পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/৩৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অস্ত্ৰজ্বর থাকে। ১৩০, ১৪০ স্পন্দন অতিশয় কুলক্ষণ । মুস্থ অবস্থায় হৃৎপিণ্ডে ছুইটী শব্দ হইতেছে। হৃদয়ের প্রসারণ জন্য একটা শব্দ বড়, এবং হৃদয়ের আকুঞ্চন জন্ত আর একটা শব্দ ছোট । উৎকট জরাদি রোগে নাড়ী ক্ষীণ ও বেগবতী হইলে দ্বিতীয় শব্দ প্রায় শুনিতে পাওয়া যায় না। এই অবস্থায় মণিবন্ধে নাড়ীমান যন্ত্র (sphygmograph)লাগাইয়া নাড়ী পরীক্ষা করিলে ভূষলাগানে কাচে তিনট রেখা পড়ে। তন্মধ্যে একটা রেখা হেলিয়া উৰ্দ্ধ দিকে উঠে। এই রেখাট ক্ষুদ্র। আর একটী য়েখ৷ নিশ্নদিকে নামিয়া আসে। সেট অপেক্ষাকৃত বড় । এই রেখার পরে কিঞ্চিৎ স্থান কুঞ্চিত হইয়া যায়। নাড়ীর এ প্রকার আকৃতি কুলক্ষণের মধ্যে গণ্য। অস্ত্রজরে, পেটে ও বক্ষঃস্থলে গোলাপী রঙের এক প্রকার চিহ্ন বাহির হয়। দাগগুলি অল্প গোলাকার,কিঞ্চিৎ উচ,—হাত বুলাইলে বেশ স্পষ্ট জানিতে পারা যায়। এবং অঙ্গুলির অগ্রভাগ দিয়া অল্প টিপিয়া দিলে ক্ষণকালের নিমিত্ত মিলাইয়া যায়, তাহার পরেই আবার বাহির হয়। অনেক স্থলেই এই চিহ্নগুলি সাত দিন হইতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে প্রকাশিত হইয়া থাকে। আমাদের দেশে অস্ত্রজরের অন্তান্ত লক্ষণ স্পষ্ট রূপে প্রকাশিত হইলেও রক্তবর্ণ চিহ্ন কদাচিৎ দেখিতে পাওয়া যায়। ইউরোপে টাইফয়েড় জর অতিশয় প্রবল; কিন্তু সেখানেও সকলের গায়ে এই চিহ্ন বাহির হয় না । পরিপাক যন্ত্রের বিশৃঙ্খলাই এই জরের প্রধান লক্ষণ। পীড়া প্রকাশের পূর্ব হইতেই রোগী কিছুই থাইতে চায় না । যৎসামান্ত ভোজন করিলেও তাহা পরিপাক হয় না । কিন্তু ঠিক ইহার বিপরীত লক্ষণও কোন কোন স্থলে বিদ্যমান থাকে। রোগী অজ্ঞানাবস্থায় পড়িয়া থাকিলেও মুখে যাহা দিবে, তাহ খাইয় ফেলে, কিছুতেই ক্ষুধার নিবৃত্তি হর না। কিন্তু এ প্রকার লক্ষণ কচিৎ দেখা যায়। অনেক স্থলেই জিহ্বা শুষ্ক, ফাটা ফাট ও কণ্টকযুক্ত। কোথাও কৃষ্ণবর্ণ, কোথাও শ্বেতবর্ণ, কোথাও কটাবর্ণ লেপ দ্বারা উপরিভাগ ঢাকা থাকে। মুখে রসের লেশ মাত্র দেখা যায় না । রোগীকে জিহবা বাহির করিতে বলিলে অভ্যন্ত্যমনস্কতার জন্ত শীঘ্ৰ বাহির করিতে পারে না। আবার বাহির করিলেও শীঘ্র মুখের ভিতরে গুটাইয়া লইতে পারে না। কোন কোন অবস্থায় জিহব বাহির করিবার সময়ে উহা কঁাপিতে থাকে। উৎকট অবস্থায় কোন কোন রোগীর ওষ্ঠ কৃষ্ণবর্ণ [bg:] [ ৩৩৭ ] অন্ত্রজর হয় ও ফাটিয়া যায় এবং মাড়ী হইতে রক্ত পড়ে। দন্তও কৃষ্ণবর্ণ হইয়া আসে । প্রখর জরের সময়ে, কোথাও বা জরের শেষাবস্থায় এক দিকের, কোন স্থলে বা দুই দিকেরই কর্ণমূল ফুলিয়৷ উঠে। দুৰ্ব্বল রোগীর কর্ণমূল গ্রন্থি স্ফীত হইয়। পাকিয়া উঠিলে তাহা কঠিন লক্ষণ মধ্যে গণিতে হইবে । কারণ তাহাতে অধিক পূয় নিস্তৃত হইলে এবং ক্ষতস্থান পচিয়া গেলে রোগী ক্রমশঃ দুৰ্ব্বল হইয়া প্রাণত্যাগ করে । উদরাময় অন্ত্রজরের একট প্রধান লক্ষণ। প্রথমে দিনের মধ্যে দুই তিন বার তরল মল নির্গত হয় । পরে পুনঃ পুনঃ দুর্গন্ধ মল নিঃসরণ হইতে থাকে। মলের বর্ণ হরিদ্রার মত। কিন্তু হরিদ্রাবর্ণ হইলেও তাহাতে প্রায় পিত্ত থাকে না । একটী আধারে মল রাখিয়া দিলে নিয়ে অজীর্ণ দ্রব্য, ইপিথিলিয়ম কোষ এবং অন্ত্রের ক্ষত স্থানের গলিত পদার্থ আধারের নিয়ে দেখিতে পাওয়া যায়। অনেক স্থলে মল নিঃসরণের সময়ে রোগী কিছুই জানিতে পারে না । অচৈতষ্ঠাবস্থায় শয্যাতেই পুনঃ পুনঃ মল ত্যাগ করে। এই সকল উপসর্গের সঙ্গে উদর স্ফীত হইয়া উঠে। দক্ষিণ দিকের শ্ৰোণিপ্রদেশ টিপিলে গড় গড় শব্দ করে। অন্ত্র হইতে রক্তস্রাব এই জরের আয় একটা উৎকট লক্ষণ। কিন্তু ইহা সকল স্থলে ঘটে না । কোন কোন চিকিৎসক বলেন যে, অল্প পরিমাণে রক্তস্রাব হইলে জরের বিয শরীয় হইতে বাহির হইয়া যায়, অতএব ইহা সুলক্ষণ বলিতে হইবে। কিন্তু একখা সকলে যুক্তিসঙ্গত বিবেচনা করেন না। না করিবার কারণ এই, মংসামান্ত রক্তস্রাবের পরেও অনেক ব্যক্তি দুৰ্ব্বল ও হিমাঙ্গ হইয়া প্রাণত্যাগ করিয়াছে । হিন্ধা মহা কষ্টকর উপসর্গ। টাইফয়েড় জরে এই উপসর্গ অনেক রোগীর হইয়া থাকে। বিশেষতঃ, অস্ত্রে । ছিদ্র হইবার পূৰ্ব্বে সকলেরই হিকা হয়। এই পীড়ায় কখন কখন ক্ষুদ্রান্ত্রে ছিদ্র হইয়া থাকে। জরের শেষ অবস্থাতেই এই কঠিন উপসর্গ ঘটিবার অধিক সম্ভাবনা । কিন্তু আরোগ্যের সময়েও ৰুচিৎ অন্ত্রে ছিদ্র হইতে দেখা গিয়াছে। তজ্জন্ত অন্ত্ৰজর হইতে আরোগ্যলাভ করিলেও রোগীকে অনেক দিন পর্য্যস্ত কঠিন দ্রব্য থাইতে দিবে না। কঠিন দ্রব্য ভোজন করিলে তাহার উত্তেজনায় অন্ত্রে অকস্মাৎ ছিদ্র হইতে পারে। ছিদ্র হইলে তাহার ভিতর দিয়া বিষ্ঠাদি পেয়ি