পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/৩৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অন্তঃসত্ত্ব সচরাচর সহজ অবস্থায়, ৫ গ্রেণ সোডা বাইকার্ব । কিম্ব বিস্মথ ৫ গ্রেণ, শুঠ চূর্ণ২ গ্রেণ, সোড বাইকার্বত গ্রেণ একত্র মিশ্রিত করিয়া ভোজনের অব্যবহিত পূর্বে বা পরে সেবন করিবে। অথবা পেপসিন ৫ গ্রেণ ভোজনের পরে সেবন করিবে। কিম্বা জলমিশ্রিত হাইড়োসাএনিক এসিড ৩ বিন্দু। কিম্বা কুচিলার অরিষ্টত বিন্দু। ক্রিওজোট ৩ বিন্দু এবং গদের মও অৰ্দ্ধ ছটাক একত্র মিশ্রিত করিয়া এক মাত্র। কিম্ব আফিমের অরিষ্ট ৭ বিন্দু অল্প জলের সঙ্গে সেবন করাইবে । এই সকলের মধ্যে কোন কোন ঔষধে কিছু কিছু উপকার হইতে পারে। কোন কোন গর্ভধতী স্ত্রীলোক প্রাতঃকালে শয্য হইতে উঠিলেই বমন করিতে আরম্ভ করে । তেমন [ ৩০৭ ] স্থলে রোগিণীকে প্রথমে কিছু থাইতে দিবে। ভোজনের পরে শয্যা হইতে উঠিলে প্রায় বমনোদ্বেগ হয় না। বমন অনিবাৰ্য্য হইয়া পড়িলে লঘু পথ্য ব্যবস্থা করা চাই, এবং এক এক বারে কোন দ্রব্যই অধিক থাইতে দিবে না । অনেক স্থলে চৰ্ম্মের থোলের ভিতর বরফ পূরিয়া সেই থলে গর্ভিণীর মেরুদণ্ডে, কোটিদেশে এবং পাকস্থলীর উপর রাখিলে বমন নিবারণ হয় । আফিমের অরিষ্ট ৬০ বিন্দু, শীতল জল অৰ্দ্ধ সের একত্র মিশ্রিত করিয়া তাহাতে একখানি ছোট পাতলা কাপড় ভিজাহবে । সেই বস্ত্রখানি পাকস্থলীর উপর রাখিলে বমনোদ্রেক কমিতে পারে। কিন্তু পীড়া কঠিন হইলে এ সকল প্রক্রিয়ায় কিছুই ফল দশে না। তখন গর্ভস্রাব না করাইলে নিশ্চিত রোগিণীর মৃত্যু ঘটে। বিজ্ঞ চিকিৎসক ভিন্ন এই কঠিন কাজে অন্ত কাহারও হস্তক্ষেপ করা কৰ্ত্তব্য নহে । গর্তাবস্থায় অনেক স্ত্রীলোক পাতখোলা, সোদাগন্ধযুক্ত মাটী, চা-খড়ী, মরম পাথর প্রভৃতি নানা প্রকার কুখাদ্য খাইয়া থাকেন। সে জন্য সময়ে সময়ে পাণ্ডু রোগ এবং উদরাময় উপস্থিত হয়। উদরাময় ঘটিলে -. অসমরে প্রসববেদন এবং গর্ভস্রাবও হইতে পারে। অতএব অঙ্গীর্ণের লক্ষণ দেখিলেই আগে গর্ভবতী নারীর সুপথ্যের ব্যবস্থা করিয়া দিবে। পাতখোলা, মাটী প্রভৃতি অখাদ্য থাইতে দিবে না । কেহ কেহ বলেন যে, গর্ভাবস্থায় সহজেই উদরের মধ্যে অল্প সঞ্চয় হয়। খড়ী, পোড়ামাটা প্রভৃতি খাইলে সেই অল্প নষ্ট হইতে পারে। কিন্তু একথা যুক্তি সংঙ্গত নহে। উদরা : अरु3गड्। ময়ের চিকিৎসা, অগ্নিমান্য এবং অতিসার শবো দেখ । কোন কোন স্থলে গর্ভিণীর রক্তের লালকণা অতিশয় কমিয়া যায় এবং রক্তে জলাধিক্য হয়। সে জন্য দেহ দুৰ্ব্বল, সৰ্ব্বাঙ্গ নীয়ক্ত ও বিবর্ণ, ক্রমে হস্ত পদ ও মুখে শোথ উপস্থিত হয়। অনেক স্থলে প্রসবের পরে এই শোথ আরোগ্য হইয়া থাকে । কিন্তু স্নায়ু মণ্ডল এবং ফুসফুস বিকৃত হইলে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটে। ফসফরাস এবং লৌহ ও মুত্রকর দ্রব্যই এ অবস্থার উৎকৃষ্ট ঔষধ। কিন্তু গর্ভাবস্থায় অনেকে লৌহ ঘটিত ঔষধ দিতে ভয় করেন । তাহণদের মত এই যে, লোকঘটিত ঔষধ সেবন করাইলে গর্ভস্রাব হয়। এ কথা অমূলক নহে ; তবে, রোগিণী নিতান্ত দুৰ্ব্বল হইয় পড়িলে লৌহ ভিন্ন রোগনিবারণের প্রশস্ত উপায় আর কিছুই নাই। গর্ভবতীর এ প্রকার কঠিন উপসর্গ ঘটিলে বিজ্ঞচিকিৎসকের পরামর্শ লইবে । অনেক স্ত্রীলোকেরই অসময়ে গর্ভস্রাব জন্ত সস্তু:ন নষ্ট হইয়া যায় । কি শীতপ্রধান দেশ, কি গ্রীষ্ম প্রধান স্তান, সৰ্ব্বত্রই এই বিস্ত্র অতিশয় প্রবল । ধে সকল জাতির পূর্ণ যৌবনাবস্থায় বিবাহ হইয়া থাকে, তাছাদের মধ্যেও বিস্তর গর্ভস্রাব হয় । আবার, আমাদের হিন্দুদের মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রথা চলিত আছে ; অনেক বালিকা প্রায় ১৩ । ১৪ বৎসর বয়ঃক্রমেই গর্ভবতী হয়, তাঙ্গদের মধ্যেও গর্ভস্রাব কম নষ্ঠে । সচরাচর দেথা যায়, অনেকেরষ্ট প্রার প্রথম গর্ড রক্ষা পায় না । এ দিকে প্রৌঢ় কাল উপস্তিত হইলে ঋতু বন্ধ হইবার সময়, তখন ও অসময়ে বিস্তর স্ত্রীলোকের গর্ভ নষ্ট হইয়া থাকে । একবার গর্ভপাত হইলে এই বিস্ত্র পুনঃ পুন: ঘটিবার সম্ভাবনা । ডাক্তার হেগার স্থির করিরাষ্টেন যে, প্রায় ৮ । ১০ টর মধ্যে একটী গর্ভস্রাব হয় । ডাক্তার হোরাষ্টটহেডের মতে, শতকরা ৯০ জনের গর্ভস্রাব হইয়া থাকে। উপদংশ, স্ত্রীলোকের নানাপ্রকার যোনিরোগ, গর্ভাবস্থায় মরমাত্তিক শোক, প্রবল জর, ওলাউঠা, উদরাময়, স্থানিক আঘাত প্রভৃতি গর্ভস্রাবের প্রধান কায়ণ । গর্ভস্রাব হইবার পূৰ্ব্বে প্রথমে অল্প অল্প রক্তস্রাব হয়। কিঞ্চিৎ শোণিত নির্গত হইয়া আবার বন্ধ হইয়া যার। দুই তিন দিন পরে আবার রজঃ দেখা দেয় । ইহার সঙ্গে উদরে ও জঙ্ঘাতে বেদন থাকিলে কিছুতেই গর্ত রক্ষা করা যায় না। কিন্তু কেবল সীমান্ত বেদন is *