পোড়ানো হয় । কিন্তু ইহাতে পদে পদে বিঘ্ন ঘটিবার সম্ভাবনা । শয়নগুহে কমল নেবু, আম্র প্রভৃতি পাকা ফল এবং অধিক ফুল রাখাও আমুচিত। এই সকল দ্রব্য হইতেও অঙ্গারাম বাহির হয়, অতএব পীড়া বা হঠাৎ মৃত্যু ঘটিতে পারে। আগ্নেয় পৰ্ব্বতের নিকটবর্তী ভূগর্ত হইতে অঙ্গারাম নির্গত হয় । স্নবদ্বীপে উপাস নামে একটী উপত্যক". আছে । সেখানে দিবারাত্র মাটীর ভিতর হইতে মঙ্গলরায় উঠতেছে । সেই তীক্ষ বিষের প্রভাবে তাহার ।